সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

খেয়ালী


তপ্ত দুপুর অপেক্ষাদের শেষ
বৃষ্টিস্নাত গন্ধে মাখামাখি
নিজস্বীদের প্রুফ রিডিংয়ের পরে
শখের চশমা এমনি খুলে রাখি

একটু দূরেই সন্ধে নামলো ঝোপে
ঝিঝিঁপোকার ভরন্ত সংসার
ওরাও বুঝি ফোকাস এডিট জানে
ভার্চুয়ালি সাজায় অন্ধকার

বৃষ্টি বিকেল ফুরিয়ে এলেই ঘরে
দুচোখ খোঁজে তুলসী তলার আলো
ব্রাইটনেসের অভাব ভীষণ মনে
দিন যাপনের স্যাটাস ভীষণ কালো

মেঘের কোলে তারা ফোটার গান
কলম হাতে চাঁদ সেজেছে কবি
সময়রেখা পসরা সাজায় ফুলের
দেওয়াল জুড়ে সুখপাখিদের ছবি


মাঝরাত,
শরীরের উষ্ণতা কমে এলেই শীতের আদর
মনখারাপের চাদরটা টেনে নিয়ে বেশ খানিকটা
হাতের মুঠোয় ফসকে যাওয়া 'তুই'

এক চাঁদেরই ক্ষয়ে যাওয়া আছে বোধহয়
আর বাকিদের কেবলই আয়ুক্ষয়
আজকে ভীষণ ইচ্ছে করছে চাঁদ হতে

তুই হয়ত এ সময় জয়পুরের এক রিসর্টে
চকচকে পাথুরে মেঝের নকশা চিনছিস
ঠান্ডা পানীয়ের গেলাসে জোড়া চুমুক
আইসকিউবদুটো গলছে, মিশে যাচ্ছে দু'জনাতে

তখনই,
ব্যালকনি বেয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে একটা আলো,
তোর গোলাপি মুখের ঠিক পাশেই
যদি বুঝিস, ওটা আসলে এই কানাভাঙা চাঁদটার



দীর্ঘশ্বাসের বয়স বাড়ছে দ্রুত
চোখের সামনে গজিয়ে উঠছে চর
এমন একটা পথের সাথে দেখা
যে পথ নিজেই হারিয়ে ফেলেছে ঘর

হাতড়ে বেড়াই মরুযাত্রীর চিঠি
লেখা ছিল তাতে কেয়ার অফ ভালোবাসা
ধূলিঝর শেষে বালির পাহাড় যত
সরে সরে যায়, নিয়ে বৃষ্টির আশা

মরুদ্যানের নাম রাখা হলে ইডেন
দেবতারা করে নির্জলা উপবাস
কিছুই মেলে না অবিশ্বাসের খাতায়
দশে দশ পায় ফেল করা বিশ্বাস


দিনের গর্ভে বেড়ে উঠছে একটা দীর্ঘশ্বাস
হৃদস্পন্দন খুব প্রকট
সতর্কতায় শুষে নিচ্ছে প্রাণরস যত
সময়ই যখন একমাত্র নির্ধারক ছায়াদের আয়ুষ্কালের
অচেনা বাতিঘরের পাশে পড়ে থাকে গোত্রহীন আতসবাজির বারুদ

অনেক বোঝাপড়ার পর একটা শ্বেতপতাকা উড়েছিল ছাদে
কার্নিশ ঘেসে আপোষের হাঁটতে শেখা দেখে
মুখ টিপে হেসেছিল ফাঁসি যাওয়া ঘুড়িটা

আকাশ, ওকে মুক্তি দিয়ো
ওর পাখি হওয়ার স্বপ্নটা আমায় দিয়ে গেছে

-------------
রচনাকাল : ২০১৬

মন্তব্যসমূহ