সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

2020 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মৌরিফুল

  এমন কেয়ারি-করা দ্বিপ্রহর। ঝাঁঝরি বেয়ে ও-বাড়ির ছাদের নবীনরোদ নেমে আসছে এ বাড়ির বারান্দায়, সিঁধ-কাটা চোরের মতো, ধীরপায়ে। সন্তর্পণে। লাল মেঝেতে আলো-ছায়া কেমন মৌচাক এঁকে গ্যাছে; পাঁচিলে বসে মেনি'টা যখন চারাপোনা বাছা দেখছিল একমনে। সূর্য পুকুর পাড়ের দিকে কিছুটা হেলে যেতেই সেসব ফিকে হয়ে খড়ি মাটির আল্পনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পর্দায় চন্দন ঘ্রাণ। আজ এ ঘরে আমিষ-অন্ন। বেশ কয়েকটি শাক, পোস্ত-র দুপুর পেরিয়ে আজ সামান্য সরষে বাটা। পাতের পাশে এক-দু কুচি কাগজিলেবুর আয়াস। কলতলায় কড়াই উপুড় করে ইট-গুঁড়ো ঘষছে মাধুর মা। দাঁত শিরশির করছে সে শব্দে। বাঁশের মাচায় শহর ফেরত কাপড় শুকোচ্ছে। দুটো কাক এসে বসেছে হেজ গাছের বেড়ায়। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাত নেড়ে কাক দুটোকে উড়িয়ে দিতে গিয়ে গৃহস্থের শাঁখা-পলা রিনরিন করে উঠলো। শোবার ঘরে গতরাত্রের শহর থেকে আনা রেকর্ড চলছে..."লট উলঝি সজা যা বালম, ম্যায় না লাগাউঙ্গি হাত রে"..... এই সময় শুকনো কাপড়'কটা কাঁধে ফেলে দুহাতে শাড়ির ঝুল তুলে একছুটে উঠোন পেরিয়ে চলে যাওয়া যায় অন্দরমহলে। নিরীহ পাপোশ মাড়িয়ে দোরে খিল দেওয়া যায় পাড়া-পড়শি জানিয়ে। তারপর নকশা বোনা সাদা চাদর...

আবহ সংগীত

১ ফটক ওঠেনি। লালবাতি জ্বলে আর নেভে দূরের একটানা হুইসেল শহুরে বাতাস নিয়ে এল এ নোনা দেওয়ালে তার ছিঁটে ফোঁটা এসে লাগে প্রবল ব্যস্ততায় ধুলো উড়ে যায় তোমাকে লেখার কথা মনে পড়ে সঙ্কোচ মনে পড়ে। ভেজা বিবাহবাসর থেকে দ্বিধাগ্রস্থ অন্তরার ঘোর ভেসে আসে ২ আলোর বারান্দা থেকে ফিরে গেছ। পশ্চিম আকাশে স্লেট রঙ মেঘ। আর বৃষ্টি পেরিয়ে গেলে তুমি অজুহাত ― সে আমার প্রিয় বিষয়ের মতো, তাই সদরের একপাশে অপেক্ষা-কে বাঁধিয়ে রেখেছি ৩ তোমার না থাকা জুড়ে এখনও কেমন বাজে অবিরাম এই জল, জলের সেতার। ভেজা খড়ের কাঠামো তুলে নিয়ে আসে নিঝুম দেউল-এ যে ঋতুর কথা আর সগর্বে বলতে পারি না দীর্ঘতর রাত যেন তার-ই আচঁলে, আঁধারে হেমন্ত প্রদীপখানি নিভিয়ে দিয়েছে। আলো দু'ঘর তফাতে। শুনি বিষণ্ন সানাই পাড়ার বান্ধবীটি হাসি মুখে দূরে চলে যায় ৪ এখন আনন্দদিন। পলকের মাঝে বসো তুমি বিকেলের দরোজায় অনাহুত মেঘ। তার পরনের চটিজোড়া হাহা বাতাসে মিলিয়ে গেল বুঝি অভিযোগ জানালো সে। ফুটব না ফুটব না করে সাদা রঙ্গনগুলি ফুটেছে উঠানে এতদিনে ঝরে পড়বার সাধে কিছুটা আলোর ভাগ-ও স্তিমিত হয়েছে তুমি কবিতা, জলধারায় এস, এ নৈবেদ্যটুকু হাতে তুলে নাও -----...

ডিসেম্বরের পাতা

১ ছায়াটির কাছাকাছি এইখানে বিকেল নীরব কে যেন দেখিয়ে গেল নুইয়ে পড়া পাহাড়টিকে আমরা দাঁড়িয়ে ঠায়, ময়ূর আসেনি একটিও লাল সূর্যাস্তের পাশে পালক ছড়িয়ে রেখে গেছে টিলার ওপারে মাঠ। সবুজের ফাঁকে মৃদু আলো জনপদ যেন এক পরিপাটি শবর কিশোরী তার আনত মুখের কাছে বসে আমরা দুজন যাবতীয় বোঝাপড়া সেরে নেব ভেবেছি এবারে ২ নেমেছি যখন, ভোর। হাইওয়ে, ঘুমভাঙা কোনও  এক শিশুর আদলে জড়িয়ে রেখেছে শীত। পাশে আবছা গানের কলি, ধোঁয়া মাখা চায়ের দোকান পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা। প্রিয় জলাধারে ডিসেম্বরের যত মনগড়া দৃশ্য সাজানো অথচ দেখাই কাকে, বিশ্বাসই করবে না জানি মুঠোফোনে একই নামে কতবার আঙুল রেখেছি আগেও এসেছি যেন, আগেও মেখেছি বহুবার সবুজের খুব কাছে শিশিরের প্রসাধন। শোনো তোমায় বলিনি শুধু বাড়াবাড়ি মনে হয় যদি সঙ্কোচে রাখিনি এই বছর শেষের আয়োজনে ------------------------ রচনাকাল : ডিসেম্বর ২০১৮ ৩ এবং এ জাড়মাস একাকীই এসেছে এবার শাল পলাশের চোখে নিভে গেছে গল্পেরা শুকনো পাতার ধোঁয়া তবুও কোথাও মৃদু আঁচে স্মৃতিদের বাঁচিয়ে রেখেছে। আমি একই পথে হাঁটছি খেয়ালে। পাথুরে জলধারায় পা ডুবিয়ে চেয়ে আছি কুয়াশার দিকে ওই নিঝুম টিলার প'...

হেমন্ত কুলীন ঋতু

১ কবেকার ভাঁজ করা চিঠিপত্র ছড়িয়ে আছে হেমন্তের টেবিলে                            চাঁদ বেশি দূরে নয়                       তোমার চোখ                    হলুদ আলো অথবা গরাদে মাথা রেখে ঝিমিয়ে পড়া জোনাকীর অপেক্ষা  সবটুকুর চেয়ে দুর্বোধ্য এ অক্ষররাশি                            আমায়                                     অসুখ চেনায় "ভালো আছি " পরবর্তী হাইফেনেই তুমি সমুদ্র হয়ে ওঠো                                আর ... পরিচিত সম্বোধনগুলি আরেকবার কাঁথামুড়ি দিয়ে শোয়                          শুশ্রূষার নামে  ইতি'...

