সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রূপকথা এস্টেট ৩


রূপকথা এস্টেট 


সেবছর গরমের ছুটিতে দার্জিলিং বেড়াতে গেল অনেকেই। কেউ কেউ পুরীও। আমি একটানা আরণ্যক আর দেবদাস শেষ করলাম। সকালে ভক্তিবাদী আন্দোলন তো সন্ধেয় উপপাদ্যের এক্সট্রা। রাত্রে ঘুমোতে যাবার আগে টেনে টেনে বাংলা পড়ছি। মনে পড়ছে স্যারের ক্লাসে সেদিন রামের বিলাপ পড়তে গিয়ে সবাই হেসেছিল। সব্বাই। আমার হাসতে ইচ্ছে করেনি একবারও। চোখে চোখ পড়তেই তুমিও নিমেষে কেমন যেন গম্ভীর হয়ে গেলে। হাসছিলে। বিশ্বাস করতে চাইনি। সিধুটাও অদ্ভুত কথা বলে মাঝেমধ্যে। বলে, তুই দেবদাস মোডে চলে গেছিস। ডায়রির পাতায় জেল পেনে কোট করছিলাম শেষ ক'টা লাইন। "শুধু দেবদাসের জন্য বড় কষ্ট হয়..." কেন এসবে আমার একারই কষ্ট হয়! বিকেলে সাইকেলে লালপাহাড় যাবার কথা হল। আমার পাহাড়ের দৌড় ঐটুকুই। বাকিরা বললো এ তো ঢিপি। দার্জিলিংয়ের পাহাড় তো দেখিসনি! মানব সাইকেলের হ্যান্ডেল ছেড়ে শাহরুখের মতো দুহাত ছড়িয়ে বললো দার্জিলিং কী ও তো শুশুনিয়াও দেখেনি! এখন যদি বলি আমি মোহনপুরা রিজার্ভ ফরেস্ট, মহালিখারূপ পাহাড় দেখেছি, ওরা বলবে গুল মারছি। শুনেছি তোমার বাবার শিমলায় পোস্টিং। পাহাড় দেখেছো তুমি। আমার হিংসে হয়। রাগে জোরে জোরে প্যাডেল করি। সবার আগে লালপাহাড়ে পৌঁছই। হাঁপাতে হাঁপাতে চোখ বন্ধ করি। দুপুরে খেতে বসে বি-ফোর-ইউ দেখছিলাম। নতুন একটা গান। পাহাড়। বড় বড় পাইন গাছের সারি। আবছা মেঘেদের মাঝে হেঁটে যাচ্ছে দুজন। পাশে সাইকেল। ফায়ার প্লেসের দৃশ্যে চ্যানেল পাল্টে দিতে হল। চুমু দেখলে এভাবেই সরে আসা কর্তব্য তখন। আবার ফিরলাম যখন মেয়েটি চলে যাচ্ছে শহর ছেড়ে। ছেলেটি একা একা ঘুরে বেড়ালো পাইনের জঙ্গলে, জলের ধারে। তখনও জানি না তুমিও চলে যাবে একদিন। রূপকথা এস্টেট ছেড়ে তোমার বাবার শহরে। তারপর বহুবছর পার করে বেড়াতে বেড়াতে এসে পড়বে হঠাৎ ― ভাবি। ওই গানটার মতই। আমরা হাঁটতে হাঁটতে কুয়াশায় আবছা হয়ে যাব। আর গায়ক ক্রমে আলাদা হয়ে যাবেন। পড়ে থাকা মার্বেলগুলিটা হাতে তুলে নেবেন। দেখবেন মুহূর্তরা কেমন রয়ে গেল চকচকে কাচের ভিতরে স্মৃতি হয়ে। আজীবন। আজীবন।

২জুন' ২০২২

মন্তব্যসমূহ