দুপুরে অসাবধানে ঘুমিয়ে পড়েছিলে । ঘুম ভাঙলো যখন, খুচরো পয়সার মত বিকেল ছড়িয়ে রয়েছে বিছানায় । তার কয়েকটি আবার অচল'ও ...কুড়িয়ে রাখছ পরম যত্নে । এরইমধ্যে বৃষ্টি ডেকে গ্যাছে বেশ কয়েকবার । তোমার শোনা হয়'নি । তোমার দেখা হয়'নি মেঘের আলোয়ান গায়ে ঘরফেরতা শহরতলির মুখ । প্রায়ই এমন হতে হতে চারপাশটা অচেনা হয়ে উঠছে ক্রমে । কলিং বেল ,এঁটো বাসন, আবাসনের খুঁটিনাটি ...এসব উটকো অতিথিদের বিদায় জানিয়ে হাঁপ ছাড়লে অবশেষে ।
চায়ের কাপে সুগার-ফ্রী গুলতে গুলতে জানলার কাচে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে চাইলে তুমি...ঠোঁটের বাঁ পাশের ফোসকা ছুঁয়ে আকাশের জ্বর মেপে নিলে অভ্যেসমত । সময় তবুও তোমার সাথে কথা বলছে না l কয়েক পা এগিয়ে যাওয়ার গর্বে পেছন ফিরে দেখছে তোমায় ...কথা বলছে না । তোমার দৃষ্টি স্থির তবু তারই দিকে । তোমার দৃষ্টি শূন্য...তোমার সময় রোজ শূন্য থেকে শুরু হয়...
দিগন্তের পায়ে আলতা বুলিয়ে গ্যাছে গোধূলি রঙের মেয়েটি । তোমারও হাতের কাজ হালকা হয়ে এসেছে এতক্ষণে । পাশাপাশি বাড়ির পর্দা সরিয়ে গল্প বলতে বসেছে প্রাইমটাইম সিরিয়ালগুলি । এদিকে তোমার টিভি রিমোট আলগোছে পড়ে থাকে চশমার পাশে চিরাচরিত ব্রেকিং নিউসের অপেক্ষায় । বর্ষাকালীন প্রতিশ্রতি অনুযায়ী আরেকবার রাস্তার ঘর ভাসে । ভেপার ল্যাম্পের মুখোমুখি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে মেঘেদের কান্না । কবিতা বোঝাই গাড়ি পেরিয়ে যায় সামনের রাস্তায়...কাদায় কাদায় উঠে আসে সোঁদা গন্ধের পঙক্তিমালা ।
ক্রসিংয়ের লালবাতি জ্বলে আছে অনেক্ষণ । একটানা সাইরেন বেজে চলেছে । ট্রেন চলে গ্যাছে কয়েকমুহূর্ত আগেই; তবুও...ক্রমে ভীড় বাড়ছে রেললাইনের কাছাকাছি । চার তলার ব্যালকনি থেকে সবটুকু দেখা যায় ভেবে তুমি ঝুঁকে পড়লে খানিকটা । হাওয়ায় খবর দিলো..." কিছু'না ."...সত্যিই কিছু না, দুএকটা জোনাকি হঠাৎ নিভে গেলে আলোর অভাব হয়'না তেমন...এবার'ও হল না
মরচেরঙ কার্ণিশে হাত রেখে তোমার চোখ বুজে আসে অযথাই । জলের আলাপ ছাপিয়ে প্রকট হয়ে ওঠে অন্ধকারের দীর্ঘশ্বাস । আধখাওয়া চাঁদের পিঠে সওয়ার রাত্রি নেমে আসে তোমার বুকের উপর ...বুড়ো বটের ডালে আটকে ঝুলে থাকে তার কবেকার বর্ষাতি । এ শহর ভিজবে বলে একে একে বন্ধ হয়ে আসে বাসস্টপদোকানবাজার । তুমি স্মার্টফোনের আলো জ্বেলে খুঁজতে থাকো পরিচিত প্রোফাইল...বিস্মৃত নাম এবং অশ্রুত কবিতাদের ।
---------
২৪ জুন'২০১৮
মন্তব্যসমূহ