গানের ক্লাস

১ ক্রমশ ঋনী হয়ে আসছে ত্বক। পড়ে পাওয়া রোদ আর দুপুরের ফুটনোটে প্রেমিক বিকেল মাফলারে মেরুণ'ই ভালো ― বলেছিল কেউ  তারপর অনেক যত্নেও উলকাঁটা রপ্ত করতে পারেনি আঙুল  সোজাকাঁটা-উল্টোকাঁটা; শীতকাল, মায়া শীতের বিড়াল প্রিয়। নখের মাপ'ও জানা, তবু নিরাপদ অসাবধানে হাতমোজা ফেলে উঠে গেছে বিকেলের ছায়া ২ হারমোনিয়ামের ওপাশে বসেছে মেঘ চৌকাঠে রাখা তার ভেজা ছাতা। মেঝের শরীর জুড়ে ফোঁটা ফোঁটা জল জল; নরম আলোর মত মেঘের শরীর'ও পর্দা সরিয়ে দিলে কাগজের নৌকোর দল হাওয়া ঠেলে ঢুকে পড়ে। মেঘের গলার কাছে বৃষ্টিরা দুলে ওঠে স্বরলিপি নামে রোদ মুঠো মুঠো পুষেছে আবেগ ――――――― রচনাকাল : নভেম্বর ২০১৭ 

বছর শেষের রিল-এ

১ গোটানো সুতোর চাঁদ  নিঝুম পাড়ার গতি। একটি মাত্র মাকু, সচল নতুন গামছা বেচে কিনেছে কর্কট ফুলে ওঠা চৈত্রমাস। ফের চতুর্থটি এঁটে আছে অনায়াসে দ্বিতীয়ার কোলে                   এবং বেলার শেষে ঘামের কলম ঝেড়ে আবেদন পত্র লেখা সেরে বাড়তি গামছা বেঁধে ফেরে তার বেকার তিরিশ ২ সারসের ভেজা ঘ্রাণ ধূসরের আগে ও পেছনে অপয়া পালক বেছে ভাসিয়েছে জলজ দেবতা। বাকিটুকু নৈবেদ্যর পাতে তখনও জীবিত কেঁচো কিছু গড়িয়ে নেমেছে। ঠোঁটে বিগত দিনের যত পরিযায়ী এঁটো ছুঁয়ে ছুঁয়ে সাজিয়েছে ফুল। আজ বাসন্তীও যাবেন ভাসানে ------------- রচনাকাল : ২০১৮

খেয়ালী

১ তপ্ত দুপুর অপেক্ষাদের শেষ বৃষ্টিস্নাত গন্ধে মাখামাখি নিজস্বীদের প্রুফ রিডিংয়ের পরে শখের চশমা এমনি খুলে রাখি একটু দূরেই সন্ধে নামলো ঝোপে ঝিঝিঁপোকার ভরন্ত সংসার ওরাও বুঝি ফোকাস এডিট জানে ভার্চুয়ালি সাজায় অন্ধকার বৃষ্টি বিকেল ফুরিয়ে এলেই ঘরে দুচোখ খোঁজে তুলসী তলার আলো ব্রাইটনেসের অভাব ভীষণ মনে দিন যাপনের স্যাটাস ভীষণ কালো মেঘের কোলে তারা ফোটার গান কলম হাতে চাঁদ সেজেছে কবি সময়রেখা পসরা সাজায় ফুলের দেওয়াল জুড়ে সুখপাখিদের ছবি ২ মাঝরাত, শরীরের উষ্ণতা কমে এলেই শীতের আদর মনখারাপের চাদরটা টেনে নিয়ে বেশ খানিকটা হাতের মুঠোয় ফসকে যাওয়া 'তুই' এক চাঁদেরই ক্ষয়ে যাওয়া আছে বোধহয় আর বাকিদের কেবলই আয়ুক্ষয় আজকে ভীষণ ইচ্ছে করছে চাঁদ হতে তুই হয়ত এ সময় জয়পুরের এক রিসর্টে চকচকে পাথুরে মেঝের নকশা চিনছিস ঠান্ডা পানীয়ের গেলাসে জোড়া চুমুক আইসকিউবদুটো গলছে, মিশে যাচ্ছে দু'জনাতে তখনই, ব্যালকনি বেয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে একটা আলো, তোর গোলাপি মুখের ঠিক পাশেই যদি বুঝিস, ওটা আসলে এই কানাভাঙা চাঁদটার ৩ দীর্ঘশ্বাসের বয়স বাড়ছে দ্রুত চোখের সামনে গজিয়ে উঠছে চর এমন একটা পথের সাথে দেখা যে পথ নিজ...

এখানে মেঘের জ্বর

১ আসলে এ দীর্ঘ পথ একা একা ফিরব ভেবেছি বারান্দা থেকে যে ঘরে জলের শব্দ শোনা যায় ততখানি যেতে যেতে মনে হল পাহাড়ে কোথাও উঁচু দেবদারু বন, চা বাগানে বৃষ্টি নেমেছে তার ছেঁড়া আঁচলের ঘ্রাণ, পাইন পাতার মতো গুঁড়ি গুঁড়ি স্বর এসে মিশছে এ শুকনো হাওয়ায় এদিকে মেঘের জ্বর, রোদে পোড়া অসুখী শহরে ছায়া সরে এলো, তুমি নীল শাড়ি রাস্তা পেরোলে ২ কোনওদিন মনে পড়বে না ভেবে দুজনেই আলাদা আলাদা স্মৃতি ভাগ করে বাড়ি নিয়ে গেছি শহরে বর্ষা আর ফিরবে না এই বিশ্বাসে পরিচিত পথ-ও যেন এ ওকে চেনেনি বহুকাল অথচ অকস্মাৎ মেঘ ভাঙা জল আর তুমি ছাতা খোঁজবার নামে এত এত পালক ঝরালে ওই প্রজাপতি ব্যাগ, সাথে যতগুলি পাখি উড়ে গেল তারা জানে আমাদের এই একটি আকাশ ছাড়া বেশি কিছু ছিল না ভোলার --------- রচনাকাল : জুলাই ২০১৯

অক্টোবরস

১ দীর্ঘদিন পর কথা হল। আমরা পরস্পরের থেকে স্মৃতিদের গুটিয়ে নিয়েছি। ঠিক যেন নতুন আলাপ বহুবার আঙুল কেঁপেছে, এসময় আর যা যা হয় তুমিও কি টের পেয়েছিলে, যদিও ঝড়ের মাস নয় ঝড় উঠেছিল। জানালায় ফিরে যেতে দেখেছি আলোর সুর, তোমার গাওয়া গানের যতটুকু জমাতে পারিনি ভালো আছো শোনবার পর আরও কিছু বলতে চেয়েছো মনে হল। সময় ছিল না, যেমন থাকেনি প্রতিবার শুধু আমি থেকে গেছি খুব সুখ সুখ এই অভিনয়ে ইদানিং সব সেরে ওঠা নিজে নিজে শিখে নেবো ― ভাবি ২ আদরের মতো স্বাদ রিনরিনে চুরির আওয়াজে ঢাকা দেওয়া খাবারের পাশে সে যখন এসে বসে, চোখ প্রতিটি গ্রাসের সাথে ভালোবাসা মেখে মুখে তোলে এসব দৃশ্য থেকে রাতবালিশের কাছে ফিরি ছাতিমের ঘ্রাণ যেন ঘুমের ওষুধ। জানালার জাল কাটে আলো। দূরে কারা ভালো হওয়া লিখে রাখে ডায়রির ভাঁজে। আমাদেরও খেইহারা ব্যথা চাঁদ হয়ে ঝুলে থাকে উৎসবে, দশতম মাসে ------------ রচনাকাল : অক্টোবর ২০১৮

