প্রিয় উপশম, কালভার্ট পেরোলো বাস। ভাঙাচোরা রেলিঙ পাশ কাটিয়ে। ওই বড় পাথরের আড়াল থেকে ধোঁয়ার ক্লান্ত কুন্ডলী ভেসে আসছে। ভাঙা হাঁড়ি, পোড়া কাঠ ...আজ কার শেষযাত্রার সাথে আমার দীর্ঘশ্বাস মিশে গেল জানা হলো না। বাস এতক্ষণে সেগুনের বনে। সারি সারি বাধ্য, বধ্য গাছ ছায়া মেখে দাঁড়িয়ে আছে। জানো, এই দুমাসে কতবার ভেবেছি তোমায় ডেকে এনে এ ছায়াবাজি দেখাই। তখন এখানে পলাশ ফুটছে। আলোরঙ পলাশ ! ছবি তুলে তোমায় পাঠানো যেত...করিনি তা। আলোকে কি বেঁধে রাখা যায় ! নাকি বাঁধা উচিত, বলো? গ্রামের ভেতর দিয়ে ফিরি রোজ। বর্ধিষ্ণু পাড়া। নিকোনো উঠোন, বাঁধানো পুকুর ঘাট, আটচালা ...এসব স্বপ্ন সেজে চোখে লেগে থাকে। রাত্রে ঘুমঘোরে কে যেন তুলসিতলায় প্রদীপ রেখে যায় ...আলতা পায়ের ছাপ। তোমায় স্পষ্ট দেখি উঠোনআলোয়। কাঁপা কাঁপা আগুনের ঠোঁটে আঙুল বোলাও। ভোরের পর তুমি ঘুমিয়ে গেলে আমার অনন্ত অবসর। তোমায় ঘুমোতে দেখা ছাড়া কোন কাজ থাকেনা আর। মেঘের সাথে আরজন্মের হিসেব বুঝতে বুঝতেই বেলা নেমে আসে। আমি তখন একমনে ঘর সংসার সারি, ছেলে পড়াই...হাত পুড়িয়ে উনুন জ্বালাই আর ভাবি, দূরে কোথাও অনেকটা দূর, বরফবাগিচার মাঝে আমা...