সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জুন ২২, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বিশ্বাস

নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে, টুকরো টুকরো হয়ে যখন তোমার কাছে পৌঁছলাম তোমার হাতে তখন চিত্তশুদ্ধির প্রসাদ তখনও আমার পেছনে ধাওয়া করছে একটা ট্রাফিক সিগন্যাল, ঘিঞ্জি গলি, টিনের চালা ছেড়া পর্দার পেছনে চকচকে কিছু সস্তার শাড়ি আর পাঁচ পয়সার নাকছবি কাচের চুড়িগুলো মুখর শাপ-শাপান্তে ঢিল ছুঁড়ছে কিছু নেশাতুর লিঙ্গ আমার ঠোঁট ফোলানো অভিমানেরা তোমার চিবুক ছোঁয়নি তখনও শুধু বিস্ময়ে দেখেছে তোমার কপালোর স্বস্তিক রক্তক্ষয়ী অলিন্দে যাপন করেছে তোমার নির্লিপ্ততা তোমার গেরুয়া অহং বারবার ছুঁয়ে গেছে নীল ক্ষতদের অথচ শুশ্রূষা চেয়েছিল তারা সতীত্ব তো কবেই দেখেছ নিলাম হতে তুমি সেদিন মাছের বাজারে বেড়াতে আসা একমাত্র নিরামিষাশী সাবধানে ডিঙিয়ে গেলে পচা মাছের রক্ত ধোওয়া জল আজ নারীত্বকে আছড়ে মেরেছি তোমার চরণপদ্মে খাবি খাচ্ছে সে-ও তোমার মন্দিরের সামনেই দুটো রাস্তা বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মিশে গেছে ইলেকট্রিক চুল্লির মুখে এসে তবু বিশ্বাসটুকু নিয়েই ফিরতে চাই অবিশ্বাসে তোমার সাথে পাশের পাড়ার মন্টুর কোনও পার্থক্য দেখিনি আজ

সহজপাঠের দেশে - পর্ব ১

প্রথম পর্ব - পুনর্জন্ম জৈষ্ঠ্য মাসের এক অতিসাধারণ সংক্রান্তির কথা। সে বছর মাঝারিরকমের বর্ষায় ঝিঝিঁ-ডাকা সকালটুকু বেশ মনে পড়ে। আবছা, অন্ধকার। তার ফ্যাকাসে ত্বকে প্রাথমিক ভাবে কেবল হালকা জলের পোচ মেরেছেন যেন কোনও বিষণ্ন চিত্রকর। তারপর ক্যানভাস ফেলে ফিরে গেছেন জানালার পাশে। ধরা যাক সেই জানালাতেই আরও একটি আধ-খাপচা ক্যানভাস পড়ে আছে। বহু আগে তাতে রঙ পড়েছিল। চিত্র অসমাপ্ত তবু শিল্পীর আর আঁকবার সাধ হয়নি এতদিন। হঠাৎ কীসের খেয়ালে তাঁর চোখ পড়ল শুকিয়ে ওঠা ক্যানভাসটির দিকে। স্থানে স্থানে ধুলোর পরত। দয়া হল কি তাঁর? তিনি ধুলো ঝেড়ে প্যালেট হাতে মুখোমুখি বসলেন। আলগোছে তুলে নিলেন '391 sap green'... এই সামান্য ঘটনাকে যদি পুনর্জন্ম বলা যায়, সেদিন ৩১ শে জ্যৈষ্ঠ' ১৪১৭ ( ইং ১৪ই জুন'২০১০, সোমবার) - ক্যানভাসটির অর্থাৎ কি না আমার পুনর্জন্ম। এবার চিত্র, সে তো নিজে জানে না কালে কালে তার গতিবিধি কীভাবে পাল্টাবে। যদ্দুর মনে হয়, চিত্রকর-ও খুব সীমিতই জানেন। আজ ঠিক দশ বছর পরে যখন সেই পরিবর্তনের কথা লিখতে বসেছি, খানিক রোমাঞ্চিত হতে হচ্ছে। জ্ঞানাবধি যা ছিলাম-  অনেকখানি লাল, দু-তিন...