জন্মদিনের চিঠি

তোমাকে দু-চার কথা লিখবো ভেবেছি। এতদিনে মনেহয় ও শহর ভালোবেসে ফেলেছ কিছুটা বলেছিলে, ছোট এক ব্যালকনি পেয়ে বেশ খুশি আগামী শীতের আগে টব কিনে সার,মাটি দেবে একটি চারার নাম 'মন' রেখো। আলোছায়া এনে যতনে সাজিও তাকে। ফুল হলে জানিও, কেমন জানালায় আলো এসে পড়েছে। এখনই দূর থেকে মন্ডপের চূড়া দেখা যায়। এসময় টের পাই উৎসব ফুরোলেই উপহার সাজানোর পালা অথচ আঙুল ছুঁয়ে শুভেচ্ছা জানানো হবে না রাগ হবে ? যদি বলি এমনিই ভুলে গেছি, আর বুড়োপলাশের মাঠে জোনাকিরা হারিয়ে গিয়েছে ! ক্রমশ কমছে বেলা। অক্টোবর দাঁড়িয়ে উঠোনে তুমিও এ জন্মদিনে ভুলে থাকা শিখে যাবে, দেখো --------- রচনাকাল : অক্টোবর ২০১৮

হলুদ বিকেল

এরকমই এক নিভু নিভু বিকেলে বান্ধবীকে তার বাড়ির রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে ফিরছিলাম। আঠারো বছর আগের স্কুলরোড মাঠে সেদিনই পুজো প্যান্ডেলের বাঁশ বাঁধা শুরু হয়েছে। মেঘে মেঘে বিকেল যেন একটু বেশিই কালো ঠেকছে। বাঁক ঘুরতেই ছাতিম গাছের তলায় চারটি বাঁশের খুটি আর সামান্য টিনের চালে তৈরি ছোট্ট 'শ্রীকান্ত সাইকেল রিপিয়ারিং শপ'। দোকানের মালিক ছিপছিপে গড়ন, একমাথা ঝাঁকড়া চুলের এক দাদা। বয়স তখন আমার দাদার সমান বোধয়। উনিশ-কুড়ি। আমি তার নাম জানতাম না অথবা ভাবতাম 'শ্রীকান্ত'-ই তার নাম। দোকান খোলা দেখে সাইকেলের টিউবের লিক সারাতে ঢুকলাম। তার আগেও দুয়েকবার সাইকেল সারাবার সুবাদে সে আমার মুখটুকু চেনে। দুটো লোহার টুলের মধ্যে একটি আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে নিজে বসলো আরেকটিতে। গুনগুন করতে করতে সাইকেলের টায়ার খুলতে লাগলো। পাশে টেবিলের উপর এফ.এম চলছে। ওতেই সম্ভবত গানটি প্রথম শুনেছিলাম, " তুমকো দেখা তো ইয়ে খয়াল আয়া...জিন্দগি ধুপ তুম ঘনা সায়া..." হলুদ বাল্বের আলোয় জগজিৎ কীরকম যেন মায়া ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন আমাদের দুজনের উপরে। দাদার বাড়ি কোথায়, সেখানে কে কে আছে এসবই কথা হচ্ছিল। ওঁর...

শীত কুয়াশার বাদ্য

১ প্রশান্ত শীত। শিশিরে ঘুমিয়ে আছে পেঁপেপাতা ,  নিম-ছায়াটি কাঠবিড়ালির সদ্য জাগা ব্যস্ততায় থেকে থেকে একটি চড়ুই মঞ্চ আলো করে ধুলো নিয়ে জাগলারি শুরু করলেন তাঁকেই গোপনে বলি ,  আমি তো সমস্ত ফেলে ইন্দ্রজাল দেখতে এসেছি ২ এখানে দিগন্তে যেন হঠাৎ উঠবে জেগে সবুজ পাহাড় ধোঁয়া ধোঁয়া জলধারা দারুণ কৌতুকে বয়ে যাবে ;  তার ক্ষয়কাজ যেন ভালোবাসা ,  যেন বিদ্রূপ ,  চিরস্থায়ী অথবা কুয়াশা-নির্ভর এখানে পড়ন্ত রোদ আমাকে দেবে অলৌকিক ধৈর্যের পাঠ যেন শহর ছাড়িয়ে স্তব্ধরাত এসেছে প্রান্তরে পৌষের পূর্ণিমা ,  উল্কাপাত দেখবার লোভে। আর তার তাঁবু ঘিরে অজস্র পুটুসফুল আলো হয়ে আছে ৩ আমাদের মধ্যাহ্নদিন ,  আমাদের সংযত গোপনপ্রিয়তা সমস্তই রেখে যাওয়া হল এই পর্ণমোচী রোদে বড়দিনে আর কী কী হল তার-ই খসড়াখানি দ্রুতবেগে নিক্ষেপ করেছি যেই দ্বিধাহীন ,  জলে ধ্যানমগ্ন ,  স্থির বাঁধটির চারপাশে তোমার হাসি-তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ছে ৪ সেবার যখন গেছি জঙ্গলে ;  শীতে ,  সম্ভাবনায় প্রাচীন দেউলে দেখি ময়ূরের ছায়াখানি সহসা বিব্রতবোধে হেঁটে গেল বিকেলের দিকে মানুষের প্রতি তার অভিজ্ঞতালব্ধ...

প্রচ্ছন্ন

১ এ বেলায় আলো কম  শালপাতা ঝরে তীব্র অতীতের গায়ে সদরে দাঁড়িয়ে মেঘ, নীল থেকে খুঁটে খায় জল একটি কবিতা নেই ধারে কাছে বলো, ঘুম এলে রাখবো কোথায় ২ জানালা নিপুণ লেখে                             সৌখিন হওয়ার হরফ আমার তো পাতা নেই, গোছানো দেরাজ খুলে দিই  এক বেলা ডাল রুটি তিনবেলা কবিতা পোড়াই ৩ কয়েকশ শব্দ লিখি। রোজ কয়েকটি মৃত্যু এসে ডেকে নিয়ে যায় তার সরাই খানায় একটি মোটেই আলো, সারিসারি সাজানো পেয়ালা  আকণ্ঠ বিষাদ গিলে ফুটপাথে দাঁড়াই যখন  দেখি, রাত্রি চড়া দামে দশটি আঙুলই কিনে নেয় ---------------- রচনাকাল :  ২০১৮

প্রস্থান

বরং গুছিয়ে নাও। হুইসেল কুয়াশা পেরলো সময়ের ঘরবাড়ি ফেলে এসে দুয়ারে দাঁড়াও চৌকাঠ, স্বস্তিক লাল ― ফেরাবে ভেবেছ সে তোমায় পায়ের পেছনে পা-ও ফিরে আসে তুমি চলে গেলে এ ঘরে জাগর জ্বলে। ধোঁয়ার আদলে তুমি জ্বলো গুঁড়ো ফুল, গুঁড়ো স্মৃতি। গুঁড়ো হয়ে ফেরো অবেলায় তারপরও কথা হয়; আঁচল সরালে ব্যথা হয় একে একে বেজে ওঠে কাঁসার বাসন ভাঙা চুড়ি ট্রেনের শব্দে মিশে নরম শ্বাসেরা ঘোরে ফেরে  বাঁক থেকে বাঁক ছুঁয়ে আবারও চোখের জিজ্ঞাসা কতদূর? কতদূর গেলে সব ঝাপসা দেখায় কতখানি পথ গেলে বেহায়া পথের চিহ্ন মোছে সেইসব নিরুত্তর প্রস্থান হাওয়ার সমান মেঘ করে আসে আলো ছেড়ে গেলে প্রিয় ছায়াতল ---------- রচনাকাল : জুন' ২০১৮

