সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হলুদ বিকেল

এরকমই এক নিভু নিভু বিকেলে বান্ধবীকে তার বাড়ির রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে ফিরছিলাম। আঠারো বছর আগের স্কুলরোড মাঠে সেদিনই পুজো প্যান্ডেলের বাঁশ বাঁধা শুরু হয়েছে। মেঘে মেঘে বিকেল যেন একটু বেশিই কালো ঠেকছে। বাঁক ঘুরতেই ছাতিম গাছের তলায় চারটি বাঁশের খুটি আর সামান্য টিনের চালে তৈরি ছোট্ট 'শ্রীকান্ত সাইকেল রিপিয়ারিং শপ'। দোকানের মালিক ছিপছিপে গড়ন, একমাথা ঝাঁকড়া চুলের এক দাদা। বয়স তখন আমার দাদার সমান বোধয়। উনিশ-কুড়ি। আমি তার নাম জানতাম না অথবা ভাবতাম 'শ্রীকান্ত'-ই তার নাম। দোকান খোলা দেখে সাইকেলের টিউবের লিক সারাতে ঢুকলাম। তার আগেও দুয়েকবার সাইকেল সারাবার সুবাদে সে আমার মুখটুকু চেনে। দুটো লোহার টুলের মধ্যে একটি আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে নিজে বসলো আরেকটিতে। গুনগুন করতে করতে সাইকেলের টায়ার খুলতে লাগলো। পাশে টেবিলের উপর এফ.এম চলছে। ওতেই সম্ভবত গানটি প্রথম শুনেছিলাম, " তুমকো দেখা তো ইয়ে খয়াল আয়া...জিন্দগি ধুপ তুম ঘনা সায়া..." হলুদ বাল্বের আলোয় জগজিৎ কীরকম যেন মায়া ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন আমাদের দুজনের উপরে। দাদার বাড়ি কোথায়, সেখানে কে কে আছে এসবই কথা হচ্ছিল। ওঁর...

শীত কুয়াশার বাদ্য

১ প্রশান্ত শীত। শিশিরে ঘুমিয়ে আছে পেঁপেপাতা ,  নিম-ছায়াটি কাঠবিড়ালির সদ্য জাগা ব্যস্ততায় থেকে থেকে একটি চড়ুই মঞ্চ আলো করে ধুলো নিয়ে জাগলারি শুরু করলেন তাঁকেই গোপনে বলি ,  আমি তো সমস্ত ফেলে ইন্দ্রজাল দেখতে এসেছি ২ এখানে দিগন্তে যেন হঠাৎ উঠবে জেগে সবুজ পাহাড় ধোঁয়া ধোঁয়া জলধারা দারুণ কৌতুকে বয়ে যাবে ;  তার ক্ষয়কাজ যেন ভালোবাসা ,  যেন বিদ্রূপ ,  চিরস্থায়ী অথবা কুয়াশা-নির্ভর এখানে পড়ন্ত রোদ আমাকে দেবে অলৌকিক ধৈর্যের পাঠ যেন শহর ছাড়িয়ে স্তব্ধরাত এসেছে প্রান্তরে পৌষের পূর্ণিমা ,  উল্কাপাত দেখবার লোভে। আর তার তাঁবু ঘিরে অজস্র পুটুসফুল আলো হয়ে আছে ৩ আমাদের মধ্যাহ্নদিন ,  আমাদের সংযত গোপনপ্রিয়তা সমস্তই রেখে যাওয়া হল এই পর্ণমোচী রোদে বড়দিনে আর কী কী হল তার-ই খসড়াখানি দ্রুতবেগে নিক্ষেপ করেছি যেই দ্বিধাহীন ,  জলে ধ্যানমগ্ন ,  স্থির বাঁধটির চারপাশে তোমার হাসি-তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ছে ৪ সেবার যখন গেছি জঙ্গলে ;  শীতে ,  সম্ভাবনায় প্রাচীন দেউলে দেখি ময়ূরের ছায়াখানি সহসা বিব্রতবোধে হেঁটে গেল বিকেলের দিকে মানুষের প্রতি তার অভিজ্ঞতালব্ধ...

প্রচ্ছন্ন

১ এ বেলায় আলো কম  শালপাতা ঝরে তীব্র অতীতের গায়ে সদরে দাঁড়িয়ে মেঘ, নীল থেকে খুঁটে খায় জল একটি কবিতা নেই ধারে কাছে বলো, ঘুম এলে রাখবো কোথায় ২ জানালা নিপুণ লেখে                             সৌখিন হওয়ার হরফ আমার তো পাতা নেই, গোছানো দেরাজ খুলে দিই  এক বেলা ডাল রুটি তিনবেলা কবিতা পোড়াই ৩ কয়েকশ শব্দ লিখি। রোজ কয়েকটি মৃত্যু এসে ডেকে নিয়ে যায় তার সরাই খানায় একটি মোটেই আলো, সারিসারি সাজানো পেয়ালা  আকণ্ঠ বিষাদ গিলে ফুটপাথে দাঁড়াই যখন  দেখি, রাত্রি চড়া দামে দশটি আঙুলই কিনে নেয় ---------------- রচনাকাল :  ২০১৮

