এমন কেয়ারি-করা দ্বিপ্রহর। ঝাঁঝরি বেয়ে ও-বাড়ির ছাদের নবীনরোদ নেমে আসছে এ বাড়ির বারান্দায়, সিঁধ-কাটা চোরের মতো, ধীরপায়ে। সন্তর্পণে। লাল মেঝেতে আলো-ছায়া কেমন মৌচাক এঁকে গ্যাছে; পাঁচিলে বসে মেনি'টা যখন চারাপোনা বাছা দেখছিল একমনে। সূর্য পুকুর পাড়ের দিকে কিছুটা হেলে যেতেই সেসব ফিকে হয়ে খড়ি মাটির আল্পনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পর্দায় চন্দন ঘ্রাণ। আজ এ ঘরে আমিষ-অন্ন। বেশ কয়েকটি শাক, পোস্ত-র দুপুর পেরিয়ে আজ সামান্য সরষে বাটা। পাতের পাশে এক-দু কুচি কাগজিলেবুর আয়াস। কলতলায় কড়াই উপুড় করে ইট-গুঁড়ো ঘষছে মাধুর মা। দাঁত শিরশির করছে সে শব্দে। বাঁশের মাচায় শহর ফেরত কাপড় শুকোচ্ছে। দুটো কাক এসে বসেছে হেজ গাছের বেড়ায়। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাত নেড়ে কাক দুটোকে উড়িয়ে দিতে গিয়ে গৃহস্থের শাঁখা-পলা রিনরিন করে উঠলো। শোবার ঘরে গতরাত্রের শহর থেকে আনা রেকর্ড চলছে..."লট উলঝি সজা যা বালম, ম্যায় না লাগাউঙ্গি হাত রে".....
এই সময় শুকনো কাপড়'কটা কাঁধে ফেলে দুহাতে শাড়ির ঝুল তুলে একছুটে উঠোন পেরিয়ে চলে যাওয়া যায় অন্দরমহলে। নিরীহ পাপোশ মাড়িয়ে দোরে খিল দেওয়া যায় পাড়া-পড়শি জানিয়ে। তারপর নকশা বোনা সাদা চাদরের উপর মৌরির কৌটো খুলে ফেললেই...ম্যাজিক ম্যাজিক ম্যাজিক!
------------------------------
রচনাকাল : জুলাই ২০১৯
মন্তব্যসমূহ