তোমাকে

১ তোমাকে দিগন্তে রেখে পার করি এতটা দুপুর কবিতা শেষের মুখে ঝড় নামে, জল তারপর যেন বা জলের ঘুম। নিঝুম এ আমবন তার পোয়াতিদশার কাছে ঝরে পড়ে থাকে ফুল। নক্ষত্র আকাশে যেমন... মুহূর্তে আলো হও, আলো ভেঙে ভেঙে যায় ২ মনে হয় বোঝ না কীভাবে দ্বিতীয়ার রাতচরা চাঁদ দূর থেকে একা একা চলে আসা মালগাড়িটির মতো অনায়াস আকাশ পেরোয় নিরলস পেঁচার মহিমা আমিও অল্প বুঝি। ঘুম পায় জানালার ওপারে পথে বিশুদ্ধ মাতাল এক কাকে যেন বারেবারে বার্তা পাঠান- "শামকো ভুলা শাম কা ওয়াদা... সঙ্গ দিয়ে কে জাগী রাধা..." বৈরী সতিন হাওয়া উঠোনেতে পায়চারি করে ৩ চৈত্র কুলীন মাস, অপেক্ষাকে বলতে শুনেছি সেজে ওঠা নেই তার তেষ্টার ঘোরে ঘোরে কেটে যায় অসুখের দিন "এইবেলা ভালো আছি । সেরে উঠবই, দেখে নিও" না লেখা চিঠির পাশে আলো বলে " সেরে উঠছি না " চিঠি লিখবার ছলে আলোকে সে জানায় এটুকু চিঠি লিখবার ছলে প্রতিবার শোনায় নিজেকে --------- রচনাকাল :মার্চ' ২০২০

আরোগ্য

১ চাঁদ ও রেডিও। মৃদু স্বরে বেজে চলা প্রিয় দশকের গানগুলি। এসব তো অজুহাত তোমার কথা-ই আসলে যা ঘুরে ফিরে আকাশের পথে সোনালী আলোর মতো ফুটে আছে দূরে কাছে নিঝুম বাগান, অন্ধ পেঁচাটি আর ছেড়ে যাওয়া শেষ ট্রেন। একাকী স্টেশনে গরম চাকার ঘ্রাণটুকু ছড়িয়ে কেবল ঘুম আসেনি যে আজ-ও। তুমি এলে? তারা খসা দেখে হাতদুটি জড়ো করে আবার চাইলে মনে মনে? তবু এ অসুখ বুঝি সারবে না কোনওদিন ২ এত চাওয়া রেখো না আঙুলে ভোরের নিকটে চাঁদ-ও দ্যাখো ফিকে হয়ে এল ঘোর থেকে যতবার জেগে উঠি, দেখি ছেঁড়া ছেঁড়া কুয়াশা আলোকে গ্রহণ সাজিয়ে রেখে রাত হেঁটে গ্যাছে কৃষ্ণা-প্রতিপদে দুয়েকটি তারা, যেন তোমারই জ্বালানো জাগর প্রবল অসুখে তেতে ওঠা এ কপাল আর তোমার সোনার হাত স্পর্শ মাত্র পুড়ে যায় পুড়ে যায় পাইনের, দেবদারু পাতার মতন খাদের কিনার। এত চাওয়া নিয়ে বলো কোথায় দাঁড়াবে বরং তফাতে থাকো। আমাদের স্বপ্নগুলো হুবহু মিলুক এসে না পাওয়া আরোগ্যের সাথে -------- রচনাকাল : ২০১৯

আরণ্যক

তোমাকে বেপথ বলে জেনেছে পথিক যেখানে মনুষ্য-শ্বাস পড়েনি কখনও সাহসী ফুলের ঘ্রাণ একা একা খেলে যায় শান্ত বাতাসে যেন শিশুর দুপুর পাওয়া, কমে আসা গ্রীষ্মের দিন মায়া জ্যোৎস্নায় হ্রদে পরীদের অবগাহনের মতো জনশ্রুতি এবং মৃগ শাবকের ক্ষণিকের আত্মীয়তা,সন্ত্রস্ত চাহনি এসব পাঠোদ্ধারে পটু নয় পথিক তেমন সে দেখেছে শেষ রাতে জনশ্রুতি কীভাবে সত্য হল শুধু ধ্রুবতারা তার রহস্যময়তা থেকে উঠে এসে কপাল ছুঁলেন তুমি বলো, কবিতা-ও বলো নিতান্ত অক্ষরজ্ঞানহীন এ অভাগা ফিরে গিয়ে তোমার বিষয়ে মিথ্যা ছাড়া কী লিখবে আর ----------- রচনাকাল: মার্চ' ২০২০

এ কৃষ্ণভাব পরিণামহীন

১ এখানে ছায়ায় বসে রোজ তাকে দেখি তার রঙিন কাঁচুলি মরশুমি ফুলে ভরে আছে ঝড়ের পূর্বাভাস নেই তবু আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করাই যায়, কী বলো আকাশ নাকি এখনই আচঁলে তার ঢিল ছুড়ি, বাঁশিটি বাজাই! ২ সহসা আলোর সাজ। মেঘের এ চেরা জিভ যেন পায়ে পায়ে চলেছে আঁধারে নিকোনো উঠোন ফেলে সদর পেরোলে? কালাদীঘি চেয়ে আছে 'ফিরে যাও, ফিরে যাও' কেঁপে ওঠে ময়ূরপালক কার নূপুরের ধ্বনি ডেকে নিয়ে যায় পরপারে ৩ এ কৃষ্ণভাব পরিণামহীন শ্রাবণ ঘনিয়ে থাকা গ্রীষ্মের ওপার অভিসার না দিয়েই তাকে মাথুর চেনাবো বলে আমি নিজেকে লুকিয়ে রাখি নিজেরই কপালে ৪ তোমাকে পড়তে আসে প্রতিবেশী মেঘ, তার কানের মাকড়ি যেন অবিকল ময়ূর পালক নেপথ্যে বাঁশির বোল; বিস্মৃত বিষাদ পয়ার ভরা বাদলের দিন। এসো রাই এসো রাই আরবার ব্রজবাসী হই ৫ বহুদিন, বহুযুগ পরে যেখানে আকাশ ছিল বকুলের ছায়া কেটে বহুতল হবে তিরতিরে নদী তার গতি ভুলে আয়না দেখাবে বেপরোয়া অন্ধ; যাকে কখনও শোনেনি কেউ নগরে নগরে তার নাম এই বলে রটে যাবে- দৃষ্টি যাবার পরই সে নিদারুণ পদাবলী রচনা করেছে ------------ ১ জুলাই' ২০১৯

