সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জুন, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কুসুমপুর

১ দীঘি ছিল এখানে কোথাও। সাউথ কেবিন-র পাশে বুড়ো পলাশের গুঁড়ি এখনও রয়েছে দীঘিটি মরেছে। চকচকে বহুতল তার-ই নামে, 'কুসুম সায়র' শ্বেত পাথরের মেঝে নতুন হয়েছে। স্টেশন মাস্টারের ঘরে সাদা এ.সি-টির নিচে সাজানো ফুলের টব জানালা দরোজা দিয়ে হাওয়া আর ঢোকে না তেমন তবু মেঘ করে আগের মতোই। ভেজা পাঁচিলের গায়ে কৃষ্ণচূড়ারা ঝরে থাকে। সাড়ে-বারো মিনিটের লেট প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকে পড়ে লোকাল-র আলো দেখা যায় তারপর বাঁশি। মরা বিকেলের শোক পেয়ে বসে যেন তোমার আসার কথা আগে থেকে জানা গেলে কত জন্ম পুরনো এই মাস্টারি ছেড়ে দেওয়া যেত ২ কুসুমপুরে এখন দূরপাল্লার ট্রেন থামে। ভোরের আগেই শহরে পৌঁছে যায় ঝুড়ি ঝুড়ি পদ্ম,শালুক। তারা ভাঙা পাঁচিলের গায়ে জোড় গাছটির কথা বলে না তোমাকে? বলে না ঢালাই পথ, নতুন মাচানটির কথা? অথচ তোমার কথা আমায় প্রতিটি ট্রেন বলে প্রবল বৃষ্টি ভিজে মালগাড়ি যখন দাঁড়ায় কোথাও নীল ত্রিপল উড়ে গ্যাছে ঝড়ে। গরম চাকার শ্বাস বহুদূর থেকে একা একা চলে আসা গার্ডটির চোখ এসব পড়তে বসে তোমার চিঠিটি আর পড়া-ই হয়নি- ভেবে নিই তুমি-ও লিখতে বসে কী এমন ভাবো, একটি মাত্র চিঠি এত বছরে-ও শেষ করলে না ----------- (প...

ভ্রমণ ৫

অপেক্ষার মতো অবাধ্যতা আর কিছুতে নেই। বড় বেশি একরোখা, যাদের প্রেম ছেড়ে যায়। শীত,বরফ,কুয়াশা-এসব শব্দ নিয়ে আমি আর লিখবো না,ভাবি। লিখি খাদ, লিখি গড়াতে গড়াতে ছোট হয়ে আসা প্রিয় প্রিয় ভ্রমণ, তোমায় বসিয়ে রেখে পাইনের বনে,জেনো এবছরও শহরমুখী হবো।  খোঁজ নিও। গাছেরা তো জানতে দেবে না আমাকে কি কিনে নেওয়া সহজ ভীষণ, জাদুমণি ? ----- ৩ নভেম্বর' ২০১৮

ভ্রমণ ৪

যে মেঘ দুপুর শেষে ভিনদেশি ফেরিওলা ,তার ভ্রমণকাহিনী থেকে পলাতক নীলরঙ , ঘুড়ি       বিগতবিকেল                           এককোণে লাটাই শোয়ানো পোড়াকাঠ , ওবাড়ির ছাদে ডাঁইকরা। আঁচলের নামে চিঠি আসতে দেখিনি তারপর লোডশেডিং শেষবার রূপকথা পড়ালো যেদিন    রেলিঙের ভগ্নাংশে জংদাগ বাড়ছে নিয়ত কোঠা থেকে ঝুলে থাকে নিরুপায় শাওন মাহিনা ------- ১৭ জুলাই' ২০১৮

ভ্রমণ ৩

প্রতিবারই ঝুঁকে পড়ো। বেসামাল রেলিং সাহসী  নিশানা অব্যর্থ,  অপরের সাক্ষী নেই পাইনশরীরে, কাঁটা ছাড়া হাটখোলা। ভোর। এই কুয়াশায় লুকোনো যে খাদ খবর হয়না তার দুয়েকটা পথ মনে হলে গরম চায়ের কেচ্ছা, মনযোগে পড়ছি  তোমাকে লাগেজ, স্লীপিংপিল নিরাপদ দূরত্বে শোয়ানো -------

ভ্রমণ ২

এহাতে বিয়োগরেখা  পূর্বাভাস, মুঠোর আড়ালে থেকে আবহাওয়া শোনায়  গতিহীন; এ গন্তব্য ইশারাবাগীশ। ঝাঁপডানা কতকাল রেলিঙে শোয়ানো। নির্ঘুম পালকও তার পাঁজিদেখা ভোরের লাটাই                 অনামিকা আলগা কেটেছে সেই গিঁটে পশ্চিমে মেঘের গড়ন ছন্দবদ্ধ, তবু মন্ত্রপুত সুতোঘুড়ি কব্জিতে বাঁধবার আগে তুমুল ঝড়ের পেটে দুর্ভাগ্য ফুলে ফেঁপে ওঠে ------                         

