১
ফটক ওঠেনি। লালবাতি জ্বলে আর নেভে
দূরের একটানা হুইসেল শহুরে বাতাস নিয়ে এল
এ নোনা দেওয়ালে তার ছিঁটে ফোঁটা এসে লাগে
প্রবল ব্যস্ততায় ধুলো উড়ে যায়
তোমাকে লেখার কথা মনে পড়ে
সঙ্কোচ মনে পড়ে। ভেজা বিবাহবাসর থেকে
দ্বিধাগ্রস্থ অন্তরার ঘোর ভেসে আসে
২
আলোর বারান্দা থেকে ফিরে গেছ। পশ্চিম আকাশে
স্লেট রঙ মেঘ। আর বৃষ্টি পেরিয়ে গেলে তুমি
অজুহাত ― সে আমার প্রিয় বিষয়ের মতো, তাই
সদরের একপাশে অপেক্ষা-কে বাঁধিয়ে রেখেছি
৩
তোমার না থাকা জুড়ে এখনও কেমন বাজে
অবিরাম এই জল, জলের সেতার। ভেজা
খড়ের কাঠামো তুলে নিয়ে আসে নিঝুম দেউল-এ
যে ঋতুর কথা আর সগর্বে বলতে পারি না
দীর্ঘতর রাত যেন তার-ই আচঁলে, আঁধারে
হেমন্ত প্রদীপখানি নিভিয়ে দিয়েছে। আলো
দু'ঘর তফাতে। শুনি বিষণ্ন সানাই
পাড়ার বান্ধবীটি হাসি মুখে দূরে চলে যায়
৪
এখন আনন্দদিন। পলকের মাঝে বসো তুমি
বিকেলের দরোজায় অনাহুত মেঘ। তার
পরনের চটিজোড়া হাহা বাতাসে মিলিয়ে গেল বুঝি
অভিযোগ জানালো সে। ফুটব না ফুটব না করে
সাদা রঙ্গনগুলি ফুটেছে উঠানে এতদিনে
ঝরে পড়বার সাধে
কিছুটা আলোর ভাগ-ও স্তিমিত হয়েছে
তুমি কবিতা, জলধারায়
এস, এ নৈবেদ্যটুকু হাতে তুলে নাও
---------------------
প্রকাশিত : আবহমান নববর্ষ সংখ্যা ২০২০
মন্তব্যসমূহ