"অগণন কুসুমের দেশে নীল বা নীলাভবর্ণ গোলাপের অভাবের মতো তোমার অভাব বুঝি" বিনয় না? বিছানার এককোণ থেকে একটু ঝুঁকে পড়ে প্রশ্ন করলো কৃতি। শেষ বিকেলের আলোয় তখন বিছানার যে অংশটা জানালার লাগোয়া, সেখানটা আলো হয়ে আছে। বাকি অংশে ছায়া পড়েছে পর্দার। সেই আংশিক আলোতেই ছোট্ট বইটার একটি পাতা খোলা। ফ্যানের হাওয়ায় উড়ছিল চাপা স্বরে। জানালায় রাখা মানি প্ল্যান্টের শৌখিন ছায়া পড়েছে তার উপর। সেও যেন বাইরের বাতাসে দুলে দুলে উঠছে। অরণ্যার মুখের যে অংশে আলো পড়েছে, তা সোনার বর্ণ মনে হচ্ছে যেন। বিদায়ী রোদ লেগে ঘামে চিকচিক করছে কপালের একদিক। বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে কৃতির দিকে ঘুরে তাকালো সে। বুকের কাছে বালিশ নিয়ে হাতের ভরে এতক্ষণ বইয়ের উপরে ঝুঁকে পড়েছিল। কৃতির প্রশ্ন শুনে আনমনে বললো, হুম, ফিরে এসো চাকা। পড়েছ? ― নাহ, বইটা নেই কাছে। কিছু বিক্ষিপ্ত লেখা পড়েছি। হয়ত সবগুলোই। তবে বিক্ষিপ্তভাবে। অরণ্যা মাথা নেড়ে বলে, ধর্মগ্রন্থ বোঝ? কৃতি শিরদাঁড়া সোজা করে সংজ্ঞা বলবার ভঙ্গিতে বললো, হ্যাঁ! যা পড়ে নিজের অস্ত্বিত্ব সম্পর্কে ধারণা জন্মায় ―কার্ল মার্কসের দ্য ক্যাপিটাল কারো কারো ধর্মগ্রন্থ ―ঠিকই। সাত্রে ...