ভ্রমণ ১

এসব চরাই, মাঝে যতিচিহ্ন নেই আন্দাজে বাঁক লিখি। আড় ভাঙে কুয়াশায় মুছে যায় বিরামগ্রস্ত চাকাদাগ ভ্রমণ গড়িয়ে নামে সারিগান জানা কোন                           পার্বত্য প্রেমিকার চোখে টুকরো কাঠের সাথে আবদার ছুঁড়ে দেয় সেও বলিরেখা      উনুনে গুছিয়ে রাখে প্রতিশ্রুত শীতের বাগিচা পর্যটক ফেরে। অনুযোগে পোড়ায় শহর  মরশুমও জানায়নি তাকে                আমি তার এলাচ পাতার ভাগিদার ------- ১৭ এপ্রিল, ২০১৮

ঝুলন্ত কবিতা

দুপুরে অসাবধানে ঘুমিয়ে পড়েছিলে । ঘুম ভাঙলো যখন, খুচরো পয়সার মত বিকেল ছড়িয়ে রয়েছে বিছানায় । তার কয়েকটি আবার অচল'ও ...কুড়িয়ে রাখছ পরম যত্নে । এরইমধ্যে বৃষ্টি ডেকে গ্যাছে বেশ কয়েকবার । তোমার শোনা হয়'নি । তোমার দেখা হয়'নি মেঘের আলোয়ান গায়ে ঘরফেরতা শহরতলির মুখ । প্রায়ই এমন হতে হতে চারপাশটা অচেনা হয়ে উঠছে ক্রমে । কলিং বেল ,এঁটো বাসন, আবাসনের খুঁটিনাটি ...এসব উটকো অতিথিদের বিদায় জানিয়ে হাঁপ ছাড়লে অবশেষে ।  চায়ের কাপে সুগার-ফ্রী গুলতে গুলতে জানলার কাচে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে চাইলে তুমি...ঠোঁটের বাঁ পাশের ফোসকা ছুঁয়ে আকাশের জ্বর মেপে নিলে অভ্যেসমত । সময় তবুও তোমার সাথে কথা বলছে না l কয়েক পা এগিয়ে যাওয়ার গর্বে পেছন ফিরে দেখছে তোমায় ...কথা বলছে না । তোমার দৃষ্টি স্থির তবু তারই দিকে । তোমার দৃষ্টি শূন্য...তোমার সময় রোজ শূন্য থেকে শুরু হয়... দিগন্তের পায়ে আলতা বুলিয়ে গ্যাছে গোধূলি রঙের মেয়েটি । তোমারও হাতের কাজ হালকা হয়ে এসেছে এতক্ষণে । পাশাপাশি বাড়ির পর্দা সরিয়ে গল্প বলতে বসেছে প্রাইমটাইম সিরিয়ালগুলি । এদিকে তোমার টিভি রিমোট আলগোছে পড়ে থাকে চশমার পাশে চিরাচরিত...

বিশ্বাস

নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে, টুকরো টুকরো হয়ে যখন তোমার কাছে পৌঁছলাম তোমার হাতে তখন চিত্তশুদ্ধির প্রসাদ তখনও আমার পেছনে ধাওয়া করছে একটা ট্রাফিক সিগন্যাল, ঘিঞ্জি গলি, টিনের চালা ছেড়া পর্দার পেছনে চকচকে কিছু সস্তার শাড়ি আর পাঁচ পয়সার নাকছবি কাচের চুড়িগুলো মুখর শাপ-শাপান্তে ঢিল ছুঁড়ছে কিছু নেশাতুর লিঙ্গ আমার ঠোঁট ফোলানো অভিমানেরা তোমার চিবুক ছোঁয়নি তখনও শুধু বিস্ময়ে দেখেছে তোমার কপালোর স্বস্তিক রক্তক্ষয়ী অলিন্দে যাপন করেছে তোমার নির্লিপ্ততা তোমার গেরুয়া অহং বারবার ছুঁয়ে গেছে নীল ক্ষতদের অথচ শুশ্রূষা চেয়েছিল তারা সতীত্ব তো কবেই দেখেছ নিলাম হতে তুমি সেদিন মাছের বাজারে বেড়াতে আসা একমাত্র নিরামিষাশী সাবধানে ডিঙিয়ে গেলে পচা মাছের রক্ত ধোওয়া জল আজ নারীত্বকে আছড়ে মেরেছি তোমার চরণপদ্মে খাবি খাচ্ছে সে-ও তোমার মন্দিরের সামনেই দুটো রাস্তা বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মিশে গেছে ইলেকট্রিক চুল্লির মুখে এসে তবু বিশ্বাসটুকু নিয়েই ফিরতে চাই অবিশ্বাসে তোমার সাথে পাশের পাড়ার মন্টুর কোনও পার্থক্য দেখিনি আজ