প্রস্থান

বরং গুছিয়ে নাও। হুইসেল কুয়াশা পেরলো সময়ের ঘরবাড়ি ফেলে এসে দুয়ারে দাঁড়াও চৌকাঠ, স্বস্তিক লাল ― ফেরাবে ভেবেছ সে তোমায় পায়ের পেছনে পা-ও ফিরে আসে তুমি চলে গেলে এ ঘরে জাগর জ্বলে। ধোঁয়ার আদলে তুমি জ্বলো গুঁড়ো ফুল, গুঁড়ো স্মৃতি। গুঁড়ো হয়ে ফেরো অবেলায় তারপরও কথা হয়; আঁচল সরালে ব্যথা হয় একে একে বেজে ওঠে কাঁসার বাসন ভাঙা চুড়ি ট্রেনের শব্দে মিশে নরম শ্বাসেরা ঘোরে ফেরে  বাঁক থেকে বাঁক ছুঁয়ে আবারও চোখের জিজ্ঞাসা কতদূর? কতদূর গেলে সব ঝাপসা দেখায় কতখানি পথ গেলে বেহায়া পথের চিহ্ন মোছে সেইসব নিরুত্তর প্রস্থান হাওয়ার সমান মেঘ করে আসে আলো ছেড়ে গেলে প্রিয় ছায়াতল ---------- রচনাকাল : জুন' ২০১৮

তোমাকে

১ তোমাকে দিগন্তে রেখে পার করি এতটা দুপুর কবিতা শেষের মুখে ঝড় নামে, জল তারপর যেন বা জলের ঘুম। নিঝুম এ আমবন তার পোয়াতিদশার কাছে ঝরে পড়ে থাকে ফুল। নক্ষত্র আকাশে যেমন... মুহূর্তে আলো হও, আলো ভেঙে ভেঙে যায় ২ মনে হয় বোঝ না কীভাবে দ্বিতীয়ার রাতচরা চাঁদ দূর থেকে একা একা চলে আসা মালগাড়িটির মতো অনায়াস আকাশ পেরোয় নিরলস পেঁচার মহিমা আমিও অল্প বুঝি। ঘুম পায় জানালার ওপারে পথে বিশুদ্ধ মাতাল এক কাকে যেন বারেবারে বার্তা পাঠান- "শামকো ভুলা শাম কা ওয়াদা... সঙ্গ দিয়ে কে জাগী রাধা..." বৈরী সতিন হাওয়া উঠোনেতে পায়চারি করে ৩ চৈত্র কুলীন মাস, অপেক্ষাকে বলতে শুনেছি সেজে ওঠা নেই তার তেষ্টার ঘোরে ঘোরে কেটে যায় অসুখের দিন "এইবেলা ভালো আছি । সেরে উঠবই, দেখে নিও" না লেখা চিঠির পাশে আলো বলে " সেরে উঠছি না " চিঠি লিখবার ছলে আলোকে সে জানায় এটুকু চিঠি লিখবার ছলে প্রতিবার শোনায় নিজেকে --------- রচনাকাল :মার্চ' ২০২০

আরোগ্য

১ চাঁদ ও রেডিও। মৃদু স্বরে বেজে চলা প্রিয় দশকের গানগুলি। এসব তো অজুহাত তোমার কথা-ই আসলে যা ঘুরে ফিরে আকাশের পথে সোনালী আলোর মতো ফুটে আছে দূরে কাছে নিঝুম বাগান, অন্ধ পেঁচাটি আর ছেড়ে যাওয়া শেষ ট্রেন। একাকী স্টেশনে গরম চাকার ঘ্রাণটুকু ছড়িয়ে কেবল ঘুম আসেনি যে আজ-ও। তুমি এলে? তারা খসা দেখে হাতদুটি জড়ো করে আবার চাইলে মনে মনে? তবু এ অসুখ বুঝি সারবে না কোনওদিন ২ এত চাওয়া রেখো না আঙুলে ভোরের নিকটে চাঁদ-ও দ্যাখো ফিকে হয়ে এল ঘোর থেকে যতবার জেগে উঠি, দেখি ছেঁড়া ছেঁড়া কুয়াশা আলোকে গ্রহণ সাজিয়ে রেখে রাত হেঁটে গ্যাছে কৃষ্ণা-প্রতিপদে দুয়েকটি তারা, যেন তোমারই জ্বালানো জাগর প্রবল অসুখে তেতে ওঠা এ কপাল আর তোমার সোনার হাত স্পর্শ মাত্র পুড়ে যায় পুড়ে যায় পাইনের, দেবদারু পাতার মতন খাদের কিনার। এত চাওয়া নিয়ে বলো কোথায় দাঁড়াবে বরং তফাতে থাকো। আমাদের স্বপ্নগুলো হুবহু মিলুক এসে না পাওয়া আরোগ্যের সাথে -------- রচনাকাল : ২০১৯

আরণ্যক

তোমাকে বেপথ বলে জেনেছে পথিক যেখানে মনুষ্য-শ্বাস পড়েনি কখনও সাহসী ফুলের ঘ্রাণ একা একা খেলে যায় শান্ত বাতাসে যেন শিশুর দুপুর পাওয়া, কমে আসা গ্রীষ্মের দিন মায়া জ্যোৎস্নায় হ্রদে পরীদের অবগাহনের মতো জনশ্রুতি এবং মৃগ শাবকের ক্ষণিকের আত্মীয়তা,সন্ত্রস্ত চাহনি এসব পাঠোদ্ধারে পটু নয় পথিক তেমন সে দেখেছে শেষ রাতে জনশ্রুতি কীভাবে সত্য হল শুধু ধ্রুবতারা তার রহস্যময়তা থেকে উঠে এসে কপাল ছুঁলেন তুমি বলো, কবিতা-ও বলো নিতান্ত অক্ষরজ্ঞানহীন এ অভাগা ফিরে গিয়ে তোমার বিষয়ে মিথ্যা ছাড়া কী লিখবে আর ----------- রচনাকাল: মার্চ' ২০২০