কুসুমপুর

১ দীঘি ছিল এখানে কোথাও। সাউথ কেবিন-র পাশে বুড়ো পলাশের গুঁড়ি এখনও রয়েছে দীঘিটি মরেছে। চকচকে বহুতল তার-ই নামে, 'কুসুম সায়র' শ্বেত পাথরের মেঝে নতুন হয়েছে। স্টেশন মাস্টারের ঘরে সাদা এ.সি-টির নিচে সাজানো ফুলের টব জানালা দরোজা দিয়ে হাওয়া আর ঢোকে না তেমন তবু মেঘ করে আগের মতোই। ভেজা পাঁচিলের গায়ে কৃষ্ণচূড়ারা ঝরে থাকে। সাড়ে-বারো মিনিটের লেট প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকে পড়ে লোকাল-র আলো দেখা যায় তারপর বাঁশি। মরা বিকেলের শোক পেয়ে বসে যেন তোমার আসার কথা আগে থেকে জানা গেলে কত জন্ম পুরনো এই মাস্টারি ছেড়ে দেওয়া যেত ২ কুসুমপুরে এখন দূরপাল্লার ট্রেন থামে। ভোরের আগেই শহরে পৌঁছে যায় ঝুড়ি ঝুড়ি পদ্ম,শালুক। তারা ভাঙা পাঁচিলের গায়ে জোড় গাছটির কথা বলে না তোমাকে? বলে না ঢালাই পথ, নতুন মাচানটির কথা? অথচ তোমার কথা আমায় প্রতিটি ট্রেন বলে প্রবল বৃষ্টি ভিজে মালগাড়ি যখন দাঁড়ায় কোথাও নীল ত্রিপল উড়ে গ্যাছে ঝড়ে। গরম চাকার শ্বাস বহুদূর থেকে একা একা চলে আসা গার্ডটির চোখ এসব পড়তে বসে তোমার চিঠিটি আর পড়া-ই হয়নি- ভেবে নিই তুমি-ও লিখতে বসে কী এমন ভাবো, একটি মাত্র চিঠি এত বছরে-ও শেষ করলে না ----------- (প...

ভ্রমণ ৫

অপেক্ষার মতো অবাধ্যতা আর কিছুতে নেই। বড় বেশি একরোখা, যাদের প্রেম ছেড়ে যায়। শীত,বরফ,কুয়াশা-এসব শব্দ নিয়ে আমি আর লিখবো না,ভাবি। লিখি খাদ, লিখি গড়াতে গড়াতে ছোট হয়ে আসা প্রিয় প্রিয় ভ্রমণ, তোমায় বসিয়ে রেখে পাইনের বনে,জেনো এবছরও শহরমুখী হবো।  খোঁজ নিও। গাছেরা তো জানতে দেবে না আমাকে কি কিনে নেওয়া সহজ ভীষণ, জাদুমণি ? ----- ৩ নভেম্বর' ২০১৮

ভ্রমণ ৪

যে মেঘ দুপুর শেষে ভিনদেশি ফেরিওলা ,তার ভ্রমণকাহিনী থেকে পলাতক নীলরঙ , ঘুড়ি       বিগতবিকেল                           এককোণে লাটাই শোয়ানো পোড়াকাঠ , ওবাড়ির ছাদে ডাঁইকরা। আঁচলের নামে চিঠি আসতে দেখিনি তারপর লোডশেডিং শেষবার রূপকথা পড়ালো যেদিন    রেলিঙের ভগ্নাংশে জংদাগ বাড়ছে নিয়ত কোঠা থেকে ঝুলে থাকে নিরুপায় শাওন মাহিনা ------- ১৭ জুলাই' ২০১৮

ভ্রমণ ৩

প্রতিবারই ঝুঁকে পড়ো। বেসামাল রেলিং সাহসী  নিশানা অব্যর্থ,  অপরের সাক্ষী নেই পাইনশরীরে, কাঁটা ছাড়া হাটখোলা। ভোর। এই কুয়াশায় লুকোনো যে খাদ খবর হয়না তার দুয়েকটা পথ মনে হলে গরম চায়ের কেচ্ছা, মনযোগে পড়ছি  তোমাকে লাগেজ, স্লীপিংপিল নিরাপদ দূরত্বে শোয়ানো -------

ভ্রমণ ২

এহাতে বিয়োগরেখা  পূর্বাভাস, মুঠোর আড়ালে থেকে আবহাওয়া শোনায়  গতিহীন; এ গন্তব্য ইশারাবাগীশ। ঝাঁপডানা কতকাল রেলিঙে শোয়ানো। নির্ঘুম পালকও তার পাঁজিদেখা ভোরের লাটাই                 অনামিকা আলগা কেটেছে সেই গিঁটে পশ্চিমে মেঘের গড়ন ছন্দবদ্ধ, তবু মন্ত্রপুত সুতোঘুড়ি কব্জিতে বাঁধবার আগে তুমুল ঝড়ের পেটে দুর্ভাগ্য ফুলে ফেঁপে ওঠে ------                         

ভ্রমণ ১

এসব চরাই, মাঝে যতিচিহ্ন নেই আন্দাজে বাঁক লিখি। আড় ভাঙে কুয়াশায় মুছে যায় বিরামগ্রস্ত চাকাদাগ ভ্রমণ গড়িয়ে নামে সারিগান জানা কোন                           পার্বত্য প্রেমিকার চোখে টুকরো কাঠের সাথে আবদার ছুঁড়ে দেয় সেও বলিরেখা      উনুনে গুছিয়ে রাখে প্রতিশ্রুত শীতের বাগিচা পর্যটক ফেরে। অনুযোগে পোড়ায় শহর  মরশুমও জানায়নি তাকে                আমি তার এলাচ পাতার ভাগিদার ------- ১৭ এপ্রিল, ২০১৮

ঝুলন্ত কবিতা

দুপুরে অসাবধানে ঘুমিয়ে পড়েছিলে । ঘুম ভাঙলো যখন, খুচরো পয়সার মত বিকেল ছড়িয়ে রয়েছে বিছানায় । তার কয়েকটি আবার অচল'ও ...কুড়িয়ে রাখছ পরম যত্নে । এরইমধ্যে বৃষ্টি ডেকে গ্যাছে বেশ কয়েকবার । তোমার শোনা হয়'নি । তোমার দেখা হয়'নি মেঘের আলোয়ান গায়ে ঘরফেরতা শহরতলির মুখ । প্রায়ই এমন হতে হতে চারপাশটা অচেনা হয়ে উঠছে ক্রমে । কলিং বেল ,এঁটো বাসন, আবাসনের খুঁটিনাটি ...এসব উটকো অতিথিদের বিদায় জানিয়ে হাঁপ ছাড়লে অবশেষে ।  চায়ের কাপে সুগার-ফ্রী গুলতে গুলতে জানলার কাচে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে চাইলে তুমি...ঠোঁটের বাঁ পাশের ফোসকা ছুঁয়ে আকাশের জ্বর মেপে নিলে অভ্যেসমত । সময় তবুও তোমার সাথে কথা বলছে না l কয়েক পা এগিয়ে যাওয়ার গর্বে পেছন ফিরে দেখছে তোমায় ...কথা বলছে না । তোমার দৃষ্টি স্থির তবু তারই দিকে । তোমার দৃষ্টি শূন্য...তোমার সময় রোজ শূন্য থেকে শুরু হয়... দিগন্তের পায়ে আলতা বুলিয়ে গ্যাছে গোধূলি রঙের মেয়েটি । তোমারও হাতের কাজ হালকা হয়ে এসেছে এতক্ষণে । পাশাপাশি বাড়ির পর্দা সরিয়ে গল্প বলতে বসেছে প্রাইমটাইম সিরিয়ালগুলি । এদিকে তোমার টিভি রিমোট আলগোছে পড়ে থাকে চশমার পাশে চিরাচরিত...