সহজপাঠের দেশে - পর্ব ১

প্রথম পর্ব - পুনর্জন্ম জৈষ্ঠ্য মাসের এক অতিসাধারণ সংক্রান্তির কথা। সে বছর মাঝারিরকমের বর্ষায় ঝিঝিঁ-ডাকা সকালটুকু বেশ মনে পড়ে। আবছা, অন্ধকার। তার ফ্যাকাসে ত্বকে প্রাথমিক ভাবে কেবল হালকা জলের পোচ মেরেছেন যেন কোনও বিষণ্ন চিত্রকর। তারপর ক্যানভাস ফেলে ফিরে গেছেন জানালার পাশে। ধরা যাক সেই জানালাতেই আরও একটি আধ-খাপচা ক্যানভাস পড়ে আছে। বহু আগে তাতে রঙ পড়েছিল। চিত্র অসমাপ্ত তবু শিল্পীর আর আঁকবার সাধ হয়নি এতদিন। হঠাৎ কীসের খেয়ালে তাঁর চোখ পড়ল শুকিয়ে ওঠা ক্যানভাসটির দিকে। স্থানে স্থানে ধুলোর পরত। দয়া হল কি তাঁর? তিনি ধুলো ঝেড়ে প্যালেট হাতে মুখোমুখি বসলেন। আলগোছে তুলে নিলেন '391 sap green'... এই সামান্য ঘটনাকে যদি পুনর্জন্ম বলা যায়, সেদিন ৩১ শে জ্যৈষ্ঠ' ১৪১৭ ( ইং ১৪ই জুন'২০১০, সোমবার) - ক্যানভাসটির অর্থাৎ কি না আমার পুনর্জন্ম। এবার চিত্র, সে তো নিজে জানে না কালে কালে তার গতিবিধি কীভাবে পাল্টাবে। যদ্দুর মনে হয়, চিত্রকর-ও খুব সীমিতই জানেন। আজ ঠিক দশ বছর পরে যখন সেই পরিবর্তনের কথা লিখতে বসেছি, খানিক রোমাঞ্চিত হতে হচ্ছে। জ্ঞানাবধি যা ছিলাম-  অনেকখানি লাল, দু-তিন...

সহজপাঠের দেশে - ভূমিকা

আদ্যোপান্ত একটি কর্পোরেট জীবন চেয়েছিলাম একসময়। তারপর ভাগ্যচক্রে তা আর হয়ে ওঠেনি। এ নিয়ে নিজেকে দোষারোপও কম করিনি। এখন ভাবি অভিশপ্ত পলাশজন্মের মতো আমারও এই দ্বিতীয় জন্ম একদিকে যেমন অনেকটাই কেড়ে নিয়েছে আমার থেকে,উল্টো পিঠে কত কিছুই না দেখার সুযোগ করে দিল। এই যে রোজ ইস্কুলে যাই, বাচ্চাগুলির ফুলের মতো মুখগুলি দেখি। এত সারল্য, এত আন্তরিকতা আর কোথায়ই বা পেতাম! এই বাঁকুড়ার লালমাটি, বৃষ্টি ভেজা শাল,সেগুনের বন, বাঁকুড়া-ছাতনা জাতীয় সড়কের (NH314 সম্ভবত) দুপাশে রাধাচূড়া,কৃষ্ণচূড়ার বস্তি, বনদপ্তরের জঙ্গলে কাজুবাদামের মেলা,আর মাতাল করা মহুয়ার ঘ্রাণ- এসব না ছুঁতে পারলে বুঝি আমার কিছুই লেখা হত না। চন্ডীদাসের ভিটে দেখা হত না,দেখা হত না যুবরাজের হতশ্রী প্রাসাদের পাশে শাপলা ভরা দীঘিটিকেও। শুশুনিয়াকে ডানদিকে রেখে যে রাস্তা ঢুকে গেছে আমার রোজনামচায়,সেই ছাতনা-কেঞ্জাকুড়া রোডের পলাশবন আমার বসন্তদিনের সফরসঙ্গী না হলে সারাটা বছর কার পথ চেয়ে থাকতাম জানি না। যেমন এখানে আসার আগে পর্যন্তও জানতাম না পলাশ দেখলে আমার কান্না কেন পায়। এবছর দেরি করে এসেছে সে। গাছ ভর্তি পলাশ দেখা হয়নি আর। তার আগেই ...

বৃষ্টিফোঁটা ৭

দিগন্তে রঙ নিম্নচাপের, আকাশ ধোওয়া জলে আষাঢ়-ও আজ স্মৃতিপ্রবণ ।  আবছা মফস্বলের বর্ষা তবে একলাটি যায়, একলাটি ফের আসে মাঠে, কাদায়, গলির মোড়ে, লোকাল বাসে বাসে আমার-ও আজ ব্যস্ত সময় । শহর বদলেছে ফেরা তো আর হয় না তেমন মফস্বলের কাছে উইন্ডো সিট একই আছে, এখন অন্যকারও ভাঙা কাচের গল্প সাজায়, বৃষ্টিফোঁটার-ও দিনের পরে দিন গিয়েছে সহজে, অভ্যেসে সে রূপকথা ফুরোয়নি আর হৃদয়পুরে এসে . . . ফুরোয়নি না? বোধয় কিছু রয়েই গ্যাছে তবে বৃষ্টিফোঁটা, তোমায় আমায় আবার দ্যাখা হবে ? হয়ত কোনও লোকাল বাসেই আপাদমস্তক বৃষ্টিভিজে উঠলে এসে । আমার গ্রীষ্মপোড়া চোখ তখনও ঠিক 'দোজখনামা'য় । কিছুই দেখিনি তো! পাতার ভাঁজে শ্বাস জমিয়ে রাখছি অবিরত ঠিক যেরকম তোমার আমার প্রথম সাক্ষাতে থমকে ছিল জলের ট্রাফিক রাস্তাতে রাস্তাতে সে মোড় থেকেই মেঘের মিছিল, বিদ্রোহদের নাম খুঁজতে খুঁজতে বৃষ্টিফোঁটা, তোমায় হারালাম আর কি পাবো ! আর কি কোথাও অসম্ভবের মাঝে পড়ব তোমায়, চিনবো আবার আন্দাজে আন্দাজে ভাবছি এসব । এই শহরে অন্য রঙের জল অন্য আলো, গল্পগুলো-ও অশান্ত, চঞ্চল বদলেছে কাচ স্বপ্ন দেখার, জানলা এবং পথ-ও তবুও এই আষাঢ়-বিকেল ঠিক সে...

