বৃষ্টিভেজা আম মুকুলের গন্ধে নেশা ধরে যায় — বিশাখা বলছিল। আমরা তখন আই সেক্টরের রাস্তায় এলোমেলো সাইকেল চালাচ্ছি। রবিবারের সকালের টিউশন ফেরত কৃষ্ণচূড়া দেখতে বেরিয়েছি। ও বলছিল ফুলের মাস, প্রেমের মাস ... আরও কীসব যেন। আশ্চর্য হয়ে ভাবছি এতকিছু বলতে ও লজ্জা পায় না! মনে পড়ছে এবার অযোধ্যায় পিকনিক যাবার সময় দেখা ট্রাকের পেছনে গোলাপ ফুলের ছবি। নিচে টানা অক্ষরে লেখা, 'ফুল দিয়ে ফুল হয়ো না'
তোমাদের বাগানে সেদিন এক নতুন ফুল দেখলাম। সবাই বললো ওর নাম কমলা হাতির শুঁড়। ফুলগুলোকে কাল্পনিক হাতির মুখে বসিয়ে একটা কিছু আভাস পাবার চেষ্টা করেছিলাম বাড়ি ফিরে। মাথায় ঘুরছিল তোমার অবজ্ঞার হাসি। "অরেঞ্জ ফ্লেম ভাইন, বাপি নাসিক থেকে নিয়ে এসেছে"
আমার আঁকা কমলা হাতির শুঁড় আর পাইরস্তেজিয়া ভেনোস্টার মিল হয়নি। যদিও নামে কী আসে যায়! তোমার আমার নামের বানান একটু এধার ওধার করে নিলেই ফ্লেমস-এ L পড়ে থাকত সবশেষে। আরেকটু বদলে ফেলে M ও পেয়েছি কয়েকবার। বোবার শত্রু হয় না তাই E পাবার ভয় ছিল না কখনও।
দোলের পরের দিন হাতের না ওঠা রং নিয়ে গর্বের প্রদর্শন চলছিল প্রেয়ারের সময়। তুমি প্রায় এক সপ্তাহ পর ফিরলে মামাবাড়ি থেকে। থমথমে মুখ। যেন এখনই কেঁদে ফেলবে। টিফিনের আগের চারটে পিরিয়ড আমি ঘষে ঘষে হাতের রং তোলার চেষ্টা করছি যাতে রুমাল এগিয়ে দিতে পারি সবার আগে। টিফিন পিরিয়ডে আমরা গোল হয়ে বসে তোমার মামাবাড়ির জোড়া ময়ূরের গল্প শুনলাম। গত বৃষ্টির রাত্রে হনুমান কীভাবে কামড়ে মেরে ফেললো ময়ূরীকে, এ হয়ত আমার অনেক অনেক দিন মনে থাকবে। মনে থাকবে তারপর শোকে পাগল হয়ে ময়ূরের মরে যাওয়া। মনে থাকবে তোমার লাল হয়ে ওঠা গালের একবিন্দু জল। বিকেলে 'শাপমোচন'- র রিহার্সাল। আমার কানে এখনো আটকে আছে প্রথম বার শোনা ভূমিকাটুকু —
"বিচ্ছেদ ঘটিয়ো না,
একই লোকে আমাদের গতি হোক,
একই দুঃখভোগে, একই অবমাননায়।'
২৩ শে ফেব্রুয়ারি ' ২০২৫
..
মন্তব্যসমূহ