সহজপাঠের দেশে - ভূমিকা

আদ্যোপান্ত একটি কর্পোরেট জীবন চেয়েছিলাম একসময়। তারপর ভাগ্যচক্রে তা আর হয়ে ওঠেনি। এ নিয়ে নিজেকে দোষারোপও কম করিনি। এখন ভাবি অভিশপ্ত পলাশজন্মের মতো আমারও এই দ্বিতীয় জন্ম একদিকে যেমন অনেকটাই কেড়ে নিয়েছে আমার থেকে,উল্টো পিঠে কত কিছুই না দেখার সুযোগ করে দিল। এই যে রোজ ইস্কুলে যাই, বাচ্চাগুলির ফুলের মতো মুখগুলি দেখি। এত সারল্য, এত আন্তরিকতা আর কোথায়ই বা পেতাম! এই বাঁকুড়ার লালমাটি, বৃষ্টি ভেজা শাল,সেগুনের বন, বাঁকুড়া-ছাতনা জাতীয় সড়কের (NH314 সম্ভবত) দুপাশে রাধাচূড়া,কৃষ্ণচূড়ার বস্তি, বনদপ্তরের জঙ্গলে কাজুবাদামের মেলা,আর মাতাল করা মহুয়ার ঘ্রাণ- এসব না ছুঁতে পারলে বুঝি আমার কিছুই লেখা হত না। চন্ডীদাসের ভিটে দেখা হত না,দেখা হত না যুবরাজের হতশ্রী প্রাসাদের পাশে শাপলা ভরা দীঘিটিকেও। শুশুনিয়াকে ডানদিকে রেখে যে রাস্তা ঢুকে গেছে আমার রোজনামচায়,সেই ছাতনা-কেঞ্জাকুড়া রোডের পলাশবন আমার বসন্তদিনের সফরসঙ্গী না হলে সারাটা বছর কার পথ চেয়ে থাকতাম জানি না। যেমন এখানে আসার আগে পর্যন্তও জানতাম না পলাশ দেখলে আমার কান্না কেন পায়। এবছর দেরি করে এসেছে সে। গাছ ভর্তি পলাশ দেখা হয়নি আর। তার আগেই ...

বৃষ্টিফোঁটা ৭

দিগন্তে রঙ নিম্নচাপের, আকাশ ধোওয়া জলে আষাঢ়-ও আজ স্মৃতিপ্রবণ ।  আবছা মফস্বলের বর্ষা তবে একলাটি যায়, একলাটি ফের আসে মাঠে, কাদায়, গলির মোড়ে, লোকাল বাসে বাসে আমার-ও আজ ব্যস্ত সময় । শহর বদলেছে ফেরা তো আর হয় না তেমন মফস্বলের কাছে উইন্ডো সিট একই আছে, এখন অন্যকারও ভাঙা কাচের গল্প সাজায়, বৃষ্টিফোঁটার-ও দিনের পরে দিন গিয়েছে সহজে, অভ্যেসে সে রূপকথা ফুরোয়নি আর হৃদয়পুরে এসে . . . ফুরোয়নি না? বোধয় কিছু রয়েই গ্যাছে তবে বৃষ্টিফোঁটা, তোমায় আমায় আবার দ্যাখা হবে ? হয়ত কোনও লোকাল বাসেই আপাদমস্তক বৃষ্টিভিজে উঠলে এসে । আমার গ্রীষ্মপোড়া চোখ তখনও ঠিক 'দোজখনামা'য় । কিছুই দেখিনি তো! পাতার ভাঁজে শ্বাস জমিয়ে রাখছি অবিরত ঠিক যেরকম তোমার আমার প্রথম সাক্ষাতে থমকে ছিল জলের ট্রাফিক রাস্তাতে রাস্তাতে সে মোড় থেকেই মেঘের মিছিল, বিদ্রোহদের নাম খুঁজতে খুঁজতে বৃষ্টিফোঁটা, তোমায় হারালাম আর কি পাবো ! আর কি কোথাও অসম্ভবের মাঝে পড়ব তোমায়, চিনবো আবার আন্দাজে আন্দাজে ভাবছি এসব । এই শহরে অন্য রঙের জল অন্য আলো, গল্পগুলো-ও অশান্ত, চঞ্চল বদলেছে কাচ স্বপ্ন দেখার, জানলা এবং পথ-ও তবুও এই আষাঢ়-বিকেল ঠিক সে...

বৃষ্টিফোঁটা ৬

পলাশ ধোওয়া বৃষ্টি যখন ছিলই পূর্বাভাস দাবি মতন উইন্ডো সিট আর বিকেল ফেরত বাস এবারও কাচ হয়নি টানা । বার্তা এল জলের বসন্ত-রঙ মেঘবালকের ঝাপসা মফঃস্বলে সেই সে কবে, শ্রাবণ বোধ'য় । লেখার কথা ছিল হাওয়ার চিঠি, জলের পদ্য । আলোর অন্ত্যমিল-ও লিখব ভেবেও হয়নি লেখা । এমনই অভ্যেস তোমায় আবার পড়তে আসা, ফ্রেব্রুয়ারীর শেষ পাতলা চাদর । বিষ্ণুপুরী? মানিয়েছে একঘর সঙ্গে কে ও, শান্ত যুবক । ওই কি তোমার বর আমিও যেমন, খোঁজ রাখিনি । লগ্ন গেল কত স্বভাবতই বদলেছে ঘর । সত্যিই বিবাহিত? প্রবোধ জোগাই বন্ধু সে জন । কিংবা প্রেমিক। ভালো বৃষ্টি আসার আগের মতোই বিদ্যুৎ চমকালো আলোর রেখায় পড়তে পাওয়া স্পষ্ট ও ঠোঁট, চোখ এর বেশি কী চাইবে বলো ব্যর্থ মেঘবালক এবং শুধু বলতে চাওয়া ," জানতে পেরেছিলে- বৃষ্টিফোঁটা, ঠায় দাঁড়িয়ে বিরানা ম্যাহফিলে যে ছেলেটি তোমার নামের স্বপ্ন কুড়োয়, আঁকে একটি দিনের জন্য হলেও বন্ধু কোরো তাকে" কখন কীসব নাম রেখেছি, বলব ভাবি যেই বাস থেমেছে বাঁক পেরিয়ে তোমার পাড়াতেই  ঠিক তখনই ঝমঝমিয়ে, এমনি বেয়াদব ছাতা-ও তো আর নাওনি সাথে । ভিজিয়ে দিল সব আবছা ভীষণ আমার কাচ-ও । রাস্তা পেরোয় জল ফিরত...