বৃষ্টিফোঁটা ৬

পলাশ ধোওয়া বৃষ্টি যখন ছিলই পূর্বাভাস দাবি মতন উইন্ডো সিট আর বিকেল ফেরত বাস এবারও কাচ হয়নি টানা । বার্তা এল জলের বসন্ত-রঙ মেঘবালকের ঝাপসা মফঃস্বলে সেই সে কবে, শ্রাবণ বোধ'য় । লেখার কথা ছিল হাওয়ার চিঠি, জলের পদ্য । আলোর অন্ত্যমিল-ও লিখব ভেবেও হয়নি লেখা । এমনই অভ্যেস তোমায় আবার পড়তে আসা, ফ্রেব্রুয়ারীর শেষ পাতলা চাদর । বিষ্ণুপুরী? মানিয়েছে একঘর সঙ্গে কে ও, শান্ত যুবক । ওই কি তোমার বর আমিও যেমন, খোঁজ রাখিনি । লগ্ন গেল কত স্বভাবতই বদলেছে ঘর । সত্যিই বিবাহিত? প্রবোধ জোগাই বন্ধু সে জন । কিংবা প্রেমিক। ভালো বৃষ্টি আসার আগের মতোই বিদ্যুৎ চমকালো আলোর রেখায় পড়তে পাওয়া স্পষ্ট ও ঠোঁট, চোখ এর বেশি কী চাইবে বলো ব্যর্থ মেঘবালক এবং শুধু বলতে চাওয়া ," জানতে পেরেছিলে- বৃষ্টিফোঁটা, ঠায় দাঁড়িয়ে বিরানা ম্যাহফিলে যে ছেলেটি তোমার নামের স্বপ্ন কুড়োয়, আঁকে একটি দিনের জন্য হলেও বন্ধু কোরো তাকে" কখন কীসব নাম রেখেছি, বলব ভাবি যেই বাস থেমেছে বাঁক পেরিয়ে তোমার পাড়াতেই  ঠিক তখনই ঝমঝমিয়ে, এমনি বেয়াদব ছাতা-ও তো আর নাওনি সাথে । ভিজিয়ে দিল সব আবছা ভীষণ আমার কাচ-ও । রাস্তা পেরোয় জল ফিরত...

বৃষ্টিফোঁটা ৫

ঘুরলে বছর অনেকটা মেঘ, এমনি হারায় মায়ের মতো বাদবাকি যা রাখতে চেয়েও হয়নি রাখা কার্যত সেসব দেনা গুছিয়ে নিয়ে শহর ফেরে । লোকাল বাস ভাবনা পোষা সিটের পাশে জানলা বসায় ইচ্ছেক্লাস আমিই প্রথম । বাধ্য বড়ই । রাস্তা শেখায় অন্ত‍্য‍মিল হাতের মুঠোয় কাচপোকা আর কাচের গায়ে মেঘমিছিল দৃষ্টি এড়াই, সহজ ভাবি । কিন্তু বলা বেশ কঠিন 'আজও যে তার ছুটির দেরি । বৃষ্টি এসো অন্যদিন' বৃষ্টি থামার ঢের অজুহাত । বরং তোমার আসার দায় মেঘের থেকে ধূসর খানিক, আলোর পাশে হালকা প্রায় মন তবুও সুর পেতে দেয় । বেসুর বাজে ছন্দ তার বিদ্রুপে ফের আঙুল থামায়, পথের গতি নির্বিকার ও নাম তোমার পছন্দ নয়, আকাশ এসে বললো যেই আমার মুঠোয় গলছে সময়, তোমায় জানাই সাধ্যি নেই বেবাক তখন পদ্যবিকেল, মিথ্যে বড়াই, মিথ্যে খোঁজ অধরা সেই প্রেম ভাঙিয়ে আঁকছি আলো, মুছছি রোজ দিনের পাশে দিন বসিয়ে নামতা পড়াই দুঃখকে খুঁজছি তোমায়, চাইছি ভীষণ । বলতে মানা বুক ঠুকে বলতে মানা আর কত কী, মুখ ফিরিয়ে আলোর বাঁক বর্ষা যখন খোদ প্রেমিকা, মনখারাপের গল্প থাক চশমা, রুমাল, খুচরো, বিকেল নাহয় যেমন গুছিয়ে নিই তোমায় গোছাই চোখের পাতায় । আপত্তি নেই তাও জানি অপেক...

