সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রূপকথা এস্টেট ২


রূপকথা এস্টেট 

আকাশে কে যেন আজ বাম হাতে চাঁদ এঁকে মুছে দিয়েছে। এদিকে বৃষ্টি হয়ে গেল মিনিট পাঁচেক। টাউন শিপের গলি। খানা-খন্দের জমা জলে স্ট্রিট লাইটের আলো শুয়ে আছে। তাতে ব্যাঙাচি লাফাবে এবার। আমার চশমার কাচ এখনও ফোঁটা ফোঁটা জলের নকশায় বিব্রত। ফেরার পথে দেখা হবে ভেবেছিলাম। অতঃপর এই লোডশেডিং! সাইকেল সারাইয়ের দোকানে এফ.এম-এ কী যেন একটা নতুন গান চলছে। শম্ভুদা গুনগুন করছে ''রোজ রোজ রেশম সি হাওয়া... আতে যাতে কহতি হ্যায় বতা"...তু হ্যায় কাঁহা কাঁহা হ্যায়? ― এ প্রশ্নের আকুতিতে শম্ভুদার দেশী দারু গেলা চোখও চিকচিক করে উঠছে যেন। সুরভির এবারের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছিলাম। ওরা একটা ক্যামেরা পাঠাবে জানিয়েছে। কোড্যাক কে-বি-টেন। এই নিয়ে তৃতীয়বার বললাম কথাটা। তোমাকে নয়, তবে তোমাকেই শুনিয়ে শুনিয়ে। প্রত্যয় সাইকেলের সিট চাপড়ে আবারও বললো, "ওতে ফটো তোলা যাবে তো!" উত্তর দিইনি আর তোমার মুখ টিপে হাসা যেন দেখতেই পাইনি এমন ভান করে এগিয়ে এলাম এই এদ্দুর... রূপকথা এস্টেটের রেলগেট মোড়ে। বাইপাসের ট্রাকের শব্দ। জল মাড়িয়ে যাওয়া ভারী চাকা। ভেজা ভেজা লাইনহোটেল। তবু ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে। তোমার চলে যাওয়াটুকু দেখতে পারা, এও এক ঘোর। তোমার আসার মতই...ঘরভর্তি ফরাসি বিপ্লব, বাস্তিল দুর্গ, নেপোলিয়ন আর সাইকেল স্ট্যান্ডে কালো মেঘ, বৃষ্টির পূর্বাভাস। বারবার নিজেরই নিজের পিঠ চাপড়ে বলা, "এত উদাসীন হওয়া ভালো না কমরেড! ভালো না। ভালো না।"

৫ মে' ২০২২

মন্তব্যসমূহ