সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মৌরিফুল

  এমন কেয়ারি-করা দ্বিপ্রহর। ঝাঁঝরি বেয়ে ও-বাড়ির ছাদের নবীনরোদ নেমে আসছে এ বাড়ির বারান্দায়, সিঁধ-কাটা চোরের মতো, ধীরপায়ে। সন্তর্পণে। লাল মেঝেতে আলো-ছায়া কেমন মৌচাক এঁকে গ্যাছে; পাঁচিলে বসে মেনি'টা যখন চারাপোনা বাছা দেখছিল একমনে। সূর্য পুকুর পাড়ের দিকে কিছুটা হেলে যেতেই সেসব ফিকে হয়ে খড়ি মাটির আল্পনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পর্দায় চন্দন ঘ্রাণ। আজ এ ঘরে আমিষ-অন্ন। বেশ কয়েকটি শাক, পোস্ত-র দুপুর পেরিয়ে আজ সামান্য সরষে বাটা। পাতের পাশে এক-দু কুচি কাগজিলেবুর আয়াস। কলতলায় কড়াই উপুড় করে ইট-গুঁড়ো ঘষছে মাধুর মা। দাঁত শিরশির করছে সে শব্দে। বাঁশের মাচায় শহর ফেরত কাপড় শুকোচ্ছে। দুটো কাক এসে বসেছে হেজ গাছের বেড়ায়। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাত নেড়ে কাক দুটোকে উড়িয়ে দিতে গিয়ে গৃহস্থের শাঁখা-পলা রিনরিন করে উঠলো। শোবার ঘরে গতরাত্রের শহর থেকে আনা রেকর্ড চলছে..."লট উলঝি সজা যা বালম, ম্যায় না লাগাউঙ্গি হাত রে"..... এই সময় শুকনো কাপড়'কটা কাঁধে ফেলে দুহাতে শাড়ির ঝুল তুলে একছুটে উঠোন পেরিয়ে চলে যাওয়া যায় অন্দরমহলে। নিরীহ পাপোশ মাড়িয়ে দোরে খিল দেওয়া যায় পাড়া-পড়শি জানিয়ে। তারপর নকশা বোনা সাদা চাদর...

আবহ সংগীত

১ ফটক ওঠেনি। লালবাতি জ্বলে আর নেভে দূরের একটানা হুইসেল শহুরে বাতাস নিয়ে এল এ নোনা দেওয়ালে তার ছিঁটে ফোঁটা এসে লাগে প্রবল ব্যস্ততায় ধুলো উড়ে যায় তোমাকে লেখার কথা মনে পড়ে সঙ্কোচ মনে পড়ে। ভেজা বিবাহবাসর থেকে দ্বিধাগ্রস্থ অন্তরার ঘোর ভেসে আসে ২ আলোর বারান্দা থেকে ফিরে গেছ। পশ্চিম আকাশে স্লেট রঙ মেঘ। আর বৃষ্টি পেরিয়ে গেলে তুমি অজুহাত ― সে আমার প্রিয় বিষয়ের মতো, তাই সদরের একপাশে অপেক্ষা-কে বাঁধিয়ে রেখেছি ৩ তোমার না থাকা জুড়ে এখনও কেমন বাজে অবিরাম এই জল, জলের সেতার। ভেজা খড়ের কাঠামো তুলে নিয়ে আসে নিঝুম দেউল-এ যে ঋতুর কথা আর সগর্বে বলতে পারি না দীর্ঘতর রাত যেন তার-ই আচঁলে, আঁধারে হেমন্ত প্রদীপখানি নিভিয়ে দিয়েছে। আলো দু'ঘর তফাতে। শুনি বিষণ্ন সানাই পাড়ার বান্ধবীটি হাসি মুখে দূরে চলে যায় ৪ এখন আনন্দদিন। পলকের মাঝে বসো তুমি বিকেলের দরোজায় অনাহুত মেঘ। তার পরনের চটিজোড়া হাহা বাতাসে মিলিয়ে গেল বুঝি অভিযোগ জানালো সে। ফুটব না ফুটব না করে সাদা রঙ্গনগুলি ফুটেছে উঠানে এতদিনে ঝরে পড়বার সাধে কিছুটা আলোর ভাগ-ও স্তিমিত হয়েছে তুমি কবিতা, জলধারায় এস, এ নৈবেদ্যটুকু হাতে তুলে নাও -----...

