সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জুন ৬, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মেয়েবেলারা

আজকাল বিকেলের কাছে গুটিগুটি এসে বসে মেয়েবেলা l দূরে রথের দড়িতে টান পড়লে আকাশের মুখভার হয়ে ওঠে নিমেষেই l নাহ্ ..সময়ের আর মেলায় ফেরা হয়'না l কাদা পায়ে রেখে আসা হয়'না বয়ঃসন্ধির ছাপ l বাদাম ভাজার গন্ধে যাবতীয় চাওয়া পাওয়া খুঁজে নেওয়া আঙ্গুলের ফাঁক দিয়েই এখন  অনায়াসে গলে যায় একেকটি মেঘমাস l নির্লিপ্ততা যাপন করে আষাঢ়ের দিন  l আজীবন নাগরদোলায় অনাশক্ত চোখগুলোকে প্রাণপণে ফিরিয়ে নিই আলোর দিকে ,কোলাহলের দিকে ,মাটির পুতুলের দিকে ..এখনও মনে মনেই l অথচ ছুঁয়ে দেখা হয়'না আর রঙবেরঙের কাগজ ফুল l আলোর পোকারা ভীড় করে থাকে পাঁপড়ি চাটের আশেপাশে আজ'ও ,শুধু আমাকেই বড় অচেনা লাগে তাদের l সঙ্গে আনা লিস্টের সাথে মিলিয়ে মিলিয়ে বই কেনার বিকেলগুলো অযথাই খরচ হয়ে গেছে জেনে ফিরে আসে শব্দের খুচরোরা l আমায় নতুন বইয়ের গন্ধ চেনাতে হঠাৎ বৃষ্টি বোঝাই করে হেঁটে আসে নীল লুঙ্গি ,চওড়া বুকের ফেরিওয়ালা  l উঠোন ভর্তি ছড়িয়ে থাকে মেলায় যাওয়ার বায়নাগুলি ....মেয়েবেলারা পায়ে পায়ে উঠে যায় সিঁড়ি বেয়ে l কার্ণিশের কাছাকাছি এসে আটকে থাকে ছেঁড়া ঘুড়ি l ওর গায়ে লাল পাহাড়ের গল্প লেখা থাকে l শেষ বিকেলের ...

অসুখের নাম মেঘ

১ মেঘমন ছেড়ে আসে নগরবিলাস নির্বাসন যতটুকু লিখে রাখা হাতের মুঠোয় তার চেয়েও বেশি কিছু এ অজ্ঞাতবাস অচেনা গন্ধ বড় এখানের জলের সুতোয় জানলার শিঁক ক'টা পাশে রেখে বাইরে শালিখের আশরীর ভিজে যাওয়া দেখি। বৃষ্টির ছন্দ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখি  প্রাণপণ। অথচ মেঘের গর্জনের মধ্যেও নির্ভুল অন্ত্যমিল খুঁজে ফিরি নিয়ত। হাতঘড়ি'তে কাঁটা'দের নিজস্ব গল্পচরিত থমকাবার নয় ...অথচ আমার ভূমিকাগুলোই বর্ষার জল পেয়ে মিইয়ে ওঠে বড়। লেন্সকার্টের ফ্রেম ফেলে এসেছি শহুরে রেস্তোরাঁয়। জীবনের এ আউলবাউল ফ্রেমেই বাকি আর আর ফেলে আসার গল্প পড়তে হয় কার্যত। ফোর্থ পিরিয়ড চোখ কচলে উঠেই  মিড ডে মিলের পেয়ালা সাজায়। শুক্রবারের খিচুড়ির ভাপে ঝাপসা হয়ে আসা চোখগুলো থেকে রাশি রাশি স্বপ্নকুয়াশা ঝরে পড়ে। আমি কি কেবল বিষাদই লিখতে জানি - নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করি। উত্তরে আপেক্ষিকতাবাদ শোনায় হাঁসের চোখ। দুদিনের একটানা বৃষ্টি প্রসাদে জমির গর্ভমাস ঘোষণা হয়ে যায় আনুষ্ঠানিক ভাবে। এদিকে বাতাসের তুমুল ব্যস্ততার আমি শরিক হতে পারিনি আজও। আমি ধানের হাসি দেখিনি এযাবৎ। মাটির কান্না চোখে পড়েনি কখনও। ''ভালো ...

