সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

উপন্যাস — কোকুন ( প্রথম পর্ব ) ৬

"অগণন কুসুমের দেশে নীল বা নীলাভবর্ণ গোলাপের অভাবের মতো তোমার অভাব বুঝি" বিনয় না? বিছানার এককোণ থেকে একটু ঝুঁকে পড়ে প্রশ্ন করলো কৃতি। শেষ বিকেলের আলোয় তখন বিছানার যে অংশটা জানালার লাগোয়া, সেখানটা আলো হয়ে আছে। বাকি অংশে ছায়া পড়েছে পর্দার। সেই আংশিক আলোতেই ছোট্ট বইটার একটি পাতা খোলা। ফ্যানের হাওয়ায় উড়ছিল চাপা স্বরে। জানালায় রাখা মানি প্ল্যান্টের শৌখিন ছায়া পড়েছে তার উপর। সেও যেন বাইরের বাতাসে দুলে দুলে উঠছে। অরণ্যার মুখের যে অংশে আলো পড়েছে, তা সোনার বর্ণ মনে হচ্ছে যেন। বিদায়ী রোদ লেগে ঘামে চিকচিক করছে কপালের একদিক। বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে কৃতির দিকে ঘুরে তাকালো সে। বুকের কাছে বালিশ নিয়ে হাতের ভরে এতক্ষণ বইয়ের উপরে ঝুঁকে পড়েছিল। কৃতির প্রশ্ন শুনে আনমনে বললো, হুম, ফিরে এসো চাকা। পড়েছ? ― নাহ, বইটা নেই কাছে। কিছু বিক্ষিপ্ত লেখা পড়েছি। হয়ত সবগুলোই। তবে বিক্ষিপ্তভাবে। অরণ্যা মাথা নেড়ে বলে, ধর্মগ্রন্থ বোঝ? কৃতি শিরদাঁড়া সোজা করে সংজ্ঞা বলবার ভঙ্গিতে বললো, হ্যাঁ! যা পড়ে নিজের অস্ত্বিত্ব সম্পর্কে ধারণা জন্মায় ―কার্ল মার্কসের দ্য ক্যাপিটাল কারো কারো ধর্মগ্রন্থ ―ঠিকই। সাত্রে ...

উপন্যাস — কোকুন ( প্রথম পর্ব ) ৫

"শূন্যে ছোরা মেরে দুটো পাখি উড়ে যায় সময়মতন ঘুম ভেঙেছিল বলে মানুষ দেখতে পায় জানালার বাহিরে প্রকৃতি ― 'কী যেন করার ছিল, কী যেন করার ছিল' ― এই ভয় তাকে তাড়া করে" পাঁচ তলার এই জানালাটা থেকে বড় বড় বিল্ডিং আর গুচ্ছের উড়ালপুল ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। উপরে অসহ্য নীল একটা আকাশ। বিপদের মেঘ সরে আস্তে আস্তে পরিষ্কার হচ্ছে সবে। উড়ালপুলগুলো প্রায় ফাঁকা। না আছে যানজট, না আছে অহরহ গাড়ির হর্ন। হালকা সবুজ রঙের সুগন্ধি ছড়ানো পর্দাটা একটু সরিয়ে কাচের জানালাটা খোলার চেষ্টা করছিল গোলাপি পোশাক পরা কম বয়সী নার্সটি। অরণ্যা আজ একটু উঠে বসতে পেরেছে। সকালেই কেবিনের এ.সি বন্ধ করিয়ে জানালাটা খোলার আর্জি জানিয়েছিল রুটিন চেকাপে আসা নার্সটিকে। তার বোধয় ডিউটি আওয়ার শেষ হয়েছে। এই মেয়েটি নতুন। মুখে মাস্ক, টুপি আর সারা শরীর পি.পি.ই কিটে ঢাকা অবস্থায় বয়স চেহারা কিছুই ঠিকমতো আঁচ করা যায় না। অনেক্ষণ গভীর অন্বেষণের দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল অরণ্যা তার দিকে। মেয়েটি নিজের কাজ সেরে বেরিয়েই যাচ্ছিল এমন সময় অরণ্যা তাকে পিছু ডেকে বসলো।  আজ একটু গল্প করতে ইচ্ছে করছে তার। প্রায় তিনদিন এই বেডে একইভাবে মড়ার মতো পড়...