বৃষ্টিফোঁটা ৩

মেঘের পাড়ায় জানলা খোলা, রোদ'ও তেমন পর্দানশিন ব্যাকফুটে শীত । অসময়ে জলের ছোঁয়াচ সামলে বসি তবুও কি যায় বাঁচানো? বাঁ দিক ঘেঁষে অনর্গল  মনকেমনের গল্প শোনায় ধূসররঙা মফঃস্বল এসব কথা বলতে মানা, ভাবতে গিয়েও হোঁচট খাই চোখ তো তেমন পথ চেনেনা, ভরসা জোগায় আকাশটা-ই গানের সুতোয় রাস্তা মাপি, হাওয়ার সুরেও দীর্ঘশ্বাস ফিরতি সময় । ঝিমোয় দুপুর । তোমার বুঝি অন্য বাস তোমার বুঝি বাড়তি বিকেল, সঙ্গী এবং কফি'র মাগ আমার কাচে ঝাপসা আলোয় বাড়তে থাকে সন্ধেদাগ বাড়তে থাকে বৃষ্টি নামের উটকো কিছু পাগলামো মেঘের পসার । মন্দা বাজার । থমকে শীতের দরদাম'ও  মুখ ফেরালাম জানলা থেকে । মন ফেরেনি, ফিরছে খোঁজ বৃষ্টিফোঁটা' নামের সাথেই অপেক্ষারাও ফিরছে রোজ  তেঁতো শোনায় আলোর পদ্য । বছরশেষে জ্বরের ঘোরে একটা দুটো বাঁক ভেঙে যায়, ঢেউ'র মতই শব্দ ক'রে বেবাক শুধুই আমার কথা । শব্দ গোপন ঠোঁটের ফাটায় চিঠির নামে ভুল ঠিকানায় সস্তা প্রেমের গল্প পাঠায় সস্তা প্রেমের মত'ই তো সৎ, কয়েকটা বাঁক বাড়ির কাছের  জানিয়ে দেয় নামতে হবে । অনেকটা পথ পেরিয়ে গেছে . . এমনসময় সিগন্যালে বাস । ভীড়ের শেষে দাঁড়িয়ে আছে নদী ...

প্রিয় উপশম

প্রিয় উপশম, কালভার্ট পেরোলো বাস। ভাঙাচোরা রেলিঙ পাশ কাটিয়ে। ওই বড় পাথরের আড়াল থেকে ধোঁয়ার ক্লান্ত কুন্ডলী ভেসে আসছে। ভাঙা হাঁড়ি, পোড়া কাঠ ...আজ কার শেষযাত্রার সাথে আমার দীর্ঘশ্বাস মিশে গেল জানা হলো না। বাস এতক্ষণে সেগুনের বনে। সারি সারি বাধ্য, বধ্য গাছ ছায়া মেখে দাঁড়িয়ে আছে। জানো, এই দুমাসে কতবার ভেবেছি তোমায় ডেকে এনে এ ছায়াবাজি দেখাই। তখন এখানে পলাশ ফুটছে। আলোরঙ পলাশ ! ছবি তুলে তোমায় পাঠানো যেত...করিনি তা। আলোকে কি বেঁধে রাখা যায় ! নাকি বাঁধা উচিত, বলো? গ্রামের ভেতর দিয়ে ফিরি রোজ। বর্ধিষ্ণু পাড়া। নিকোনো উঠোন, বাঁধানো পুকুর ঘাট, আটচালা ...এসব স্বপ্ন সেজে চোখে লেগে থাকে। রাত্রে ঘুমঘোরে কে যেন তুলসিতলায় প্রদীপ রেখে যায় ...আলতা পায়ের ছাপ। তোমায় স্পষ্ট দেখি উঠোনআলোয়। কাঁপা কাঁপা আগুনের ঠোঁটে আঙুল বোলাও। ভোরের পর তুমি ঘুমিয়ে গেলে আমার অনন্ত অবসর। তোমায় ঘুমোতে দেখা ছাড়া কোন কাজ থাকেনা আর। মেঘের সাথে আরজন্মের হিসেব বুঝতে বুঝতেই বেলা নেমে আসে। আমি তখন একমনে ঘর সংসার সারি, ছেলে পড়াই...হাত পুড়িয়ে উনুন জ্বালাই আর ভাবি, দূরে কোথাও অনেকটা দূর, বরফবাগিচার মাঝে আমা...

