সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রূপকথা এস্টেট ১


রূপকথা এস্টেট


রূপকথা এস্টেটের ভাড়াবাড়ি থেকে যে বছর উঠে গেলে তোমরা। দিদার অকাল মৃত্যু, মায়ের বাতের ব্যথা। আমিও আরেকটু বেশি বেপরোয়া সাইকেল চালাই। সিধুদের বাড়ি প্রথম ল্যান্ডফোন এলো। সারাদিন খুঁটি পোঁতা, তার জোড়া। আমরা পাড়াসুদ্ধ লোক আত্মীয়দের ফোন করে করে নাম্বার দিলাম। সিধুর মা মুরারী সুইটসের সিঙ্গাড়া খাওয়ালেন। নেহাত সিধু ততদিনে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে। ওর লেখা চিঠিটা আমি নিজের নামে চালাতে চাইনি। তুমি তো জানোই নিজের কথা লিখতে গেলে আমার ভ্যাবাচ্যাকা লাগে। এর চেয়ে সহজ কালভার্টের উপর দিয়ে সাইকেলের হ্যান্ডেল ছেড়ে শোঁ করে পেরিয়ে যাওয়া। বর্ষাকালে জল জমলে ফার্ন পাতাগুলো আরো বড় হয়ে চাকার ভিতরে হুমড়ি খেয়ে ঢুকে পড়ত। তোমাকে খোঁজার কথা ভাবিনি কখনও। ঠিকানা জানিয়ে গেলেই বরং অভিমান হত। আমি কি তেমন কিছু লিখতে পারতাম! শুধু জলের মতো শব্দ করে পেরোতে পেরেছি। ও শহর থেকে বেরিয়ে পড়েছি বহুদিন হল। রূপকথা এস্টেটের বাংলো বাড়িগুলো এতদিনে প্রৌঢ় হয়েছে। কাগজফুলের গাছ বেঁচে আছে নাকি দুয়েকটাও। রেলিংয়েও মরচে ধরেছে। বাঁকে উঠে নারানদার গুমটিতে নতুন কাচের দরজা লেগেছে। এখন ওটা গ্রোসারি শপ। নারানদার এম.এ বি.এড ছেলে দোকানে বসে। ছবিতে দেখেছি। ফিরে গেলে একবার যাব ছাতিম ফোটার সময়। তোমার কথা মনে পড়বে। টিউশন ফেরত সেসব বিকেলের দিব্যি তোমাকে পাবার চেষ্টা করিনি তখনও। দূর থেকে বোবা ভেবেছিলে। ওই হলুদ গাড়িটা তোমাদের নিয়ে গেল রাত্রের ট্রেন ধরাতে। কোন দেশে, কোন শহরে আমার হলুদ রং, স্বপ্ন দেখা, কথা না বলা কৈশোর নিয়ে গেল আজ জানতে ইচ্ছে করে খুব।

২২ এপ্রিল' ২০২২

মন্তব্যসমূহ