সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

রূপকথা এস্টেট ৪

রূপকথা এস্টেট  ৪ T-series...Deewana...নেড়েচেড়ে রেখে দিলাম কাচের সেন্টার টেবিলের উপর। 'কুছ তুম সোচো কুছ হম সোচে...' জানলার উইনচ্যামটা দুলে উঠলো রিনরিন শব্দে। একবার। ব্ল্যাংক ক্যাসেটে কথা রেকর্ড করার চল উঠেছে তখন। যদিও বুদ্ধিটা আমার না। সূর্যতপার জন্মদিন। কে যেন হঠাৎ হাত তুলে বলেছিল ওকে সবাই মিলে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা রেকর্ড করে দিলে কেমন হয়! আমার যথারীতি বাহকের কাজ। তোমার বাড়ির বড়সড় মিউজিক সিস্টেম। ডেক না কী বলে যেন। আমারই সামনে বসে গান রেকর্ড করলে। আমি পর্দার পাশে পাখির খাঁচার দিকে তাকিয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ। মাঝে মাঝে পৃথিবীতে পাখি হওয়াও একপ্রকার প্রিভিলেজ। ছোলা খুঁটতে খুঁটতে ও যেন বিজ্ঞের মতো এটাই বলতে চাইলো। অথচ গলা শুকিয়ে আসা আমার ভবিতব্য। কাশির দমকে ক্ষুণ্ন, বিরক্ত তুমি মিউজিক সিস্টেম বন্ধ করে ক্যাসেট ধরিয়ে দিলে। নীল গেট, মাধবীলতায় সাজানো। রূপকথা এস্টেটের সবচেয়ে সুন্দর বাড়ি। বাইরের পিলারে চকচকে লাল লেটার বক্সে সাদা রঙের শিউলি আঁকা। সাইকেল ঘোরালাম। এত তেষ্টা এর আগে পায়নি কখনও। বাড়ি পৌঁছেছি যখন ঝমঝম বৃষ্টি নেমেছে। দিদার টগর গাছ থেকে বাসি ফুল ঝরে পড়ছে উঠোনে। চাতালে ...

রূপকথা এস্টেট ৩

রূপকথা এস্টেট  ৩ সেবছর গরমের ছুটিতে দার্জিলিং বেড়াতে গেল অনেকেই। কেউ কেউ পুরীও। আমি একটানা আরণ্যক আর দেবদাস শেষ করলাম। সকালে ভক্তিবাদী আন্দোলন তো সন্ধেয় উপপাদ্যের এক্সট্রা। রাত্রে ঘুমোতে যাবার আগে টেনে টেনে বাংলা পড়ছি। মনে পড়ছে স্যারের ক্লাসে সেদিন রামের বিলাপ পড়তে গিয়ে সবাই হেসেছিল। সব্বাই। আমার হাসতে ইচ্ছে করেনি একবারও। চোখে চোখ পড়তেই তুমিও নিমেষে কেমন যেন গম্ভীর হয়ে গেলে। হাসছিলে। বিশ্বাস করতে চাইনি। সিধুটাও অদ্ভুত কথা বলে মাঝেমধ্যে। বলে, তুই দেবদাস মোডে চলে গেছিস। ডায়রির পাতায় জেল পেনে কোট করছিলাম শেষ ক'টা লাইন। "শুধু দেবদাসের জন্য বড় কষ্ট হয়..." কেন এসবে আমার একারই কষ্ট হয়! বিকেলে সাইকেলে লালপাহাড় যাবার কথা হল। আমার পাহাড়ের দৌড় ঐটুকুই। বাকিরা বললো এ তো ঢিপি। দার্জিলিংয়ের পাহাড় তো দেখিসনি! মানব সাইকেলের হ্যান্ডেল ছেড়ে শাহরুখের মতো দুহাত ছড়িয়ে বললো দার্জিলিং কী ও তো শুশুনিয়াও দেখেনি! এখন যদি বলি আমি মোহনপুরা রিজার্ভ ফরেস্ট, মহালিখারূপ পাহাড় দেখেছি, ওরা বলবে গুল মারছি। শুনেছি তোমার বাবার শিমলায় পোস্টিং। পাহাড় দেখেছো তুমি। আমার হিংসে হয়। রাগে জোরে জোরে প্যাডে...