বৃষ্টিফোঁটা ৫

ঘুরলে বছর অনেকটা মেঘ, এমনি হারায় মায়ের মতো বাদবাকি যা রাখতে চেয়েও হয়নি রাখা কার্যত সেসব দেনা গুছিয়ে নিয়ে শহর ফেরে । লোকাল বাস ভাবনা পোষা সিটের পাশে জানলা বসায় ইচ্ছেক্লাস আমিই প্রথম । বাধ্য বড়ই । রাস্তা শেখায় অন্ত‍্য‍মিল হাতের মুঠোয় কাচপোকা আর কাচের গায়ে মেঘমিছিল দৃষ্টি এড়াই, সহজ ভাবি । কিন্তু বলা বেশ কঠিন 'আজও যে তার ছুটির দেরি । বৃষ্টি এসো অন্যদিন' বৃষ্টি থামার ঢের অজুহাত । বরং তোমার আসার দায় মেঘের থেকে ধূসর খানিক, আলোর পাশে হালকা প্রায় মন তবুও সুর পেতে দেয় । বেসুর বাজে ছন্দ তার বিদ্রুপে ফের আঙুল থামায়, পথের গতি নির্বিকার ও নাম তোমার পছন্দ নয়, আকাশ এসে বললো যেই আমার মুঠোয় গলছে সময়, তোমায় জানাই সাধ্যি নেই বেবাক তখন পদ্যবিকেল, মিথ্যে বড়াই, মিথ্যে খোঁজ অধরা সেই প্রেম ভাঙিয়ে আঁকছি আলো, মুছছি রোজ দিনের পাশে দিন বসিয়ে নামতা পড়াই দুঃখকে খুঁজছি তোমায়, চাইছি ভীষণ । বলতে মানা বুক ঠুকে বলতে মানা আর কত কী, মুখ ফিরিয়ে আলোর বাঁক বর্ষা যখন খোদ প্রেমিকা, মনখারাপের গল্প থাক চশমা, রুমাল, খুচরো, বিকেল নাহয় যেমন গুছিয়ে নিই তোমায় গোছাই চোখের পাতায় । আপত্তি নেই তাও জানি অপেক...

বৃষ্টিফোঁটা ৩

মেঘের পাড়ায় জানলা খোলা, রোদ'ও তেমন পর্দানশিন ব্যাকফুটে শীত । অসময়ে জলের ছোঁয়াচ সামলে বসি তবুও কি যায় বাঁচানো? বাঁ দিক ঘেঁষে অনর্গল  মনকেমনের গল্প শোনায় ধূসররঙা মফঃস্বল এসব কথা বলতে মানা, ভাবতে গিয়েও হোঁচট খাই চোখ তো তেমন পথ চেনেনা, ভরসা জোগায় আকাশটা-ই গানের সুতোয় রাস্তা মাপি, হাওয়ার সুরেও দীর্ঘশ্বাস ফিরতি সময় । ঝিমোয় দুপুর । তোমার বুঝি অন্য বাস তোমার বুঝি বাড়তি বিকেল, সঙ্গী এবং কফি'র মাগ আমার কাচে ঝাপসা আলোয় বাড়তে থাকে সন্ধেদাগ বাড়তে থাকে বৃষ্টি নামের উটকো কিছু পাগলামো মেঘের পসার । মন্দা বাজার । থমকে শীতের দরদাম'ও  মুখ ফেরালাম জানলা থেকে । মন ফেরেনি, ফিরছে খোঁজ বৃষ্টিফোঁটা' নামের সাথেই অপেক্ষারাও ফিরছে রোজ  তেঁতো শোনায় আলোর পদ্য । বছরশেষে জ্বরের ঘোরে একটা দুটো বাঁক ভেঙে যায়, ঢেউ'র মতই শব্দ ক'রে বেবাক শুধুই আমার কথা । শব্দ গোপন ঠোঁটের ফাটায় চিঠির নামে ভুল ঠিকানায় সস্তা প্রেমের গল্প পাঠায় সস্তা প্রেমের মত'ই তো সৎ, কয়েকটা বাঁক বাড়ির কাছের  জানিয়ে দেয় নামতে হবে । অনেকটা পথ পেরিয়ে গেছে . . এমনসময় সিগন্যালে বাস । ভীড়ের শেষে দাঁড়িয়ে আছে নদী ...