সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সহজপাঠের দেশে - ভূমিকা

আদ্যোপান্ত একটি কর্পোরেট জীবন চেয়েছিলাম একসময়। তারপর ভাগ্যচক্রে তা আর হয়ে ওঠেনি। এ নিয়ে নিজেকে দোষারোপও কম করিনি। এখন ভাবি অভিশপ্ত পলাশজন্মের মতো আমারও এই দ্বিতীয় জন্ম একদিকে যেমন অনেকটাই কেড়ে নিয়েছে আমার থেকে,উল্টো পিঠে কত কিছুই না দেখার সুযোগ করে দিল। এই যে রোজ ইস্কুলে যাই, বাচ্চাগুলির ফুলের মতো মুখগুলি দেখি। এত সারল্য, এত আন্তরিকতা আর কোথায়ই বা পেতাম! এই বাঁকুড়ার লালমাটি, বৃষ্টি ভেজা শাল,সেগুনের বন, বাঁকুড়া-ছাতনা জাতীয় সড়কের (NH314 সম্ভবত) দুপাশে রাধাচূড়া,কৃষ্ণচূড়ার বস্তি, বনদপ্তরের জঙ্গলে কাজুবাদামের মেলা,আর মাতাল করা মহুয়ার ঘ্রাণ- এসব না ছুঁতে পারলে বুঝি আমার কিছুই লেখা হত না। চন্ডীদাসের ভিটে দেখা হত না,দেখা হত না যুবরাজের হতশ্রী প্রাসাদের পাশে শাপলা ভরা দীঘিটিকেও। শুশুনিয়াকে ডানদিকে রেখে যে রাস্তা ঢুকে গেছে আমার রোজনামচায়,সেই ছাতনা-কেঞ্জাকুড়া রোডের পলাশবন আমার বসন্তদিনের সফরসঙ্গী না হলে সারাটা বছর কার পথ চেয়ে থাকতাম জানি না। যেমন এখানে আসার আগে পর্যন্তও জানতাম না পলাশ দেখলে আমার কান্না কেন পায়। এবছর দেরি করে এসেছে সে। গাছ ভর্তি পলাশ দেখা হয়নি আর। তার আগেই স্কুল বন্ধ। দু-মাস হল প্রায়,রাস্তাটির সাক্ষাৎ পাইনি। সোনাঝুরির বনে একলা পড়ে থাকা দেবীর থান, ভাঙা সাঁকো, ঘুরে ঘুরে মরা বিকেলের হাওয়ারা এখন কেমন আছে জানতে ইচ্ছে করছে বড়। খুব তাড়াতাড়িই দেখা হোক। আষাঢ়ে মর্নিং স্কুল বসুক আবার সহজপাঠের দেশে। তো যা বলতে চাওয়া। আমার ভাগ্যচক্রে পাওয়া এই সহজপাঠের দেশ নিয়ে সিরিজ লিখছি। এখানে ভূমিকাটুকু দিয়ে রাখলাম।

৯ মে'২০২০

মন্তব্যসমূহ