মাঝেমধ্যে আলাপ জমাতে আসে ছাতিম কৃষ্ণচূড়ারা ....ওরা রাস্তার কথা বলে .....পলাশরঙা ছায়াদের গল্প শোনায় l বুড়ো পলাশের নিচে আজও না কি সাইকেল দাঁড়িয়ে থাকে ,একইভাবে l ওরা আলো আঁকতে শেখে ....বিকেল আঁকতে শেখে ,তারপর সন্ধে নামলেই ফিরে যায় যে যার নামের মলাটে l
:
তখন লক্ষী বারের আল্পনায় সন্ধে আঁকা হ'লে ...শঙ্খধ্বনি ...মাটির প্রদীপ ..এসব গুছিয়ে রাখতো চোখ l মা ডাকের কাছে নতজানু হয়ে বসতো আমতেল আর মুড়ির যুগলবন্দী সন্ধেরা ....দাদু দিদিমা ,ঠাকুমা দাদু ....এসব পুঁজি ছিলোনা যে মেয়েবেলার....রূপকথার ঘোরে সে একাই পেরিয়ে আসত একেকটি দৈত্যপুরী.....রাফেনজেলের চুলের ডগায় বেঁধে আসত রাজপুত্রের চিঠি ....l রূপকথার পর আর স্বপ্ন হয়'না আলাদারকমের l রাতের বুকে মাথা রেখে সে ছবি আঁকতে বসত নতুন রঙ পেন্সিল হাতে ......আকাশ .....মেঘ ....মেঘের পরে সার্কাসের তাঁবু l তাঁবুর ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে ভেতরের আলো ....বাবা তাদের নাম বলেছিল "তারা "....মেয়েবেলা মেলার মাঠে গেলেই সবটুকু মিলিয়ে নিত বর্ণনার সাথে l মিলেও যেত অক্লেশে l আজকাল দিন রাতেরই হিসেব মেলে না তেমন l চায়ের কাপে ফুটতে ফুটতে মিলিয়ে যায় সিঁড়ি ভাঙার অংক l আঁচলের কাছেই ক্রমশ ঋণী হয়ে ওঠে এ আষাঢ়ে গল্পগুলো l মেয়েবেলা ফিরে যায় বৃষ্টির কাছে...আকাশের কাছে l মেলার মাঠে সার্কাসের তাঁবুতে আলো জ্বলে থাকে সারারাত ....কোলাহল ঘুমিয়ে থাকে রথের চাকার চারপাশে l ওরা পাহারা দেয় আরো কত মুঠো মুঠো বৃষ্টিফোঁটাদের l
সত্যিই স্বপ্নেরা আজও রূপকথাই, কেবল নতুন রঙ পেন্সিলে ছবি আঁকা হয়'না কখনও ।
---------------------
রচনাকাল : ২০১৭
মন্তব্যসমূহ