ডিসেম্বরের পাতা

১ ছায়াটির কাছাকাছি এইখানে বিকেল নীরব কে যেন দেখিয়ে গেল নুইয়ে পড়া পাহাড়টিকে আমরা দাঁড়িয়ে ঠায়, ময়ূর আসেনি একটিও লাল সূর্যাস্তের পাশে পালক ছড়িয়ে রেখে গেছে টিলার ওপারে মাঠ। সবুজের ফাঁকে মৃদু আলো জনপদ যেন এক পরিপাটি শবর কিশোরী তার আনত মুখের কাছে বসে আমরা দুজন যাবতীয় বোঝাপড়া সেরে নেব ভেবেছি এবারে ২ নেমেছি যখন, ভোর। হাইওয়ে, ঘুমভাঙা কোনও  এক শিশুর আদলে জড়িয়ে রেখেছে শীত। পাশে আবছা গানের কলি, ধোঁয়া মাখা চায়ের দোকান পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা। প্রিয় জলাধারে ডিসেম্বরের যত মনগড়া দৃশ্য সাজানো অথচ দেখাই কাকে, বিশ্বাসই করবে না জানি মুঠোফোনে একই নামে কতবার আঙুল রেখেছি আগেও এসেছি যেন, আগেও মেখেছি বহুবার সবুজের খুব কাছে শিশিরের প্রসাধন। শোনো তোমায় বলিনি শুধু বাড়াবাড়ি মনে হয় যদি সঙ্কোচে রাখিনি এই বছর শেষের আয়োজনে ------------------------ রচনাকাল : ডিসেম্বর ২০১৮ ৩ এবং এ জাড়মাস একাকীই এসেছে এবার শাল পলাশের চোখে নিভে গেছে গল্পেরা শুকনো পাতার ধোঁয়া তবুও কোথাও মৃদু আঁচে স্মৃতিদের বাঁচিয়ে রেখেছে। আমি একই পথে হাঁটছি খেয়ালে। পাথুরে জলধারায় পা ডুবিয়ে চেয়ে আছি কুয়াশার দিকে ওই নিঝুম টিলার প'...

হেমন্ত কুলীন ঋতু

১ কবেকার ভাঁজ করা চিঠিপত্র ছড়িয়ে আছে হেমন্তের টেবিলে                            চাঁদ বেশি দূরে নয়                       তোমার চোখ                    হলুদ আলো অথবা গরাদে মাথা রেখে ঝিমিয়ে পড়া জোনাকীর অপেক্ষা  সবটুকুর চেয়ে দুর্বোধ্য এ অক্ষররাশি                            আমায়                                     অসুখ চেনায় "ভালো আছি " পরবর্তী হাইফেনেই তুমি সমুদ্র হয়ে ওঠো                                আর ... পরিচিত সম্বোধনগুলি আরেকবার কাঁথামুড়ি দিয়ে শোয়                          শুশ্রূষার নামে  ইতি'...

গানের ক্লাস

১ ক্রমশ ঋনী হয়ে আসছে ত্বক। পড়ে পাওয়া রোদ আর দুপুরের ফুটনোটে প্রেমিক বিকেল মাফলারে মেরুণ'ই ভালো ― বলেছিল কেউ  তারপর অনেক যত্নেও উলকাঁটা রপ্ত করতে পারেনি আঙুল  সোজাকাঁটা-উল্টোকাঁটা; শীতকাল, মায়া শীতের বিড়াল প্রিয়। নখের মাপ'ও জানা, তবু নিরাপদ অসাবধানে হাতমোজা ফেলে উঠে গেছে বিকেলের ছায়া ২ হারমোনিয়ামের ওপাশে বসেছে মেঘ চৌকাঠে রাখা তার ভেজা ছাতা। মেঝের শরীর জুড়ে ফোঁটা ফোঁটা জল জল; নরম আলোর মত মেঘের শরীর'ও পর্দা সরিয়ে দিলে কাগজের নৌকোর দল হাওয়া ঠেলে ঢুকে পড়ে। মেঘের গলার কাছে বৃষ্টিরা দুলে ওঠে স্বরলিপি নামে রোদ মুঠো মুঠো পুষেছে আবেগ ――――――― রচনাকাল : নভেম্বর ২০১৭ 