বৃষ্টিফোঁটা ৪

ঝড় বোলানো আলতা বিকেল। দিগন্তেরও রংবদল বৃষ্টি পায়ে আকাশ পেরোয় নোনতা আলোর মফঃস্বল ইচ্ছে করেই ছাতার দেমাক, হয়নি রাখা। ভেজার সুখ আগ বাড়িয়ে ফ্ল্যাশব্যাকে যায়, পাশের সিটে ও কার মুখ! বান্ধবী নয়, নাম জানি না। জানলা চেনায় গন্ধ তার চোখের পাশেই চোখ রেখেছি, ভুলেই যদি একটিবার করতে আলাপ এগিয়ে আসে, চুল সরিয়ে ঠোঁটের তিল যত্ন করে সাজিয়ে নেব গল্প শুরুর অন্ত‍্য‍মিল অথচ তার ব্যস্ত আঙুল, হাওয়ার কাছেও খবর এই এমনিতে সে মুখচোরা তায় কানের দুলের সম্মতি নেই কাজেই অকাজ বৃষ্টি দেখা। ভাবছি এমন ঝড়ের পর হঠাৎ আসে একটা দুটো পথ্য বিহীন তুমুল জ্বর সফরকালীন এ জ্বর ভালো, ঘোরের ভেতর সহজ খুব পাল তোলা এক নৌকো নিয়ে মাঝদরিয়ায় ইচ্ছে ডুব অনুযোগের পরেই বুঝি, ও চোখ বোধয় সাঁতার জানে সবটুকু তাই হয়না ডোবা, রাস্তা ফুরোয় জলের টানে ফুরিয়ে আসে মেঘমিছিলও। হয়না জানা কার্যত ও মেয়ে তোমার নাম রেখেছি বৃষ্টিফোঁটা, পছন্দ তো ? -------------- ৭ এপ্রিল'২০১৮

মেয়েবেলারা

আজকাল বিকেলের কাছে গুটিগুটি এসে বসে মেয়েবেলা l দূরে রথের দড়িতে টান পড়লে আকাশের মুখভার হয়ে ওঠে নিমেষেই l নাহ্ ..সময়ের আর মেলায় ফেরা হয়'না l কাদা পায়ে রেখে আসা হয়'না বয়ঃসন্ধির ছাপ l বাদাম ভাজার গন্ধে যাবতীয় চাওয়া পাওয়া খুঁজে নেওয়া আঙ্গুলের ফাঁক দিয়েই এখন  অনায়াসে গলে যায় একেকটি মেঘমাস l নির্লিপ্ততা যাপন করে আষাঢ়ের দিন  l আজীবন নাগরদোলায় অনাশক্ত চোখগুলোকে প্রাণপণে ফিরিয়ে নিই আলোর দিকে ,কোলাহলের দিকে ,মাটির পুতুলের দিকে ..এখনও মনে মনেই l অথচ ছুঁয়ে দেখা হয়'না আর রঙবেরঙের কাগজ ফুল l আলোর পোকারা ভীড় করে থাকে পাঁপড়ি চাটের আশেপাশে আজ'ও ,শুধু আমাকেই বড় অচেনা লাগে তাদের l সঙ্গে আনা লিস্টের সাথে মিলিয়ে মিলিয়ে বই কেনার বিকেলগুলো অযথাই খরচ হয়ে গেছে জেনে ফিরে আসে শব্দের খুচরোরা l আমায় নতুন বইয়ের গন্ধ চেনাতে হঠাৎ বৃষ্টি বোঝাই করে হেঁটে আসে নীল লুঙ্গি ,চওড়া বুকের ফেরিওয়ালা  l উঠোন ভর্তি ছড়িয়ে থাকে মেলায় যাওয়ার বায়নাগুলি ....মেয়েবেলারা পায়ে পায়ে উঠে যায় সিঁড়ি বেয়ে l কার্ণিশের কাছাকাছি এসে আটকে থাকে ছেঁড়া ঘুড়ি l ওর গায়ে লাল পাহাড়ের গল্প লেখা থাকে l শেষ বিকেলের ...

অসুখের নাম মেঘ

১ মেঘমন ছেড়ে আসে নগরবিলাস নির্বাসন যতটুকু লিখে রাখা হাতের মুঠোয় তার চেয়েও বেশি কিছু এ অজ্ঞাতবাস অচেনা গন্ধ বড় এখানের জলের সুতোয় জানলার শিঁক ক'টা পাশে রেখে বাইরে শালিখের আশরীর ভিজে যাওয়া দেখি। বৃষ্টির ছন্দ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখি  প্রাণপণ। অথচ মেঘের গর্জনের মধ্যেও নির্ভুল অন্ত্যমিল খুঁজে ফিরি নিয়ত। হাতঘড়ি'তে কাঁটা'দের নিজস্ব গল্পচরিত থমকাবার নয় ...অথচ আমার ভূমিকাগুলোই বর্ষার জল পেয়ে মিইয়ে ওঠে বড়। লেন্সকার্টের ফ্রেম ফেলে এসেছি শহুরে রেস্তোরাঁয়। জীবনের এ আউলবাউল ফ্রেমেই বাকি আর আর ফেলে আসার গল্প পড়তে হয় কার্যত। ফোর্থ পিরিয়ড চোখ কচলে উঠেই  মিড ডে মিলের পেয়ালা সাজায়। শুক্রবারের খিচুড়ির ভাপে ঝাপসা হয়ে আসা চোখগুলো থেকে রাশি রাশি স্বপ্নকুয়াশা ঝরে পড়ে। আমি কি কেবল বিষাদই লিখতে জানি - নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করি। উত্তরে আপেক্ষিকতাবাদ শোনায় হাঁসের চোখ। দুদিনের একটানা বৃষ্টি প্রসাদে জমির গর্ভমাস ঘোষণা হয়ে যায় আনুষ্ঠানিক ভাবে। এদিকে বাতাসের তুমুল ব্যস্ততার আমি শরিক হতে পারিনি আজও। আমি ধানের হাসি দেখিনি এযাবৎ। মাটির কান্না চোখে পড়েনি কখনও। ''ভালো ...

