আমাকে রেখেছ সেই বাতিলের খাতার ভিতর
চুপচাপ বসে থাকি, প্রতিবেশী মিশুকে বড়ই
তোমার কথাই হয়, তারপর খাওয়া দাওয়া
একদিন বলে দেব তালাচাবি লুকোনো কোথায়
২
এমনি নামতে শেখা। বিলাসিতা থাকেনা পতনে
মাটিতে পায়ের ক্ষত, পাথরের ঘষা দাগ গায়ে
অধরা জলের রেখা। কোনপথে তারপর গতি
তোমাকে হয়'নি বলা এখানেও চাষাবাদ হয়
৩
গুছিয়ে রেখেছ ফুল। ভাসানের দিন বুঝি আজ
ইতুর চোখের জল, অবিকল এঁকেছে পটুয়া
বিকেল নিভছে ঘাটে। এইবেলা ফিরে যেতে চাও
আঁচল সামলে রেখো, কিছু জল পটুয়া আঁকে না
৪
আলোহীন এই রাত, সর্বগ্রাসী চাঁদনী যদিও
কোথায় পেতেছ চোখ? কলঙ্ক তো বলতে শেখেনি
জানালা ফুরিয়ে এল। কতটা তফাতে জোনাকিরা
ফিরে এসো অজুহাতে। কিছু কালো ঘুমের ওষুধ
৫
একরঙা পাঁজা ইট, কোনও এককালে ছিল ঘর
বটের ঝুরির নিচে বিকেলের বৈঠকী আজান
দুয়ারে আতপ গান, আলপনা খুঁটে খায় ঘুঘু
ধানের পালুই বেয়ে বাস্তুশাপ ওঠে আর নামে
৬
যেকথা বলতে আসা, এ শহরে বসতি নতুন
সাজানো আলোর পাশে মুঠোমুঠো খই দেখি রোজ
ছড়িয়েছি আমিও তো, মিছিলের শেষভাগে এসে
প্রতিবার ঝান্ডা ফেলে চলে যাব চলে যাব ভাবি
৭
ঘোরের মতই যেন, তুমি এলে। চাঁদবেলা হ'ল
পাখির ঠোঁটের নামে মিশে যাওয়া পৌষের শীত
কথাও হয়েছে কিছু, যে কথার ভার নিতে নিতে
একজন আস্ত রাত অনায়াসে জ্বরে পড়ে যায়
৮
ধূসর কলিংবেল। বহুদিন বাজেনি কুয়াশা
শিশিরের চিঠি ভরা পোস্টবক্স বেহাগ জমায়
তুমিও তো রোজ ফেরো। চোখাচোখি হয়েছে কখনো
পা বাড়িয়ো সাবধানে, স্বরলিপি ঘাস হয়ে আছে
৯
আপাত নিরীহ রোদ, খড়কুটো উঠোনে দালানে
আরেকটু বল পেলে হাওয়া ছুঁয়ে উড়ে যেত বক
দরজায় টোকা মেরে অভিমানী মেঘ ফিরে গেলে
ছিলনা আগল তাও, দাঁড়িয়েছ। ডাকোনি এবারও
১০
আমাকে প্রমাণ ছাড়া অভিশাপ দিতে পারে ওরা
বেনামে পাঠানো চিঠি পড়েছিল ওরাই প্রথম
ঠিকানা বলিনি। জানে সে বাড়িতে পলাশ ফুটেছে
জানালা সরিয়ে নিও। উঠোনেতে আগুন রেখো না
১১
কতটা বইতে পারে! এখন তো গর্ভবতী দিন
বসন্ত নড়তে শেখে, শীতের জঠরে শ্বাস নেয়
হাওয়া গুনে ভোর হয়। মলমাস শিখিয়েছে খিদে
রোদের খাবার আসে। ডিম বোনে খিচুড়ি ইস্কুল
১২
কিছুতো চায়নি আর শাওন পাখিটি। শুধু ,মেঘ
নামে দুয়েকটি চিঠি। দুয়েকটি বৃষ্টিবকুল যেন
খাম খুললেই টের পাই। এটুকু চাওয়ার ঘরে
থেকে থেকে মনে হয় হাতচিঠি নিয়ে এলো আলো
১৩
মনখারাপের মত বেজেছে নিয়ত রাতগুলি
খুলে খুলে দেখিয়েছে কোথায় জোনাকি পোষে ঘুম
সেসব জানার কথা ছিল না তোমার কোনওভাবে
শীত আসে শীত যায়। তুমিও দুহাতে ক্ষয় ভাঙো
১৪
ঠিক কোন পথে গেলে! ওদিকেতো ইচ্ছে পোড়া ছাই
মাড়িয়ে গিয়েছ বুঝি? এতদিনে শেখ'নি আদব
জল ছেড়ে উঠে এলে ভেবেছ সিঁড়িই হবে দায়ী
ভুলের মাশুল থেকে কয়েকটা ধাপ কেটে নেব
১৫
অযথা এসেছি ভাবি। এমনি পড়েছি দোটানায় -
মাঠের ওপর থেকে ততক্ষণে মেঘ সরে গেছে
তোমার আদল চিনি, তবু যেন মন মানছে না
লুকিয়ে রেখেছ কাকে? সে তোমার পরিচিত কেউ
১৬
এসেছি অরণ্য সেজে, চোখ জুড়ে সারি সারি গাছ
কোথাও অপার ছায়া, সে ছায়ায় ভিজেছে আলোও
তোমার বিলাসী মেঘ এই বুঝি হারিয়েছে পথ
আমিও তো একরোখা তোমায় না খুঁজে ফিরছি না
১৭
আলোর বারান্দা থেকে ফিরে গেছ। পশ্চিম আকাশে
স্লেট রঙ মেঘ। আর বৃষ্টি পেরিয়ে গেলে তুমি
অজুহাত - সে আমার প্রিয় বিষয়ের মতো, তাই
দরজার একপাশে অপেক্ষা-কে বাঁধিয়ে রেখেছি
১৮
আমাদের পাপ যতখানি উজ্জ্বল, প্রেম ততখানি নয়
ভালোবাসি। প্রিয় তবু ঘৃণা,তবু প্রিয় এই পরাজয়
কে কাকে প্রবোধ দিই, সময়েরও দায় থাকে। আর
ভুলে থাকা সোজা নয়, মনে রাখা আরও বেশি তার
----------------------
রচনাকাল : ২০১৮
মন্তব্যসমূহ