বছর শেষের রিল-এ

১ গোটানো সুতোর চাঁদ  নিঝুম পাড়ার গতি। একটি মাত্র মাকু, সচল নতুন গামছা বেচে কিনেছে কর্কট ফুলে ওঠা চৈত্রমাস। ফের চতুর্থটি এঁটে আছে অনায়াসে দ্বিতীয়ার কোলে                   এবং বেলার শেষে ঘামের কলম ঝেড়ে আবেদন পত্র লেখা সেরে বাড়তি গামছা বেঁধে ফেরে তার বেকার তিরিশ ২ সারসের ভেজা ঘ্রাণ ধূসরের আগে ও পেছনে অপয়া পালক বেছে ভাসিয়েছে জলজ দেবতা। বাকিটুকু নৈবেদ্যর পাতে তখনও জীবিত কেঁচো কিছু গড়িয়ে নেমেছে। ঠোঁটে বিগত দিনের যত পরিযায়ী এঁটো ছুঁয়ে ছুঁয়ে সাজিয়েছে ফুল। আজ বাসন্তীও যাবেন ভাসানে ------------- রচনাকাল : ২০১৮

খেয়ালী

১ তপ্ত দুপুর অপেক্ষাদের শেষ বৃষ্টিস্নাত গন্ধে মাখামাখি নিজস্বীদের প্রুফ রিডিংয়ের পরে শখের চশমা এমনি খুলে রাখি একটু দূরেই সন্ধে নামলো ঝোপে ঝিঝিঁপোকার ভরন্ত সংসার ওরাও বুঝি ফোকাস এডিট জানে ভার্চুয়ালি সাজায় অন্ধকার বৃষ্টি বিকেল ফুরিয়ে এলেই ঘরে দুচোখ খোঁজে তুলসী তলার আলো ব্রাইটনেসের অভাব ভীষণ মনে দিন যাপনের স্যাটাস ভীষণ কালো মেঘের কোলে তারা ফোটার গান কলম হাতে চাঁদ সেজেছে কবি সময়রেখা পসরা সাজায় ফুলের দেওয়াল জুড়ে সুখপাখিদের ছবি ২ মাঝরাত, শরীরের উষ্ণতা কমে এলেই শীতের আদর মনখারাপের চাদরটা টেনে নিয়ে বেশ খানিকটা হাতের মুঠোয় ফসকে যাওয়া 'তুই' এক চাঁদেরই ক্ষয়ে যাওয়া আছে বোধহয় আর বাকিদের কেবলই আয়ুক্ষয় আজকে ভীষণ ইচ্ছে করছে চাঁদ হতে তুই হয়ত এ সময় জয়পুরের এক রিসর্টে চকচকে পাথুরে মেঝের নকশা চিনছিস ঠান্ডা পানীয়ের গেলাসে জোড়া চুমুক আইসকিউবদুটো গলছে, মিশে যাচ্ছে দু'জনাতে তখনই, ব্যালকনি বেয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে একটা আলো, তোর গোলাপি মুখের ঠিক পাশেই যদি বুঝিস, ওটা আসলে এই কানাভাঙা চাঁদটার ৩ দীর্ঘশ্বাসের বয়স বাড়ছে দ্রুত চোখের সামনে গজিয়ে উঠছে চর এমন একটা পথের সাথে দেখা যে পথ নিজ...