আতিথেয়তা ও শীতকাল

১ সেদিনও নবান্ন ছিল। দুধসাদা আতপের ঘ্রাণ নিকোনো উঠোন আর আলপনা মাটির সরায় ধূসর শীতের সাথে বোঝাপড়া সয়েছে। রয়েছে ধানের আলোর কোলে মাথা রেখে জমিয়েছে জল মলমাস শেষ হল? ফিকে হয়ে এসেছে হলুদ আরবার রঙ দিয়ো। রঙ ছাড়া অপেক্ষা বাঁচে না ২ সেসব লোডশেডিং, আধখাওয়া চাঁদের কাছে হাঁটুমুড়ে বসে থাকা। তারাদের উপকথা বেয়ে  তখনও নামতো নীল। মাকড়শার জালে আটকে  শেষ হতে হতে ফের জ্বলে ওঠা। কাওকে না বলে এমনি বেহায়া সিঁড়ি থেমে যেত। চিলেকোঠা একা লোডশেডিং সেসব, রঙিন ছায়ার সমারোহ ৩ আমাকে উঠোনে ফেলে উঠে গেছে ও বাড়ির সিঁড়ি কলতলা বাঁয়ে রেখে চুপিচুপি সরেছে বয়স আমার পায়ের থেকে বটগাছ দুহাত দূরেই-  এখন অনেক বড়। ঝুরি বেয়ে ওঠে নামে স্মৃতি কোথা থেকে জল আসে, পিছুটান ধুয়ে ধুয়ে শেষে  পিছল শ্যাওলা আর একমুঠো ঘাস রেখে যায় ৪ ঠিকানা লিখতে বসি। সহজ যদিও চিঠি লেখা - প্রতিবার ভুল হয়, খাম থেকে চোখ তুলে আনি লাল ধুলো মনে পড়ে, বালিহাস, দুচারটে নামও অনায়াসে বলে দিই অথচ বাড়ির মেঠোপথ ঠিকানা লিখতে বসে সদর দরজা ঢেকে যায় নামের আখর খুঁজি, নেমপ্লেট ভেঙে পড়ে থাকে ৫ পিছল পাথর আর পাতায় মেশানো যত জল নীল হয়ে আছে মেঘ। ...

আখরে জলের দাগ

১ আমাকে রেখেছ সেই বাতিলের খাতার ভিতর চুপচাপ বসে থাকি, প্রতিবেশী মিশুকে বড়ই  তোমার কথাই হয়, তারপর খাওয়া দাওয়া  একদিন বলে দেব তালাচাবি লুকোনো কোথায় ২ এমনি নামতে শেখা। বিলাসিতা থাকেনা পতনে  মাটিতে পায়ের ক্ষত, পাথরের ঘষা দাগ গায়ে  অধরা জলের রেখা। কোনপথে তারপর গতি তোমাকে হয়'নি বলা এখানেও চাষাবাদ হয় ৩ গুছিয়ে রেখেছ ফুল। ভাসানের দিন বুঝি আজ ইতুর চোখের জল, অবিকল এঁকেছে পটুয়া বিকেল নিভছে ঘাটে। এইবেলা ফিরে যেতে চাও আঁচল সামলে রেখো, কিছু জল পটুয়া আঁকে না ৪ আলোহীন এই রাত, সর্বগ্রাসী চাঁদনী যদিও  কোথায় পেতেছ চোখ? কলঙ্ক তো বলতে শেখেনি  জানালা ফুরিয়ে এল। কতটা তফাতে জোনাকিরা ফিরে এসো অজুহাতে। কিছু কালো ঘুমের ওষুধ ৫ একরঙা পাঁজা ইট, কোনও এককালে ছিল ঘর বটের ঝুরির নিচে বিকেলের বৈঠকী আজান দুয়ারে আতপ গান, আলপনা খুঁটে খায় ঘুঘু  ধানের পালুই বেয়ে বাস্তুশাপ ওঠে আর নামে ৬ যেকথা বলতে আসা, এ শহরে বসতি নতুন সাজানো আলোর পাশে মুঠোমুঠো খই দেখি রোজ ছড়িয়েছি আমিও তো, মিছিলের শেষভাগে এসে প্রতিবার ঝান্ডা ফেলে চলে যাব চলে যাব ভাবি ৭ ঘোরের মতই য...