আতিথেয়তা ও শীতকাল

১ সেদিনও নবান্ন ছিল। দুধসাদা আতপের ঘ্রাণ নিকোনো উঠোন আর আলপনা মাটির সরায় ধূসর শীতের সাথে বোঝাপড়া সয়েছে। রয়েছে ধানের আলোর কোলে মাথা রেখে জমিয়েছে জল মলমাস শেষ হল? ফিকে হয়ে এসেছে হলুদ আরবার রঙ দিয়ো। রঙ ছাড়া অপেক্ষা বাঁচে না ২ সেসব লোডশেডিং, আধখাওয়া চাঁদের কাছে হাঁটুমুড়ে বসে থাকা। তারাদের উপকথা বেয়ে  তখনও নামতো নীল। মাকড়শার জালে আটকে  শেষ হতে হতে ফের জ্বলে ওঠা। কাওকে না বলে এমনি বেহায়া সিঁড়ি থেমে যেত। চিলেকোঠা একা লোডশেডিং সেসব, রঙিন ছায়ার সমারোহ ৩ আমাকে উঠোনে ফেলে উঠে গেছে ও বাড়ির সিঁড়ি কলতলা বাঁয়ে রেখে চুপিচুপি সরেছে বয়স আমার পায়ের থেকে বটগাছ দুহাত দূরেই-  এখন অনেক বড়। ঝুরি বেয়ে ওঠে নামে স্মৃতি কোথা থেকে জল আসে, পিছুটান ধুয়ে ধুয়ে শেষে  পিছল শ্যাওলা আর একমুঠো ঘাস রেখে যায় ৪ ঠিকানা লিখতে বসি। সহজ যদিও চিঠি লেখা - প্রতিবার ভুল হয়, খাম থেকে চোখ তুলে আনি লাল ধুলো মনে পড়ে, বালিহাস, দুচারটে নামও অনায়াসে বলে দিই অথচ বাড়ির মেঠোপথ ঠিকানা লিখতে বসে সদর দরজা ঢেকে যায় নামের আখর খুঁজি, নেমপ্লেট ভেঙে পড়ে থাকে ৫ পিছল পাথর আর পাতায় মেশানো যত জল নীল হয়ে আছে মেঘ। ...

আখরে জলের দাগ

১ আমাকে রেখেছ সেই বাতিলের খাতার ভিতর চুপচাপ বসে থাকি, প্রতিবেশী মিশুকে বড়ই  তোমার কথাই হয়, তারপর খাওয়া দাওয়া  একদিন বলে দেব তালাচাবি লুকোনো কোথায় ২ এমনি নামতে শেখা। বিলাসিতা থাকেনা পতনে  মাটিতে পায়ের ক্ষত, পাথরের ঘষা দাগ গায়ে  অধরা জলের রেখা। কোনপথে তারপর গতি তোমাকে হয়'নি বলা এখানেও চাষাবাদ হয় ৩ গুছিয়ে রেখেছ ফুল। ভাসানের দিন বুঝি আজ ইতুর চোখের জল, অবিকল এঁকেছে পটুয়া বিকেল নিভছে ঘাটে। এইবেলা ফিরে যেতে চাও আঁচল সামলে রেখো, কিছু জল পটুয়া আঁকে না ৪ আলোহীন এই রাত, সর্বগ্রাসী চাঁদনী যদিও  কোথায় পেতেছ চোখ? কলঙ্ক তো বলতে শেখেনি  জানালা ফুরিয়ে এল। কতটা তফাতে জোনাকিরা ফিরে এসো অজুহাতে। কিছু কালো ঘুমের ওষুধ ৫ একরঙা পাঁজা ইট, কোনও এককালে ছিল ঘর বটের ঝুরির নিচে বিকেলের বৈঠকী আজান দুয়ারে আতপ গান, আলপনা খুঁটে খায় ঘুঘু  ধানের পালুই বেয়ে বাস্তুশাপ ওঠে আর নামে ৬ যেকথা বলতে আসা, এ শহরে বসতি নতুন সাজানো আলোর পাশে মুঠোমুঠো খই দেখি রোজ ছড়িয়েছি আমিও তো, মিছিলের শেষভাগে এসে প্রতিবার ঝান্ডা ফেলে চলে যাব চলে যাব ভাবি ৭ ঘোরের মতই য...