উপন্যাস — কোকুন ( প্রথম পর্ব ) ৪

ভাবতে পারছিস! সন্দেশ কি না প্রেম করছে! একটা কোথাকার উটকো মেনি... এই এই, গালি দিবি না। গালি দিবি না একদম, কৃতিকে কথা শেষ করতে না দিয়েই ফোনের ওদিক থেকে চেঁচিয়ে ওঠে সাম্য। চুপ কর তো, আমি গালাগালি করি না! পায়ে টোকা মেরে খিঁচিয়ে ওঠে কৃতি। ― তাছাড়া ছেলেও যে মায়ের পথ অনুসরণ করবে এমন তো আর কথা নেই, তাই না! সাম্যর কথায় কেমন যেন গুম মেরে গেল কৃতি। অন্য সময় হলে রিয়েক্ট করত। সাম্যর খোঁচা খেয়ে পাল্টা খোঁচা দিতে সেও ছাড়ত না। কিন্তু আজ তার মনটা একটু খারাপ। এসব কথা তুলতে তার মোটেই ইচ্ছে করলো না। খানিক চুপ করে থেকে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে বললো, কিন্তু আমার বৌমা'কে দেখতে হেব্বি, জানিস! তাহলে আর কী! শুভদিন দেখে আট পা এক করে ঘরে তুললেই তো হয় ― হ্যাঁ রে! তারপর ছানা-পোনাগুলোকে তোর বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসব, কেমন? ― সে কী সুকৃতি! ওরা তোমার নাতি নাতনি না! সাম্যর কথা বলার কায়দায় সজোরে হেসে ওঠে কৃতি। সাম্য-ও। তারপর একটু ঢোক গিলে সাম্য আবার বলে, আজ একবার বেরবো। অরণ্যা'দির কাছে যেতে হবে। তুই যাবি? ― আজব পাগল তো তুই! এই পরিস্থিতিতে আমি খামোখা কেন যাব। আর তুই-ই বা কেন বেরোবি। বললি তো এখন আউট অফ ডেঞ্জার।" ...

উপন্যাস — কোকুন (প্রথম পর্ব ) ৩

রাত্রির ঘোর তখনও রয়েছে। জীবনে এরকম নিদ্রাহীন, আতঙ্কের রাত্রি বোধয় এর আগে কখনও কাটেনি কৃতির। সারারাত্রির ঝড়ের শব্দের যে অনুরণন, তা থেকে বেরোতে পারছে না কিছুতেই। সকাল তখন প্রায় ছ'টা হবে। ভোরের দিকে ক্লান্তিতে চোখ বুজে এসেছিল তার। সম্বিৎ ফিরলো একটা হৈ-হৈ শব্দে। মাথা তুলে দেখলো বন্ধ জানলা দিয়ে সূর্যের হালকা গোলাপি আলো এসে পড়ছে। ওটুকুই যা আলো। বাকিটুকু ঘর ভর্তি অন্ধকার। মাঝরাতের পরেই এপার্টমেন্টের ব্যাক-আপ ইনভার্টার ফেইল করেছে। একটানা একটা সাইরেনের শব্দ হয়ে চলেছে। সেই গতকাল সন্ধের পর থেকেই। বোধয় পাশের গ্রীন টাওয়ারের সিকিউরিটি সিস্টেমের শব্দ। ষোল তলার বিল্ডিং। ক্ষয়ক্ষতি কিছু হয়েছে কি না কে জানে। কৃতিদের এপার্টমেন্ট সে তুলনায় অনেকটাই ছোট। পাঁচ তলা মাত্র। ক্ষতির সম্ভাবনাও কম। উপরের তলার দুয়েকটা জানলার কাচ ভেঙে পড়ার শব্দ পেয়েছিল যদিও। চোখ বন্ধ করে শুধু রাতটুকু পেরোবার অপেক্ষায় ছিল। এখন ঘুম ভেঙে সন্দেশকে-ও খুঁজে পাচ্ছে না কৃতি। রাত্রে তো কোলের কাছে নিয়েই শুয়েছিল। গেল কোথায় ! ও তো এরকম সময় কৃতিকে ছেড়ে কোথাও যেতেই পারে না। ফোনের চার্জও প্রায় শেষ। বেশ কয়েকজনকে পরপর ফোন করে নিতে  হবে...

উপন্যাস — কোকুন ( প্রথম পর্ব ) ২

* পরের দিন স্বাভাবিকের থেকে একটু বেশিই বেলাতে ঘুম ভাঙলো কৃতির। মাথা তুলতেই চোখে পড়ল সন্দেশ ঘাপটি মেরে বসে আছে ওর পায়ের কাছে। কৃতির ডাক পেয়ে ধীর গতিতে উঠে এলো তার কোলের কাছে। গুটিশুটি মেরে কৃতির শরীরের ওম নিতে লাগলো। কী হয়েছে রে বাবু, এত ভয় পাচ্ছিস কেন, এই তো আমি দ্যাখ, সন্দেশকে আদর করতে করতে বলছিল কৃতি। যতই আরাম পায়, সন্দেশ আরও যেন সেঁধিয়ে যায় কৃতির বুকের ভেতরে। বাচ্ছাটার এরকম ব্যবহার ওর পরিচিত। তথাকথিত মানুষ নামক জীবটির চাইতে ওরা অনেকটাই বেশি সেনসিটিভ। যে কোনও অস্বস্তিকর সম্ভাবনার আঁচ ওরা পায়, এবং রিয়েক্ট-ও করে। সন্দেশ এরকম কিছুর আঁচ পেলে কৃতিকে ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না। যতখানি সম্ভব ওর শরীর ছুঁয়ে থাকে। চুপচাপ। মুখে কিচ্ছুটি বলে না। সন্দেশের দিক থেকে চোখ সরিয়ে কৃতি এখন তাকিয়ে আছে কাচের জানলাটার দিকে। রাত্রে বরাবর জানলা বন্ধ করে শোওয়া অভ্যেস কৃতির, সে যতই গরম হোক না কেন। একে তো সন্দেশের রাত্রে ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে, আর সে নিজেও অস্বস্তি বোধ করে। বন্ধুরা শুনলে হয়ত আবার খ্যাপাবে তাকে। সত্যিই এতখানি বড় হয়েও কৃতির ভূতের ভয়টি আর গেল না ! ফ্ল্যাটের এদিকের জানলাটা যদিও ...