বৃষ্টিফোঁটা ২

জলের সিঁড়ি, মেঘের চাকা । রূপকথা আর লোকাল বাস একদুটো দিন গল্প শোনায় বৃষ্টিভেজা আশ্বিন মাস একদুটো দিন এমনই হয়, মেঘ পেরোনো চায়ের কাপ রটিয়ে দেয় মনের খবর, থমকে দাঁড়ায় নিম্নচাপ থমকে দাঁড়ায় গানের লাইন, হাওয়ার চোখও ঝাপসা যেই বিসর্জনের পরের ক'দিন সবাই বলে কাঁদতে নেই রুমাল খুঁজি, চশমা মুছি, জানলা ভেজায় আকাশজল একটা দুটো বাঁক পেরিয়ে চোখ মুছে দেয় মফঃস্বল বাসস্টপও আজ একলা দাঁড়ায়। হয়ত কারোর আপনজন- পথ হেঁটে যায় রঙিন ছাতায়। আকাশ খোঁজে পথিকমন কন্সপিরেসি। সবটা বুঝি, আকাশ আমার বন্ধু নয়  এমন দিনে ভুল ঠিকানার অপেক্ষারাই বন্ধু হয় ওরাই জানে, পাশের সিটে পদ্য পড়া মুখের পরে আবছা চোখের সেই ছেলেটা আর দেখেনি ইচ্ছে করে- ফুল কিংবা রোদের মুখ। কবিতাদের সাজিয়ে নিয়ে সেই ছেলেটাই পাতায় পাতায় অচেনা নাম আকঁতে গিয়ে হারিয়ে গ্যাছে নিজেই কখন সিগন্যালে আর ট্রাফিক জামে আজও মেঘের উপত্যকায় খুঁজছে আলো একটা নামের ... বৃষ্টিফোঁটা... : : চমকে উঠি, খুচরো গুণে ভাড়া মেটাই নিয়মমাফিক সময় হ'ল। নামতে হবে। থমকে আছে জলের ট্রাফিক তিনটে মাসের ব্যবধানে, আজকে আবার উইন্ডো সিট  বৃষ্ট...

বৃষ্টিফোঁটা ১

লোকাল বাসের উইন্ডো সিট, দিনের বয়স সকাল ন'টা পাশের সিটে চুল সরিয়ে পদ্য পড়ে বৃষ্টিফোঁটা বৃষ্টিফোঁটার বয়স কত? কী নাম আছে প্রোফাইলে? আমার ফোনের ব্যাটারি লো, সকাল বিকেল রুপম চলে লেন্সকার্টের চশমা বোধয়, বাঁয়ের ভুরু একটু কাটা গরম ভীষণ, ব্যাগের চেনে রুমাল খোঁজে বৃষ্টিফোঁটা কন্ডাক্টর খুচরো ফেরায়, পয়সা অচল শহর জুড়ে ইচ্ছে হ'ল আকাশ মাটি সবটুকু দিই বিক্রি করে একটু যদি মুখ ফেরাত, দেখত যদি একটুখানি বলেই দিতাম, "বৃষ্টিফোঁটা, আমিও কবি, লিখতে জানি" "বাস দাঁড়িয়ে ট্রাফিক জামে" কাকে যেন বলছে ফোনে "দু'দশ মিনিট, পৌঁছে যাবে" সান্ত্বনা দিই নিজের মনে বৃষ্টিফোঁটার কপালে ভাঁজ, চোখের নিচ-ও হালকা কালো কেমন করে পারবে আকাশ এমনদিনে থাকতে ভালো ইচ্ছে করে বন্ধু হবার আর্জি পাঠাই কাঁধের কাছে "শান্ত ছেলে, মাসের শেষে অল্প কিছু মাইনে আছে ভালোই হল, মেঘ জমেছে, আমিও আজ অফিস কাটি জলের মিছিল, আমরা দুজন পা ভিজিয়ে সঙ্গে হাঁটি" ... বলার মত হয়নি বলা, পাশের কানে গান মেশিন গুনছি আমি, "আষাঢ় শ্রাবণ, দুটো মোটেই কান্নাদিন" জ্যাম খু...

জলছবি

বৃষ্টি ফিরে গেছে ফিরে গেছে জং ধরা গেটের সোহাগ ছেড়ে স্কুল ফেরতা কিশোরীর অহংকারী চুলের ঢাল বেয়ে যেখানে সদ্যজাত নিষিদ্ধতার ঘর যে পথে সবটুকু অনুসন্ধানের শেষেও ডাকবাক্সের খোঁজ মেলেনি আজও তবু চিঠি লিখছে প্রবাসী দারোয়ান সন্ধে নামা মাঠে শব্দগুলো পৌঁছে যাচ্ছে গরম তাওয়া ছুঁয়ে পোড়া রুটির গায়ে একটু আগে সেখানেও বৃষ্টি নেমেছিল কাজল টানা চোখে জোনাকির ডাকবাক্স, ২০১৭

শব্দের কপিরাইট

মন খারাপের যাবতীয় উপকরণ নিয়ে কার্নিশে বসে একটা ঘুড়ি প্রেম রংচটা রাস্তার বাঁকে বেওয়ারিশ ইচ্ছেরা তখন কাঁধে তুলে নিয়েছে বিকেলের শব তারাদের অস্পষ্ট ফুটপ্রিন্ট ধরে শূন্যস্থান মেপে এগিয়ে যাচ্ছে সময় সন্ধে নামলে ইলেকট্রিক তারে ঝুলে থাকা ক্রসওয়ার্ড পাজল ফিরিয়ে দেয় সমস্ত ভুল শব্দমালা যাপনের ঘরে রাত বাড়লে জন্ম নেয় কবিতার ভ্রূণ ভুলের গর্ভে 'না বলা কথা' র কপিরাইট প্রত্নতাত্বিক আক্ষেপ শুষে বেড়ে ওঠে ভোরের আশায় - জোনাকির ডাকবাক্স, ২০১৭