বিশ্বাস

নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে, টুকরো টুকরো হয়ে যখন তোমার কাছে পৌঁছলাম তোমার হাতে তখন চিত্তশুদ্ধির প্রসাদ তখনও আমার পেছনে ধাওয়া করছে একটা ট্রাফিক সিগন্যাল, ঘিঞ্জি গলি, টিনের চালা ছেড়া পর্দার পেছনে চকচকে কিছু সস্তার শাড়ি আর পাঁচ পয়সার নাকছবি কাচের চুড়িগুলো মুখর শাপ-শাপান্তে ঢিল ছুঁড়ছে কিছু নেশাতুর লিঙ্গ আমার ঠোঁট ফোলানো অভিমানেরা তোমার চিবুক ছোঁয়নি তখনও শুধু বিস্ময়ে দেখেছে তোমার কপালোর স্বস্তিক রক্তক্ষয়ী অলিন্দে যাপন করেছে তোমার নির্লিপ্ততা তোমার গেরুয়া অহং বারবার ছুঁয়ে গেছে নীল ক্ষতদের অথচ শুশ্রূষা চেয়েছিল তারা সতীত্ব তো কবেই দেখেছ নিলাম হতে তুমি সেদিন মাছের বাজারে বেড়াতে আসা একমাত্র নিরামিষাশী সাবধানে ডিঙিয়ে গেলে পচা মাছের রক্ত ধোওয়া জল আজ নারীত্বকে আছড়ে মেরেছি তোমার চরণপদ্মে খাবি খাচ্ছে সে-ও তোমার মন্দিরের সামনেই দুটো রাস্তা বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মিশে গেছে ইলেকট্রিক চুল্লির মুখে এসে তবু বিশ্বাসটুকু নিয়েই ফিরতে চাই অবিশ্বাসে তোমার সাথে পাশের পাড়ার মন্টুর কোনও পার্থক্য দেখিনি আজ

সহজপাঠের দেশে - পর্ব ১

প্রথম পর্ব - পুনর্জন্ম জৈষ্ঠ্য মাসের এক অতিসাধারণ সংক্রান্তির কথা। সে বছর মাঝারিরকমের বর্ষায় ঝিঝিঁ-ডাকা সকালটুকু বেশ মনে পড়ে। আবছা, অন্ধকার। তার ফ্যাকাসে ত্বকে প্রাথমিক ভাবে কেবল হালকা জলের পোচ মেরেছেন যেন কোনও বিষণ্ন চিত্রকর। তারপর ক্যানভাস ফেলে ফিরে গেছেন জানালার পাশে। ধরা যাক সেই জানালাতেই আরও একটি আধ-খাপচা ক্যানভাস পড়ে আছে। বহু আগে তাতে রঙ পড়েছিল। চিত্র অসমাপ্ত তবু শিল্পীর আর আঁকবার সাধ হয়নি এতদিন। হঠাৎ কীসের খেয়ালে তাঁর চোখ পড়ল শুকিয়ে ওঠা ক্যানভাসটির দিকে। স্থানে স্থানে ধুলোর পরত। দয়া হল কি তাঁর? তিনি ধুলো ঝেড়ে প্যালেট হাতে মুখোমুখি বসলেন। আলগোছে তুলে নিলেন '391 sap green'... এই সামান্য ঘটনাকে যদি পুনর্জন্ম বলা যায়, সেদিন ৩১ শে জ্যৈষ্ঠ' ১৪১৭ ( ইং ১৪ই জুন'২০১০, সোমবার) - ক্যানভাসটির অর্থাৎ কি না আমার পুনর্জন্ম। এবার চিত্র, সে তো নিজে জানে না কালে কালে তার গতিবিধি কীভাবে পাল্টাবে। যদ্দুর মনে হয়, চিত্রকর-ও খুব সীমিতই জানেন। আজ ঠিক দশ বছর পরে যখন সেই পরিবর্তনের কথা লিখতে বসেছি, খানিক রোমাঞ্চিত হতে হচ্ছে। জ্ঞানাবধি যা ছিলাম-  অনেকখানি লাল, দু-তিন...

সহজপাঠের দেশে - ভূমিকা

আদ্যোপান্ত একটি কর্পোরেট জীবন চেয়েছিলাম একসময়। তারপর ভাগ্যচক্রে তা আর হয়ে ওঠেনি। এ নিয়ে নিজেকে দোষারোপও কম করিনি। এখন ভাবি অভিশপ্ত পলাশজন্মের মতো আমারও এই দ্বিতীয় জন্ম একদিকে যেমন অনেকটাই কেড়ে নিয়েছে আমার থেকে,উল্টো পিঠে কত কিছুই না দেখার সুযোগ করে দিল। এই যে রোজ ইস্কুলে যাই, বাচ্চাগুলির ফুলের মতো মুখগুলি দেখি। এত সারল্য, এত আন্তরিকতা আর কোথায়ই বা পেতাম! এই বাঁকুড়ার লালমাটি, বৃষ্টি ভেজা শাল,সেগুনের বন, বাঁকুড়া-ছাতনা জাতীয় সড়কের (NH314 সম্ভবত) দুপাশে রাধাচূড়া,কৃষ্ণচূড়ার বস্তি, বনদপ্তরের জঙ্গলে কাজুবাদামের মেলা,আর মাতাল করা মহুয়ার ঘ্রাণ- এসব না ছুঁতে পারলে বুঝি আমার কিছুই লেখা হত না। চন্ডীদাসের ভিটে দেখা হত না,দেখা হত না যুবরাজের হতশ্রী প্রাসাদের পাশে শাপলা ভরা দীঘিটিকেও। শুশুনিয়াকে ডানদিকে রেখে যে রাস্তা ঢুকে গেছে আমার রোজনামচায়,সেই ছাতনা-কেঞ্জাকুড়া রোডের পলাশবন আমার বসন্তদিনের সফরসঙ্গী না হলে সারাটা বছর কার পথ চেয়ে থাকতাম জানি না। যেমন এখানে আসার আগে পর্যন্তও জানতাম না পলাশ দেখলে আমার কান্না কেন পায়। এবছর দেরি করে এসেছে সে। গাছ ভর্তি পলাশ দেখা হয়নি আর। তার আগেই ...

বৃষ্টিফোঁটা ৭

দিগন্তে রঙ নিম্নচাপের, আকাশ ধোওয়া জলে আষাঢ়-ও আজ স্মৃতিপ্রবণ ।  আবছা মফস্বলের বর্ষা তবে একলাটি যায়, একলাটি ফের আসে মাঠে, কাদায়, গলির মোড়ে, লোকাল বাসে বাসে আমার-ও আজ ব্যস্ত সময় । শহর বদলেছে ফেরা তো আর হয় না তেমন মফস্বলের কাছে উইন্ডো সিট একই আছে, এখন অন্যকারও ভাঙা কাচের গল্প সাজায়, বৃষ্টিফোঁটার-ও দিনের পরে দিন গিয়েছে সহজে, অভ্যেসে সে রূপকথা ফুরোয়নি আর হৃদয়পুরে এসে . . . ফুরোয়নি না? বোধয় কিছু রয়েই গ্যাছে তবে বৃষ্টিফোঁটা, তোমায় আমায় আবার দ্যাখা হবে ? হয়ত কোনও লোকাল বাসেই আপাদমস্তক বৃষ্টিভিজে উঠলে এসে । আমার গ্রীষ্মপোড়া চোখ তখনও ঠিক 'দোজখনামা'য় । কিছুই দেখিনি তো! পাতার ভাঁজে শ্বাস জমিয়ে রাখছি অবিরত ঠিক যেরকম তোমার আমার প্রথম সাক্ষাতে থমকে ছিল জলের ট্রাফিক রাস্তাতে রাস্তাতে সে মোড় থেকেই মেঘের মিছিল, বিদ্রোহদের নাম খুঁজতে খুঁজতে বৃষ্টিফোঁটা, তোমায় হারালাম আর কি পাবো ! আর কি কোথাও অসম্ভবের মাঝে পড়ব তোমায়, চিনবো আবার আন্দাজে আন্দাজে ভাবছি এসব । এই শহরে অন্য রঙের জল অন্য আলো, গল্পগুলো-ও অশান্ত, চঞ্চল বদলেছে কাচ স্বপ্ন দেখার, জানলা এবং পথ-ও তবুও এই আষাঢ়-বিকেল ঠিক সে...