এখানে মেঘের জ্বর

১ আসলে এ দীর্ঘ পথ একা একা ফিরব ভেবেছি বারান্দা থেকে যে ঘরে জলের শব্দ শোনা যায় ততখানি যেতে যেতে মনে হল পাহাড়ে কোথাও উঁচু দেবদারু বন, চা বাগানে বৃষ্টি নেমেছে তার ছেঁড়া আঁচলের ঘ্রাণ, পাইন পাতার মতো গুঁড়ি গুঁড়ি স্বর এসে মিশছে এ শুকনো হাওয়ায় এদিকে মেঘের জ্বর, রোদে পোড়া অসুখী শহরে ছায়া সরে এলো, তুমি নীল শাড়ি রাস্তা পেরোলে ২ কোনওদিন মনে পড়বে না ভেবে দুজনেই আলাদা আলাদা স্মৃতি ভাগ করে বাড়ি নিয়ে গেছি শহরে বর্ষা আর ফিরবে না এই বিশ্বাসে পরিচিত পথ-ও যেন এ ওকে চেনেনি বহুকাল অথচ অকস্মাৎ মেঘ ভাঙা জল আর তুমি ছাতা খোঁজবার নামে এত এত পালক ঝরালে ওই প্রজাপতি ব্যাগ, সাথে যতগুলি পাখি উড়ে গেল তারা জানে আমাদের এই একটি আকাশ ছাড়া বেশি কিছু ছিল না ভোলার --------- রচনাকাল : জুলাই ২০১৯

অক্টোবরস

১ দীর্ঘদিন পর কথা হল। আমরা পরস্পরের থেকে স্মৃতিদের গুটিয়ে নিয়েছি। ঠিক যেন নতুন আলাপ বহুবার আঙুল কেঁপেছে, এসময় আর যা যা হয় তুমিও কি টের পেয়েছিলে, যদিও ঝড়ের মাস নয় ঝড় উঠেছিল। জানালায় ফিরে যেতে দেখেছি আলোর সুর, তোমার গাওয়া গানের যতটুকু জমাতে পারিনি ভালো আছো শোনবার পর আরও কিছু বলতে চেয়েছো মনে হল। সময় ছিল না, যেমন থাকেনি প্রতিবার শুধু আমি থেকে গেছি খুব সুখ সুখ এই অভিনয়ে ইদানিং সব সেরে ওঠা নিজে নিজে শিখে নেবো ― ভাবি ২ আদরের মতো স্বাদ রিনরিনে চুরির আওয়াজে ঢাকা দেওয়া খাবারের পাশে সে যখন এসে বসে, চোখ প্রতিটি গ্রাসের সাথে ভালোবাসা মেখে মুখে তোলে এসব দৃশ্য থেকে রাতবালিশের কাছে ফিরি ছাতিমের ঘ্রাণ যেন ঘুমের ওষুধ। জানালার জাল কাটে আলো। দূরে কারা ভালো হওয়া লিখে রাখে ডায়রির ভাঁজে। আমাদেরও খেইহারা ব্যথা চাঁদ হয়ে ঝুলে থাকে উৎসবে, দশতম মাসে ------------ রচনাকাল : অক্টোবর ২০১৮

জন্মদিনের চিঠি

তোমাকে দু-চার কথা লিখবো ভেবেছি। এতদিনে মনেহয় ও শহর ভালোবেসে ফেলেছ কিছুটা বলেছিলে, ছোট এক ব্যালকনি পেয়ে বেশ খুশি আগামী শীতের আগে টব কিনে সার,মাটি দেবে একটি চারার নাম 'মন' রেখো। আলোছায়া এনে যতনে সাজিও তাকে। ফুল হলে জানিও, কেমন জানালায় আলো এসে পড়েছে। এখনই দূর থেকে মন্ডপের চূড়া দেখা যায়। এসময় টের পাই উৎসব ফুরোলেই উপহার সাজানোর পালা অথচ আঙুল ছুঁয়ে শুভেচ্ছা জানানো হবে না রাগ হবে ? যদি বলি এমনিই ভুলে গেছি, আর বুড়োপলাশের মাঠে জোনাকিরা হারিয়ে গিয়েছে ! ক্রমশ কমছে বেলা। অক্টোবর দাঁড়িয়ে উঠোনে তুমিও এ জন্মদিনে ভুলে থাকা শিখে যাবে, দেখো --------- রচনাকাল : অক্টোবর ২০১৮