রূপকথা এস্টেট
৪
T-series...Deewana...নেড়েচেড়ে রেখে দিলাম কাচের সেন্টার টেবিলের উপর। 'কুছ তুম সোচো কুছ হম সোচে...' জানলার উইনচ্যামটা দুলে উঠলো রিনরিন শব্দে। একবার। ব্ল্যাংক ক্যাসেটে কথা রেকর্ড করার চল উঠেছে তখন। যদিও বুদ্ধিটা আমার না। সূর্যতপার জন্মদিন। কে যেন হঠাৎ হাত তুলে বলেছিল ওকে সবাই মিলে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা রেকর্ড করে দিলে কেমন হয়! আমার যথারীতি বাহকের কাজ। তোমার বাড়ির বড়সড় মিউজিক সিস্টেম। ডেক না কী বলে যেন। আমারই সামনে বসে গান রেকর্ড করলে। আমি পর্দার পাশে পাখির খাঁচার দিকে তাকিয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ। মাঝে মাঝে পৃথিবীতে পাখি হওয়াও একপ্রকার প্রিভিলেজ। ছোলা খুঁটতে খুঁটতে ও যেন বিজ্ঞের মতো এটাই বলতে চাইলো। অথচ গলা শুকিয়ে আসা আমার ভবিতব্য। কাশির দমকে ক্ষুণ্ন, বিরক্ত তুমি মিউজিক সিস্টেম বন্ধ করে ক্যাসেট ধরিয়ে দিলে। নীল গেট, মাধবীলতায় সাজানো। রূপকথা এস্টেটের সবচেয়ে সুন্দর বাড়ি। বাইরের পিলারে চকচকে লাল লেটার বক্সে সাদা রঙের শিউলি আঁকা। সাইকেল ঘোরালাম। এত তেষ্টা এর আগে পায়নি কখনও। বাড়ি পৌঁছেছি যখন ঝমঝম বৃষ্টি নেমেছে। দিদার টগর গাছ থেকে বাসি ফুল ঝরে পড়ছে উঠোনে। চাতালে বসে বাসনওয়ালি বিড়ি ধরিয়েছে সবে। কাচের বাসনের দরদামে, চুরির শব্দে, হিন্দুস্থানী ভাষায় মায়ের দিব্যি খেতে খেতে ধোঁয়া উড়ছে...আরো খানিকটা উপরে। তারপর মিলিয়ে যাচ্ছে শ্রাবণের হাওয়ায়। 'ফির খুশি কা মৌসম আয়ে...' মাথা মোছার ছলে মুখ ঢেকে ভাবছি আমারও যে একটা জন্মদিন আছে আর তাও খুব বেশি দূরে নয়, এই কথা অনেকেই জানে।
১৭ আগস্ট' ২০২২
মন্তব্যসমূহ