বৃষ্টিফোঁটা ৬

পলাশ ধোওয়া বৃষ্টি যখন ছিলই পূর্বাভাস দাবি মতন উইন্ডো সিট আর বিকেল ফেরত বাস এবারও কাচ হয়নি টানা । বার্তা এল জলের বসন্ত-রঙ মেঘবালকের ঝাপসা মফঃস্বলে সেই সে কবে, শ্রাবণ বোধ'য় । লেখার কথা ছিল হাওয়ার চিঠি, জলের পদ্য । আলোর অন্ত্যমিল-ও লিখব ভেবেও হয়নি লেখা । এমনই অভ্যেস তোমায় আবার পড়তে আসা, ফ্রেব্রুয়ারীর শেষ পাতলা চাদর । বিষ্ণুপুরী? মানিয়েছে একঘর সঙ্গে কে ও, শান্ত যুবক । ওই কি তোমার বর আমিও যেমন, খোঁজ রাখিনি । লগ্ন গেল কত স্বভাবতই বদলেছে ঘর । সত্যিই বিবাহিত? প্রবোধ জোগাই বন্ধু সে জন । কিংবা প্রেমিক। ভালো বৃষ্টি আসার আগের মতোই বিদ্যুৎ চমকালো আলোর রেখায় পড়তে পাওয়া স্পষ্ট ও ঠোঁট, চোখ এর বেশি কী চাইবে বলো ব্যর্থ মেঘবালক এবং শুধু বলতে চাওয়া ," জানতে পেরেছিলে- বৃষ্টিফোঁটা, ঠায় দাঁড়িয়ে বিরানা ম্যাহফিলে যে ছেলেটি তোমার নামের স্বপ্ন কুড়োয়, আঁকে একটি দিনের জন্য হলেও বন্ধু কোরো তাকে" কখন কীসব নাম রেখেছি, বলব ভাবি যেই বাস থেমেছে বাঁক পেরিয়ে তোমার পাড়াতেই  ঠিক তখনই ঝমঝমিয়ে, এমনি বেয়াদব ছাতা-ও তো আর নাওনি সাথে । ভিজিয়ে দিল সব আবছা ভীষণ আমার কাচ-ও । রাস্তা পেরোয় জল ফিরত...

বৃষ্টিফোঁটা ৫

ঘুরলে বছর অনেকটা মেঘ, এমনি হারায় মায়ের মতো বাদবাকি যা রাখতে চেয়েও হয়নি রাখা কার্যত সেসব দেনা গুছিয়ে নিয়ে শহর ফেরে । লোকাল বাস ভাবনা পোষা সিটের পাশে জানলা বসায় ইচ্ছেক্লাস আমিই প্রথম । বাধ্য বড়ই । রাস্তা শেখায় অন্ত‍্য‍মিল হাতের মুঠোয় কাচপোকা আর কাচের গায়ে মেঘমিছিল দৃষ্টি এড়াই, সহজ ভাবি । কিন্তু বলা বেশ কঠিন 'আজও যে তার ছুটির দেরি । বৃষ্টি এসো অন্যদিন' বৃষ্টি থামার ঢের অজুহাত । বরং তোমার আসার দায় মেঘের থেকে ধূসর খানিক, আলোর পাশে হালকা প্রায় মন তবুও সুর পেতে দেয় । বেসুর বাজে ছন্দ তার বিদ্রুপে ফের আঙুল থামায়, পথের গতি নির্বিকার ও নাম তোমার পছন্দ নয়, আকাশ এসে বললো যেই আমার মুঠোয় গলছে সময়, তোমায় জানাই সাধ্যি নেই বেবাক তখন পদ্যবিকেল, মিথ্যে বড়াই, মিথ্যে খোঁজ অধরা সেই প্রেম ভাঙিয়ে আঁকছি আলো, মুছছি রোজ দিনের পাশে দিন বসিয়ে নামতা পড়াই দুঃখকে খুঁজছি তোমায়, চাইছি ভীষণ । বলতে মানা বুক ঠুকে বলতে মানা আর কত কী, মুখ ফিরিয়ে আলোর বাঁক বর্ষা যখন খোদ প্রেমিকা, মনখারাপের গল্প থাক চশমা, রুমাল, খুচরো, বিকেল নাহয় যেমন গুছিয়ে নিই তোমায় গোছাই চোখের পাতায় । আপত্তি নেই তাও জানি অপেক...

বৃষ্টিফোঁটা ৩

মেঘের পাড়ায় জানলা খোলা, রোদ'ও তেমন পর্দানশিন ব্যাকফুটে শীত । অসময়ে জলের ছোঁয়াচ সামলে বসি তবুও কি যায় বাঁচানো? বাঁ দিক ঘেঁষে অনর্গল  মনকেমনের গল্প শোনায় ধূসররঙা মফঃস্বল এসব কথা বলতে মানা, ভাবতে গিয়েও হোঁচট খাই চোখ তো তেমন পথ চেনেনা, ভরসা জোগায় আকাশটা-ই গানের সুতোয় রাস্তা মাপি, হাওয়ার সুরেও দীর্ঘশ্বাস ফিরতি সময় । ঝিমোয় দুপুর । তোমার বুঝি অন্য বাস তোমার বুঝি বাড়তি বিকেল, সঙ্গী এবং কফি'র মাগ আমার কাচে ঝাপসা আলোয় বাড়তে থাকে সন্ধেদাগ বাড়তে থাকে বৃষ্টি নামের উটকো কিছু পাগলামো মেঘের পসার । মন্দা বাজার । থমকে শীতের দরদাম'ও  মুখ ফেরালাম জানলা থেকে । মন ফেরেনি, ফিরছে খোঁজ বৃষ্টিফোঁটা' নামের সাথেই অপেক্ষারাও ফিরছে রোজ  তেঁতো শোনায় আলোর পদ্য । বছরশেষে জ্বরের ঘোরে একটা দুটো বাঁক ভেঙে যায়, ঢেউ'র মতই শব্দ ক'রে বেবাক শুধুই আমার কথা । শব্দ গোপন ঠোঁটের ফাটায় চিঠির নামে ভুল ঠিকানায় সস্তা প্রেমের গল্প পাঠায় সস্তা প্রেমের মত'ই তো সৎ, কয়েকটা বাঁক বাড়ির কাছের  জানিয়ে দেয় নামতে হবে । অনেকটা পথ পেরিয়ে গেছে . . এমনসময় সিগন্যালে বাস । ভীড়ের শেষে দাঁড়িয়ে আছে নদী ...