রূপকথা এস্টেট ২

রূপকথা এস্টেট  ২ আকাশে কে যেন আজ বাম হাতে চাঁদ এঁকে মুছে দিয়েছে। এদিকে বৃষ্টি হয়ে গেল মিনিট পাঁচেক। টাউন শিপের গলি। খানা-খন্দের জমা জলে স্ট্রিট লাইটের আলো শুয়ে আছে। তাতে ব্যাঙাচি লাফাবে এবার। আমার চশমার কাচ এখনও ফোঁটা ফোঁটা জলের নকশায় বিব্রত। ফেরার পথে দেখা হবে ভেবেছিলাম। অতঃপর এই লোডশেডিং! সাইকেল সারাইয়ের দোকানে এফ.এম-এ কী যেন একটা নতুন গান চলছে। শম্ভুদা গুনগুন করছে ''রোজ রোজ রেশম সি হাওয়া... আতে যাতে কহতি হ্যায় বতা"...তু হ্যায় কাঁহা কাঁহা হ্যায়? ― এ প্রশ্নের আকুতিতে শম্ভুদার দেশী দারু গেলা চোখও চিকচিক করে উঠছে যেন। সুরভির এবারের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছিলাম। ওরা একটা ক্যামেরা পাঠাবে জানিয়েছে। কোড্যাক কে-বি-টেন। এই নিয়ে তৃতীয়বার বললাম কথাটা। তোমাকে নয়, তবে তোমাকেই শুনিয়ে শুনিয়ে। প্রত্যয় সাইকেলের সিট চাপড়ে আবারও বললো, "ওতে ফটো তোলা যাবে তো!" উত্তর দিইনি আর তোমার মুখ টিপে হাসা যেন দেখতেই পাইনি এমন ভান করে এগিয়ে এলাম এই এদ্দুর... রূপকথা এস্টেটের রেলগেট মোড়ে। বাইপাসের ট্রাকের শব্দ। জল মাড়িয়ে যাওয়া ভারী চাকা। ভেজা ভেজা লাইনহোটেল। তবু ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে...

রূপকথা এস্টেট ১

রূপকথা এস্টেট ১ রূপকথা এস্টেটের ভাড়াবাড়ি থেকে যে বছর উঠে গেলে তোমরা। দিদার অকাল মৃত্যু, মায়ের বাতের ব্যথা। আমিও আরেকটু বেশি বেপরোয়া সাইকেল চালাই। সিধুদের বাড়ি প্রথম ল্যান্ডফোন এলো। সারাদিন খুঁটি পোঁতা, তার জোড়া। আমরা পাড়াসুদ্ধ লোক আত্মীয়দের ফোন করে করে নাম্বার দিলাম। সিধুর মা মুরারী সুইটসের সিঙ্গাড়া খাওয়ালেন। নেহাত সিধু ততদিনে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে। ওর লেখা চিঠিটা আমি নিজের নামে চালাতে চাইনি। তুমি তো জানোই নিজের কথা লিখতে গেলে আমার ভ্যাবাচ্যাকা লাগে। এর চেয়ে সহজ কালভার্টের উপর দিয়ে সাইকেলের হ্যান্ডেল ছেড়ে শোঁ করে পেরিয়ে যাওয়া। বর্ষাকালে জল জমলে ফার্ন পাতাগুলো আরো বড় হয়ে চাকার ভিতরে হুমড়ি খেয়ে ঢুকে পড়ত। তোমাকে খোঁজার কথা ভাবিনি কখনও। ঠিকানা জানিয়ে গেলেই বরং অভিমান হত। আমি কি তেমন কিছু লিখতে পারতাম! শুধু জলের মতো শব্দ করে পেরোতে পেরেছি। ও শহর থেকে বেরিয়ে পড়েছি বহুদিন হল। রূপকথা এস্টেটের বাংলো বাড়িগুলো এতদিনে প্রৌঢ় হয়েছে। কাগজফুলের গাছ বেঁচে আছে নাকি দুয়েকটাও। রেলিংয়েও মরচে ধরেছে। বাঁকে উঠে নারানদার গুমটিতে নতুন কাচের দরজা লেগেছে। এখন ওটা গ্রোসারি শপ। নারানদার এম.এ বি.এড ছেলে...