সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কুসুমপুর


দীঘি ছিল এখানে কোথাও। সাউথ কেবিন-র পাশে
বুড়ো পলাশের গুঁড়ি এখনও রয়েছে
দীঘিটি মরেছে। চকচকে বহুতল তার-ই নামে, 'কুসুম সায়র'

শ্বেত পাথরের মেঝে নতুন হয়েছে। স্টেশন মাস্টারের ঘরে
সাদা এ.সি-টির নিচে সাজানো ফুলের টব
জানালা দরোজা দিয়ে হাওয়া আর ঢোকে না তেমন

তবু মেঘ করে আগের মতোই। ভেজা পাঁচিলের গায়ে
কৃষ্ণচূড়ারা ঝরে থাকে। সাড়ে-বারো মিনিটের লেট
প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকে পড়ে লোকাল-র আলো দেখা যায়
তারপর বাঁশি। মরা বিকেলের শোক পেয়ে বসে যেন

তোমার আসার কথা আগে থেকে জানা গেলে
কত জন্ম পুরনো এই মাস্টারি ছেড়ে দেওয়া যেত


কুসুমপুরে এখন দূরপাল্লার ট্রেন থামে। ভোরের আগেই
শহরে পৌঁছে যায় ঝুড়ি ঝুড়ি পদ্ম,শালুক। তারা
ভাঙা পাঁচিলের গায়ে জোড় গাছটির কথা
বলে না তোমাকে? বলে না ঢালাই পথ, নতুন মাচানটির কথা?

অথচ তোমার কথা আমায় প্রতিটি ট্রেন বলে
প্রবল বৃষ্টি ভিজে মালগাড়ি যখন দাঁড়ায়
কোথাও নীল ত্রিপল উড়ে গ্যাছে ঝড়ে। গরম চাকার শ্বাস
বহুদূর থেকে একা একা চলে আসা গার্ডটির চোখ
এসব পড়তে বসে তোমার চিঠিটি আর পড়া-ই হয়নি- ভেবে নিই
তুমি-ও লিখতে বসে কী এমন ভাবো, একটি মাত্র চিঠি
এত বছরে-ও শেষ করলে না
-----------

(প্রকাশিত' ২০১৯)

মন্তব্যসমূহ