প্রিয় উপশম

প্রিয় উপশম, কালভার্ট পেরোলো বাস। ভাঙাচোরা রেলিঙ পাশ কাটিয়ে। ওই বড় পাথরের আড়াল থেকে ধোঁয়ার ক্লান্ত কুন্ডলী ভেসে আসছে। ভাঙা হাঁড়ি, পোড়া কাঠ ...আজ কার শেষযাত্রার সাথে আমার দীর্ঘশ্বাস মিশে গেল জানা হলো না। বাস এতক্ষণে সেগুনের বনে। সারি সারি বাধ্য, বধ্য গাছ ছায়া মেখে দাঁড়িয়ে আছে। জানো, এই দুমাসে কতবার ভেবেছি তোমায় ডেকে এনে এ ছায়াবাজি দেখাই। তখন এখানে পলাশ ফুটছে। আলোরঙ পলাশ ! ছবি তুলে তোমায় পাঠানো যেত...করিনি তা। আলোকে কি বেঁধে রাখা যায় ! নাকি বাঁধা উচিত, বলো? গ্রামের ভেতর দিয়ে ফিরি রোজ। বর্ধিষ্ণু পাড়া। নিকোনো উঠোন, বাঁধানো পুকুর ঘাট, আটচালা ...এসব স্বপ্ন সেজে চোখে লেগে থাকে। রাত্রে ঘুমঘোরে কে যেন তুলসিতলায় প্রদীপ রেখে যায় ...আলতা পায়ের ছাপ। তোমায় স্পষ্ট দেখি উঠোনআলোয়। কাঁপা কাঁপা আগুনের ঠোঁটে আঙুল বোলাও। ভোরের পর তুমি ঘুমিয়ে গেলে আমার অনন্ত অবসর। তোমায় ঘুমোতে দেখা ছাড়া কোন কাজ থাকেনা আর। মেঘের সাথে আরজন্মের হিসেব বুঝতে বুঝতেই বেলা নেমে আসে। আমি তখন একমনে ঘর সংসার সারি, ছেলে পড়াই...হাত পুড়িয়ে উনুন জ্বালাই আর ভাবি, দূরে কোথাও অনেকটা দূর, বরফবাগিচার মাঝে আমা...

বৃষ্টিফোঁটা ৪

ঝড় বোলানো আলতা বিকেল। দিগন্তেরও রংবদল বৃষ্টি পায়ে আকাশ পেরোয় নোনতা আলোর মফঃস্বল ইচ্ছে করেই ছাতার দেমাক, হয়নি রাখা। ভেজার সুখ আগ বাড়িয়ে ফ্ল্যাশব্যাকে যায়, পাশের সিটে ও কার মুখ! বান্ধবী নয়, নাম জানি না। জানলা চেনায় গন্ধ তার চোখের পাশেই চোখ রেখেছি, ভুলেই যদি একটিবার করতে আলাপ এগিয়ে আসে, চুল সরিয়ে ঠোঁটের তিল যত্ন করে সাজিয়ে নেব গল্প শুরুর অন্ত‍্য‍মিল অথচ তার ব্যস্ত আঙুল, হাওয়ার কাছেও খবর এই এমনিতে সে মুখচোরা তায় কানের দুলের সম্মতি নেই কাজেই অকাজ বৃষ্টি দেখা। ভাবছি এমন ঝড়ের পর হঠাৎ আসে একটা দুটো পথ্য বিহীন তুমুল জ্বর সফরকালীন এ জ্বর ভালো, ঘোরের ভেতর সহজ খুব পাল তোলা এক নৌকো নিয়ে মাঝদরিয়ায় ইচ্ছে ডুব অনুযোগের পরেই বুঝি, ও চোখ বোধয় সাঁতার জানে সবটুকু তাই হয়না ডোবা, রাস্তা ফুরোয় জলের টানে ফুরিয়ে আসে মেঘমিছিলও। হয়না জানা কার্যত ও মেয়ে তোমার নাম রেখেছি বৃষ্টিফোঁটা, পছন্দ তো ? -------------- ৭ এপ্রিল'২০১৮

মেয়েবেলারা

আজকাল বিকেলের কাছে গুটিগুটি এসে বসে মেয়েবেলা l দূরে রথের দড়িতে টান পড়লে আকাশের মুখভার হয়ে ওঠে নিমেষেই l নাহ্ ..সময়ের আর মেলায় ফেরা হয়'না l কাদা পায়ে রেখে আসা হয়'না বয়ঃসন্ধির ছাপ l বাদাম ভাজার গন্ধে যাবতীয় চাওয়া পাওয়া খুঁজে নেওয়া আঙ্গুলের ফাঁক দিয়েই এখন  অনায়াসে গলে যায় একেকটি মেঘমাস l নির্লিপ্ততা যাপন করে আষাঢ়ের দিন  l আজীবন নাগরদোলায় অনাশক্ত চোখগুলোকে প্রাণপণে ফিরিয়ে নিই আলোর দিকে ,কোলাহলের দিকে ,মাটির পুতুলের দিকে ..এখনও মনে মনেই l অথচ ছুঁয়ে দেখা হয়'না আর রঙবেরঙের কাগজ ফুল l আলোর পোকারা ভীড় করে থাকে পাঁপড়ি চাটের আশেপাশে আজ'ও ,শুধু আমাকেই বড় অচেনা লাগে তাদের l সঙ্গে আনা লিস্টের সাথে মিলিয়ে মিলিয়ে বই কেনার বিকেলগুলো অযথাই খরচ হয়ে গেছে জেনে ফিরে আসে শব্দের খুচরোরা l আমায় নতুন বইয়ের গন্ধ চেনাতে হঠাৎ বৃষ্টি বোঝাই করে হেঁটে আসে নীল লুঙ্গি ,চওড়া বুকের ফেরিওয়ালা  l উঠোন ভর্তি ছড়িয়ে থাকে মেলায় যাওয়ার বায়নাগুলি ....মেয়েবেলারা পায়ে পায়ে উঠে যায় সিঁড়ি বেয়ে l কার্ণিশের কাছাকাছি এসে আটকে থাকে ছেঁড়া ঘুড়ি l ওর গায়ে লাল পাহাড়ের গল্প লেখা থাকে l শেষ বিকেলের ...

অসুখের নাম মেঘ

১ মেঘমন ছেড়ে আসে নগরবিলাস নির্বাসন যতটুকু লিখে রাখা হাতের মুঠোয় তার চেয়েও বেশি কিছু এ অজ্ঞাতবাস অচেনা গন্ধ বড় এখানের জলের সুতোয় জানলার শিঁক ক'টা পাশে রেখে বাইরে শালিখের আশরীর ভিজে যাওয়া দেখি। বৃষ্টির ছন্দ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখি  প্রাণপণ। অথচ মেঘের গর্জনের মধ্যেও নির্ভুল অন্ত্যমিল খুঁজে ফিরি নিয়ত। হাতঘড়ি'তে কাঁটা'দের নিজস্ব গল্পচরিত থমকাবার নয় ...অথচ আমার ভূমিকাগুলোই বর্ষার জল পেয়ে মিইয়ে ওঠে বড়। লেন্সকার্টের ফ্রেম ফেলে এসেছি শহুরে রেস্তোরাঁয়। জীবনের এ আউলবাউল ফ্রেমেই বাকি আর আর ফেলে আসার গল্প পড়তে হয় কার্যত। ফোর্থ পিরিয়ড চোখ কচলে উঠেই  মিড ডে মিলের পেয়ালা সাজায়। শুক্রবারের খিচুড়ির ভাপে ঝাপসা হয়ে আসা চোখগুলো থেকে রাশি রাশি স্বপ্নকুয়াশা ঝরে পড়ে। আমি কি কেবল বিষাদই লিখতে জানি - নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করি। উত্তরে আপেক্ষিকতাবাদ শোনায় হাঁসের চোখ। দুদিনের একটানা বৃষ্টি প্রসাদে জমির গর্ভমাস ঘোষণা হয়ে যায় আনুষ্ঠানিক ভাবে। এদিকে বাতাসের তুমুল ব্যস্ততার আমি শরিক হতে পারিনি আজও। আমি ধানের হাসি দেখিনি এযাবৎ। মাটির কান্না চোখে পড়েনি কখনও। ''ভালো ...